সংবাদ শিরোনাম
DSE

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র : দ্বিতীয় ইউনিটের মূল কাজের অনুমতি মিলল

bongo

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের মূল নির্মাণ কাজের জন্য বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনকে (বিএইসি) ডিজাইন ও কনস্ট্রাকশন লাইসেন্স দিয়েছে রেগুলেটরি বা নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বিএইআরএ)।

রোববার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে এক অনুষ্ঠানে বিএইসির চেয়ারম্যান মাহবুবুল হকের কাছে এ লাইসেন্স হস্তান্তর করেন বিএইআরএ’র চেয়ারম্যান নঈম চৌধুরী। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এ লাইসেন্সের ফলে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের মূল নির্মাণ কাজ শুরুর অনুমতি মিলল। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) গাইডলাইন অনুযায়ী মূল নির্মাণ কাজ শুরুর আগে এ লাইসেন্স গ্রহণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান বলেন, ‘এ লাইসেন্সের মাধ্যমেই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের মূল কাজ শুরু হবে। এর ফলে বাংলাদেশ পারমাণবিক বিশ্বের কাতারে আরও একধাপ এগিয়ে গেল।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘এ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ হচ্ছে। এটি আমাদের জাতীয় আত্মবিশ্বাসও বৃদ্ধি করবে যে বাঙালিও পারে পরমাণু থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে। আর এটি সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগ্রহ, উদ্যোগ, সাহস ও দূরদর্শী সিদ্ধান্তের কারণে।’

পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ এ অনুমতি দেয়ার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সব সেফটি মানদণ্ড, গাইডলাইন ও বাংলাদেশের বিদ্যমান আইন-বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করেছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, রাশান ফেডারেশন, ভারত, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাসহ আন্তর্জাতিক, স্থানীয় ও নিজস্ব জনবলের মাধ্যমে সব রেগুলেটরি ডকুমেন্টের কারিগরি মূল্যায়ন ও পর্যালোচনা করে বিশেষজ্ঞ মতামত গ্রহণ করা হয়েছে।

গত ২ নভেম্বর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট-১ এর ডিজাইন অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লাইসেন্স প্রদান করার পর ৮ মাস ধরে বিশেষজ্ঞদের প্রাপ্ত মতামত পর্যালোচনা করে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট-২ এর জন্য এই লাইসেন্স দিয়েছে।

২০১৩ সালের অক্টোবরে রূপপুরে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভিত্তি স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত বছরের ৩০ নভেম্বর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের চুল্লির জন্য কংক্রিটের মূল স্থাপনা নির্মাণের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন প্রথম ইউনিট ২০২২ সালে ও একই ক্ষমতার দ্বিতীয় ইউনিট ২০২৩ সালে চালু হবে। সরকার ২০২৩ সালে প্রথম ও ২০২৪ সালে দ্বিতীয় ইউনিট বুঝে নেবে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে ২০১৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর রাশিয়ার প্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয় এক্সপোর্টের সঙ্গে মূল চুক্তি সই করে বাংলাদেশের পরমাণু শক্তি কমিশন। চুক্তি অনুযায়ী, ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন এ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে ব্যয় হবে এক লাখ কোটি টাকার কিছু বেশি (১ হাজার ২৬৫ কোটি মার্কিন ডলার)।

রূপপুরের প্রকল্প এলাকায় এক হাজার ৬২ একর জমির ওপর চলছে বিপুল কর্মযজ্ঞ। প্রথম পর্যায়ের বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে।

জানা গেছে, বাংলাদেশের প্রথম পরমাণু এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মিত হচ্ছে রুশ সহায়তায়। এ প্রকল্পে মোট ব্যয়ের ৯০ শতাংশই ঋণ সহায়তা হিসেবে দেবে রাশিয়া। প্রকল্পে রুশ উদ্ভাবিত সর্বাধুনিক (থ্রি প্লাস জেনারেশন) ‘ভিভিইআর ১২০০’ প্রযুক্তির পারমাণবিক চুল্লি ব্যবহার করা হবে। একেকটি চুল্লি ১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন।

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের মূল অবকাঠামো নির্মাণ কাজ শুরু হচ্ছে আগামী ১৪ জুলাই। ওইদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম কংক্রিট ঢালাইয়ের (ফার্স্ট কংক্রিট পৌরিং ডে-এফসিডি) উদ্বোধন করবেন বলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় জানানো হয়েছে।

রোববার লাইসেন্স প্রদান অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আ ফ ম রুহুল হক, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান এবং মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি বিষয়ক) মো. আবুল কালাম আজাদ। গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন।