সংবাদ শিরোনাম
DSE

কোরবানি কার ওপরে ওয়াজিব

LCVZe2_1534051599

কোরবানি ইসলামি শরিয়তের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। কোরআন ও হাদিসে এর গুরুত্ব অপরিসীম। হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) হিজরতের পর প্রতি বছর কোরবানি করেছেন। তিনি কখনও কোরবানি পরিত্যাগ করেননি; বরং কোরবানি পরিত্যাগকারীদের ওপর অভিসম্পাত করেছেন।

হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি কোরবানি করল না, সে যেন আমার আমার ঈদগাহে না আসে।’

কোরবানির ফজিলতের ব্যাপারে হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে, হজরত যায়েদ ইবনে আকরাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সাহাবায়ে কেরাম নবী করিম (সা.)-এর কাছে জিজ্ঞেস করেন, কোরবানি কী? নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেন, কোরবানি হলো তোমাদের পিতা হজরত ইবরাহিম (আ.) -এর সুন্নত।

এতে আমাদের সওয়াব কী? নবী করিম (সা.) বলেন, ‘কোরবানির পশুর প্রত্যেকটি পশমের বদলায় একটি করে সওয়াব রয়েছে। ভেড়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ভেড়ার প্রত্যেকটি পশমের বদলায়ও একটি করে সওয়াব রয়েছে।’ -মুসনাদে আহমাদ

হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘কোরবানির দিন কোরবানির চেয়ে উত্তম আমল নেই। কিয়ামতের দিন কোরবানির পশুকে শিং, পশম ও খুরসহ পেশ করা হবে এবং কোরবানির জন্তুর রক্ত মাটিতে পড়ার আগেই আল্লাহতায়ালার কাছে তা কবুল হয়ে যায়। তাই তোমরা খুব আনন্দ চিত্তে কোরবানি কর।’

যাদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব:

মাসালাহ : নাবালেগ ও পাগল নেসাবের মালিক হলেও তাদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব নয়। তবে তাদের অভিভাবক নিজ সম্পদ দ্বারা তাদের পক্ষে থেকে কোরবানি করলে তা সহিহ হবে। (বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৬)।

মাসালাহ : মুসাফিরের ওপর কোরবানি ওয়াজিব নয়। মুসাফির দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যে ব্যক্তি কমপক্ষে ৪৮ মাইল সফরের নিয়তে নিজ এলাকা ত্যাগ করেছে। (আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩১৫)।

মাসালাহ : কোরবানি ওয়াজিব হওয়ার জন্য কোরবানির তিন দিনই মুকিম থাকা জরুরি নয়। বরং কেউ যদি এ ৩ দিনের শুরুতে মুসাফির থাকে এবং শেষের দিকে মুকিম হয়ে যায় তবে নেসাবের মালিক হলে তার ওপরে কোরবানি ওয়াজিব হবে। তবে কেউ যদি এই ৩ দিনের শুরুতে মুকিম থাকে এবং শেষের দিকে মুসাফির হয়ে যায় তাহলে তার ওপরে কোরবানি ওয়াজিব হবে না। (বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৫)।

মাসালাহ : কোরবানি শুধু নিজের পক্ষ থেকে ওয়াজিব হয়। মাতাপিতা-সন্তানাদি ও স্ত্রীর পক্ষ থেকে করলে তা নফল হবে। (রদ্দুল মুহতার ৬/৩১৬)।

মাসালাহ : গরিব ব্যক্তির ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব নয়। তবে সে কোরবানির নিয়তে কোনো পশু ক্রয় করলে সেই পশু কোরবানি করা তার ওপর ওয়াজিব হয়ে যায়। (বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯২)।