সংবাদ শিরোনাম
DSE

চিকিৎসাসেবা বন্ধ : অবর্ণনীয় ভোগান্তিতে রোগী ও স্বজনরা

medical

চট্টগ্রামে বেসরকারি হাসপাতালে র‌্যাবের অভিযানের প্রতিবাদে হাসপাতালগুলো চিকিৎসাসেবা বন্ধ করে দেয়ায় অবর্ণনীয় ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। অভিযোগ পাওয়া গেছে, হাসপাতাল থেকে বিনা নোটিশেই বের করে দেয়া হচ্ছে মুমূর্ষু রোগীদেরও। এদিকে রোগীদের জিম্মি করে এভাবে চিকিৎসাসেবা বন্ধ করায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন চট্টগ্রামের সর্বস্থরের জনগণ।

রোববার (৮ জুলাই) সকালে ভুল চিকিৎসা ও চিকিৎসকের অবহেলায় শিশু মৃত্যুসহ নানা অভিযোগে চট্টগ্রাম নগরীর ম্যাক্স, সিএসসিআর ও মেট্রোপলিটন হাসপাতালে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম।

অভিযানের প্রতিবাদে দুপুর থেকে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বেসরকারি হাসপাতালে অনির্দিষ্টকালের জন্য চিকিৎসা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান সমিতি। তাদের এই ঘোষণায় সংহতি প্রকাশ করেছে সরকার সমর্থিত বিএমএ চট্টগ্রাম শাখা।

রোববার বিকেলে নগরের বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, ঘোষণার পরপরই চট্টগ্রামের সব বেসরকারি হাসপাতাল ও ল্যাব বন্ধ করে দেয়া হয়। হাসপাতাল-ল্যাবের মুখে টাঙিয়ে দেয়া হয়েছে ধর্মঘটের ব্যানার। হাসপাতাল থেকে বের করে দেয়া হচ্ছে সেবা নিতে আসা রোগীদের। অচল করে দেয়া হয় জরুরি বিভাগ।

প্রতিটি হাসপাতালের সামনে ভর্তি হতে আসা মুমূর্ষু রোগীদের বের করে নিয়ে আসার দৃশ্য ছিল চোখে পড়ার মতো। এতে রোগী ও স্বজনদের পড়তে হয় অবর্ণনীয় ভোগান্তিতে।
রোগীর স্বজনরা বলছেন, অনেক বলার পরও তারা রোগীর চিকিৎসা করবেন না বলে জানিয়েছেন। তারা বলছেন ‘প্রয়োজনে আপনাদের রোগীরা মরে যাক। সে জন্য আপনারা আবারও মামলা করেন। কিন্তু আজ চিকিৎসা হবে না।’ এই হাসাপাতাল থেকে ওই হাসাপাতালে যাচ্ছি, কিন্তু কেউ ভর্তি নিচ্ছে না।

নগরের গোলপাহাড় এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে রিপোর্ট দেখাতে আসা জাফর আহমদ বলেন, ‘গতকাল শনিবার বাবাকে ডাক্তার দেখিয়েছি। আজ রিপোর্ট নিয়ে আসছি। রিপোর্ট দেখেই চিকিৎসক ওষুধ দেয়ার কথা। কিন্তু আজ হাসপাতাল বন্ধ। তাই এখন চরম বিপাকে পড়েছি।’
হাসমত আলী নামে একজন বলেন, ‘কর্মজীবন শুরু করার আগে চিকিৎসকদের এই বলে শপথ নিতে হয় যে তারা যেকোনো অবস্থায় রোগীর চিকিৎসা করতে বাধ্য থাকবেন। এমনকি যুদ্ধের ময়দানেও চিকিৎসকরা নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে উদাসীন থাকতে পারেন না এবং জীবনের ঝুঁকি নিয়েও চিকিৎসাসেবা দিয়ে থাকেন। কিন্তু চিকিৎসকরা খোদ রোগীদের জিম্মি করে আন্দোলনে নেমেছেন, যা শুধু পেশার সঙ্গেই অসংগতিপূর্ণ নয়, নৈতিকতার বিচারেও অমার্জনীয়।’

র‌্যাবের অভিযানের প্রতিবাদে বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক এবং চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধের বিষয়ে র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম বলেন, ‘আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। চিকিৎসা পাওয়া মানুষের মৌলিক অধিকার। চিকিৎসকরা এই অধিকারের ওপর হস্তক্ষেপ করতে পারেন না। সরকারের চেয়ে ক্ষমতাশালী কেউ নেই। চিকিৎসকরা আইন মানতে বাধ্য।’
এদিকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে চিকিৎসাসেবা বন্ধের ঘোষণায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সাধারণ রোগীদেরকে জিম্মি করে সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে খেলা বন্ধের দাবি জানিয়েছে ক্যাব।