সংবাদ শিরোনাম
DSE

ব্যবসা হারাচ্ছে চট্টগ্রামের জুতার ক্ষুদ্র কারখানাগুলো

chamra

চাহিদা কমে যাওয়া ও বিদেশি জুতার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে ধীরে ধীরে গুটিয়ে যাচ্ছে চট্টগ্রামের জুতা তৈরির ছোট কারখানাগুলো।
কারখানার মালিক-শ্রমিকরা বলছেন, আগে বিভিন্ন মার্কেটে সরবরাহের পাশাপাশি খুচরা ক্রেতাদের জন্য জুতা তৈরি করা হলেও এখন তা অনেকটা ঝিমিয়ে গেছে। ঈদ কাছে আসলেও তেমন ব্যস্ততা চোখে পড়ছে না জুতা তৈরির এসব কারখানায়।

চট্টগ্রামের জুতা তৈরির ক্ষুদ্র ও মাঝারি কারখানাগুলোর বেশিরভাগই নগরীর মাদারবাড়ি এলাকার মহবত গলি ও মালুম মসজিদ লেইনে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখানে বকে সময় পাঁচ শতাধিক ছোট ছোট কারখানা থাকলেও কমতে কমতে এখন শতাধিকে এসে দাঁড়িয়েছে। এসব কারখানায় কাজ করতেন কয়েক হাজারের শ্রমিক। তবে কাজের অভাবে এখন তাদের অনেকেই পেশা বদলেছেন।
‘এমএক্স সুজে’র মালিক মো. শাহীন বলেন, “আগে চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে জুতা সরবরাহ করা হতো মাদারবাড়ি এলাকা থেকে। এখন বিদেশি জুতায় বাজার ভরে গেছে। এ কারণে আমাদের জুতার চাহিদা কমে গেছে।

“যেখানে ঈদ ঘিরেই ব্যস্ততা সবচেয়ে বেশি থাকত, এসময়ও পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে।”
তিনি জানান, আগে তার কারখানায় ২৫ জন কাজ করলেও এবার ঈদে কাজ করছেন ১৫ জন শ্রমিক। বাজারে তাদের তৈরি জুতার চাহিদা কমে যাওয়ায় অনেকে পেশা পাল্টে চলে যাচ্ছেন অন্য পেশায়।

শাহীন জানান, আগে যে পাইকারিতে যে দামে তারা জুতা বিক্রি করতেন এখন সে দাম পাওয়া যায় না। তবে কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেক সময় তাদের ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।

একই সুর পাওয়া গেছে ‘উর্মি সুজে’র মালিক মো. মনিরের কথায়ও।

“প্রতিবছর এ ব্যবসা খারাপের দিকে যাচ্ছে। আগে মাদারবাড়ি এলাকায় পাঁচ শতাধিকের বেশি জুতা তৈরির ক্ষুদ্র কারখানা থাকলেও এখন তা শতাধিকে নেমে এসেছে।”
দিনে দিনে এ সংখ্যা আরও কমছে বলে মনে করেন মনির।

“এসব কারখানায় স্থায়ী শ্রমিক কাজ করলেও এখন অনেকে ‘মৌসুমী’ শ্রমিক হয়ে গেছেন।”

কয়েক দশকেরও বেশি সময় ধরে জুতা শ্রমিক হিসেবে কাজ করা মো. শফি বলেন, দিনে দিনে কারখানায় কাজ কমে যাচ্ছে।

“আগে কাজের একটা চাপ থাকলেও এখন সে চাপ কমতে শুরু করেছে। আগে লোকজন এখানে নিজেদের ব্যবহারের জুতা তৈরি করতে দিলেও এখন কেউ তা দেন না।”

আগে অনেকে এ কাজের প্রতি আগ্রহী হয়ে কাজ শিখতে আসলেও এখন আসেন না বলেও জানান শফি।
ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও সঠিক তদরাকির দাবি জানিয়েছেন মালিকরা।

চট্টগ্রাম ক্ষুদ্র পাদুকা মালিক সমিতির সভাপতি এরশাদ উল্লাহ বলেন, “আগে মাদরবাড়ি এলাকায় ছোট ছোট অনেক কারখানা থাকলেও এখন আর্থিক ক্ষতির কারণে সেগুলো গুটিয়ে ফেলছেন মালিকরা।”

এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সহজ ঋণ দেওয়াসহ সরকারি সুবিধা বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।