সংবাদ শিরোনাম
DSE

পণ্য প্রদর্শনীর তীর্থস্থান বাণিজ্য মেলা

pran

ব্যাপক আয়োজনের মধ্য দিয়ে বছরের শুরুর দিন থেকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের পশ্চিম পাশের উন্মুক্ত স্থানে শুরু হয়েছে মাসব্যাপী ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা-২০১৮ (ডিআইটিএফ)।

বাণিজ্য মেলায় দেশি-বিদেশি প্রচুর মানুষের সমাগম হয়। বিভিন্ন পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, বিশেষত দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর পণ্য প্রদর্শনীর অনন্য সুযোগ এ বাণিজ্য মেলা। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে শুরু করে সাধারণ দর্শক-ক্রেতারা বছরের শুরুতেই এ মেলার জন্য অপেক্ষায় থাকেন।
এবারও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) যৌথভাবে এ মেলার আয়োজন করে।

মেলা ও পণ্য প্রদর্শনীর বিষয়ে ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান বিজয় ভট্টাচার্য বলেন, মেলার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে দেশি-বিদেশি ভোক্তাদের বিভিন্ন পণ্য ও সেবার সঙ্গে পরিচিত করা। সুস্থ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে উৎপাদনকারীদের নিত্যনতুন ও অধিকতর মানসম্পন্ন পণ্য নিয়ে ভোক্তার মুখোমুখি হওয়ার এবং একই সঙ্গে ক্রেতা-বিক্রেতা ও উৎপাদনকারীদের প্রত্যক্ষ সংযোগ সৃষ্টি করে এ মেলা।

তিনি বলেন, এ মেলার উদ্দেশ্য উৎপাদনকারীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করে পণ্যের মান বৃদ্ধি, পণ্যে বৈচিত্র্য আনা, মূল্যের ভারসাম্য রক্ষা এবং উৎপাদনকারীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করা। বাংলাদেশের তুলনামূলক সুবিধা সম্পর্কে বিদেশি অংশগ্রহণকারী ও পরিদর্শনকারীদের অবহিত করা।

সেসঙ্গে উৎপাদনকারীদের নতুন নতুন শিল্প স্থাপনে উৎসাহিত করার মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাও মেলার লক্ষ্য বলে তিনি জানান।
মেলা কর্তৃপক্ষ বলছে, দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বাণিজ্য মেলা অনন্য ভূমিকা পালন করে। দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো মেলায় অংশ নিয়ে অভ্যন্তরীণ বাজার সুসংহতসহ নতুন নতুন পণ্য ও সেবার পরিচিতির মাধ্যমে ব্যবসার সম্প্রসারণ করে। এছাড়া মেলার মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠান নিজস্ব পণ্য রপ্তানির সুযোগ পায়।

এসব কারণে এ মেলা আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সরকারের সময়োপযোগী পদক্ষেপ এবং সরকারি-বেসরকারি সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত প্রচেষ্টায় ঢাকায় আয়োজিত এ বাণিজ্য মেলা ইতিবাচক রপ্তানি প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। এর বাইরে মেলা আয়োজনের জন্য অবকাঠামো নির্মাণ ও প্যাভিলিয়ন নির্মাণ, সজ্জিতকরণ, মালামাল বহন, ক্রয়-বিক্রয়সহ নানা কাজে প্রচুর জনবলের প্রয়োজন হয়। মেলার মাধ্যমে দক্ষ-অদক্ষ ও অর্ধ-দক্ষ জনবলের মৌসুমি কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়।

বাণিজ্য মেলার মাধ্যমে ইন্টেরিয়র ডিজাইনিং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ইনোভেটিভ দক্ষতা ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম হয়। খুব সহজেই দেশের ইন্টেরিয়র ডিজাইনিং খাতের সুনাম আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ছড়িয়ে দিতে এ মেলা ভূমিকা রাখে।

সর্বোপরি এ মেলা দেশের সার্ভিস খাতের উন্নয়নের মাধ্যমে সামষ্টিক অর্থনীতির গতি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।