সংবাদ শিরোনাম
DSE

চীনে ‘ব্যাংক’ থেকে নম্বর ঋণ নিতে পারবে শিক্ষার্থীরা

china

চীনে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার চাপ কমাতে এক অভিনব ব্যাংক খোলার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। চীনের নানজিং প্রদেশের এক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রস্তাবিত ওই ব্যাংকের নাম দেয়া হয়েছে ‘মার্কস ব্যাংক’।

নানজিং প্রদেশের শীর্ষস্থানীয় ওই স্কুল মনে করে, শিক্ষার্থীদের মাথার ওপর থেকে পড়াশোনার অতিরিক্ত চাপ কমাতে সাহায্য করবে ‘মার্কস ব্যাংক’। এখান থেকে শিক্ষার্থী পরীক্ষায় উত্তীর্ন হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় নম্বর ঋণ দেয়া হবে। শিক্ষার্থীদের আচরণের ভিত্তিতে এই ঋণ দেয়া হবে ।

চলতি সপ্তাহে গণমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছরের নভেম্বর মাসে নানজিংয়ের এক স্কুলে চালু হয় এই এলিট প্রকল্প। ৪৯জন শিক্ষার্থীকে যুক্তরাষ্ট্রের এক কলেজে ভর্তি করানোর উদ্দেশে নিয়ে তাদের সেভাবে গড়ে তোলা হয়। ব্যাংক থেকে ভাষাতত্ত্ব, জীববিজ্ঞান, রসায়ন ও ইতিহাসের মতো বিষয়ে শিক্ষার্থীরা নম্বর ঋণ নিতে পারবে। এখন পর্যন্ত ১৩জন শিক্ষার্থী এই প্রকল্পের আওতায় ঋণ নিয়েছে।

শিক্ষার্থীরা নম্বর ঋণ নেবে এবং পরবর্তী পরীক্ষার মাধ্যমে সেই নম্বর ব্যাংকে পরিশোধ করবেন। শিক্ষার্থীদের যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নম্বর ঋণ পরিশোধ না করে সেক্ষেত্রে সুদ ধার্য হবে। এভাবে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আগ্রহ বাড়বে বলে মনে করেন মার্কস ব্যাংকের উদ্যোক্তরা। অন্যান্য ব্যাংকে ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে যেমন গ্রাহকের আচরণ খতিয়ে দেখা হয় এখানেও এর ব্যতিক্রম হবে না। শিক্ষার্থীদের ক্লাসে উপস্থিতি, আচরণ ও শ্রেণীকক্ষ পরিষ্কারে তাদের অংশগ্রহণ বিবেচনায় নিয়ে ঋণ দেয়া হবে। যদি শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট সময়ে নম্বর ব্যাংকে পরিশোধ না করে, তাহলে তাদের ‘ঋণ খেলাপি’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হবে।

মাকর্স ব্যাংকের সুবিধা নেয়া এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমি অসুস্থ ছিলাম, সেজন্য বেশ কিছু ক্লাসে উপস্থিত থাকতে পারিনি। ভূগোল পরীক্ষায় ভালো হয়নি। তবে মার্কস ব্যাংক আমাকে খারাপ পরিস্থিতি থেকে রক্ষা করেছে।’

বিবিসি-র প্রতিবেদনে বলা হয়, স্কুল কর্তৃপক্ষ এই মুহূর্তে মার্কস ব্যাংক সম্পর্কে কোন মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

মার্কস ব্যাংকের পরিচালক হুয়াং ক্যান বলেন, ‘চীনের শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রথাগত পরীক্ষার সংস্কৃতি পরিবর্তন করে নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতি চালুই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশে।’ তিনি মনে করেন, পূর্ববর্তী পরীক্ষার নম্বরই শিক্ষার্থীদের যাচাইয়ের জন্য একমাত্র মানদণ্ড হতে পারে না। এই ব্যবস্থার ফলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আগ্রহ বাড়বে এবং তাদের মতো দায়বদ্ধতা সৃষ্টি হবে।

চীনে অতিরিক্ত কঠোর শিক্ষা ব্যবস্থা প্রায়ই সমালোচনার মুখে পড়ে। ২০১৪ সালে বেইজিংয়ের এক এনজিও-র জরিপে দেখা যায়, বেশিরভাগ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার মূল কারণ স্কুলে পরীক্ষার চাপ সামলাতে না পারা। চীনের গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এরইমধ্যে আলোড়ন তুলেছে চীনের মার্কস ব্যাংক। অনেকে এই ব্যাংকের সমালোচনাও করেছেন। হুয়াং তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘এটি কোন দাতব্য সংস্থা নয়। তুলনামূলক দুর্বল শিক্ষার্থীরা ব্যাংক থেকে ঋণ নেবে। তবে এটি তাদের পরিশোধ করতে হবে, এই তাগিদ তাদের পড়াশোনায় আরও মনোযোগী করবে।’