সংবাদ শিরোনাম
DSE

বাংলাদেশের বাইসাইকেল ‘বিপ্লব’

cycle

বাংলাদেশের রপ্তানির কথা উঠলেই চলে আসে তৈরি পোশাকের কথা। এটিই স্বাভাবিক। তৈরি পোশাক রপ্তানিতে চীনকে হটিয়ে শীর্ষস্থান দখলের অপেক্ষায় বাংলাদেশ। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এটি শুধু সময়ের ব্যাপার। অন্যান্য খাতের সাফল্য তুলনামূলকভাবে কম নয়। অনেকেই হয়তো জানেই না যে, ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) বৃহত্ বাইসাইকেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। ইইউর বাইরের দেশ হিসেবে বাংলাদেশ বাইসাইকেল রপ্তানিতে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। আর সার্বিকভাবে অবস্থান অষ্টমে। প্রকৌশল খাতে রপ্তানির ক্ষেত্রে বাইসাইকেলের অবদানই সবচে’ বেশি, যা ১২ শতাংশ। এ অগ্রগতি এসেছে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে। আশা করা হচ্ছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নে বাইসাইকেল রপ্তানিতে সেরা এশীয় দেশে পরিণত হওয়াও বাংলাদেশের জন্য কঠিন কোনো বিষয় হবে না, যদি উত্পাদনের প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকে। ইউরোপীয় ইউনিয়নে বাইসাইকেল রপ্তানিতে বাংলাদেশ দ্রুত একটা ভাল অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে সত্য, কিন্তু এ সাফল্যের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে চীনের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়নের উচ্চ এন্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপিত থাকায়। এটি উঠে গেলে অবশ্য বাংলাদেশ তার অবস্থান ধরে রাখতে পারেবে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। চীনের জন্য সুসংবাদ আর বাংলাদেশের জন্য দুঃসংবাদ হচ্ছে, অতিরিক্ত আমদানিতে নিজেদের অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে এমন গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলোর ওপর এন্টি-ডাম্পিং শুল্ক নির্ধারণের ব্যাপারে সম্মত হয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। তবে ২০১৮ সাল শেষ হওয়ার আগে চীনা বাইসাইকেলের ওপর ৪৮.৫% এন্টি-ডাম্পিং শুল্কের ইতি ঘটছে না। চীন ইইউ’র এই ডাম্পিং নীতিমালার বিরুদ্ধে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় অভিযোগ তরে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। তারা একপ্রকার নিশ্চিতই ছিল যে, চলতি বছরেই তাদের বিরুদ্ধে আরোপিত এন্টি-ডাম্পিং শুল্ক নাটকীয়ভাবে কমিয়ে আনা হবে।

 

ধারনা করা হচ্ছে, ২০২২ সালে বৈশ্বিক বাইসাইকেল বাজার উন্নীত হবে ৩৪.৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের সামনে অপেক্ষা করছে চমত্কার সুযোগ। শুধুমাত্র গার্মেন্টস শিল্পের দিকে মনযোগ নিবদ্ধ না করে এবং বাইসাইকেল শিল্পের দিকে আরেকটু বেশি মনযোগ দিলে ভবিষ্যত্ প্রতিবন্ধকতাগুলোও হয়তো সহজেই কাটিয়ে উঠতে পারবে। সবচে’ বড় শংকাটা হচ্ছে, এন্টি-ডাম্পিং শুল্ক ব্যতিরেকে চীন হয়তো ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের চেয়ে ১০ থেকে ২০ শতাংশ কম মূল্যে বাইসাইকেল রপ্তানি করতে পারে এবং ওখানকার বাজারে সাইকেল পাঠাতে বাংলাদেশের তুলনায় সময় কম নিতে পারে ৩৫ থেকে ৫০ শতাংশ। এসব সমস্যা দেখা দিলে বাংলাদেশ তা কীভাবে কাটিয়ে উঠবে, এটাই মূল প্রশ্ন। প্রতিযোগ সক্ষমতা বাড়িয়ে তুলতে বাইসাইকেল খাতের খোলনলচে পরিবর্তন প্রয়োজন, যাতে বিরূপ পরিস্থিতিতেও নিজ অবস্থান ধরে রাখতে পারে কিংবা তা অতিক্রম করে আরো সামনে এগিয়ে যেতে পারে। সমালোচনামূলকভাবে বাংলাদেশের বাইসাইকেল ভ্যালু চ্যাইনের মূল্যাযণ করে বিশ্ব ব্যাংকের ডায়াগনস্টিক ট্রেড ইনটিগ্রেশান স্টাডি প্রতিবন্ধকতাগুলো চিহ্নিত করে নীতি সংস্কারের সুপারিশ করেছে। বাংলাদেশের বাইসাইকেল উত্পাদন খাত দুই ভাগে বিভক্ত। একটি হল আধুনিক, রপ্তানি কেন্দ্রিক আসল সামগ্রী উত্পাদক (ওইএমএস) এবং অপরটি অভ্যন্তরীণ বাজারভিত্তিক ক্ষুদ্র পরিসরের/কুটিরশিল্প বাইসাইকেল ও যন্ত্রাংশ উত্পাদক। দুটি অংশের মধ্যে ক্ষুদ্র হলেও সংযোগ রয়েছে। অভ্যন্তরীণ বাজার অত্যন্ত সুরক্ষিত এবং এখানে নিম্ন মারে যন্ত্রাংশ ও বসাইকেল হলেই চলে। যে কারণে স্থানীয় উত্পাদনকারীরা অভ্যন্তরীণ বাজারের দিকেই বেশি মনযোগ দেয়। অধিকন্তু স্থানীয় উত্পাদনকারীদেরঅর্থের ঘাটতি বেশ প্রবল। ঠিক এই কারণেই তারা উচ্চতর গুনগত মানসম্মত চাহিদা মেটানোর জন্য যন্ত্রাংশ ও অন্যান্য সামগ্রীর ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করতে পারে না। রপ্তানি কেন্দ্রিক ওইএমএস-এর বেলায় উপাদন খরচের বেশির ভাগ চলে যায় যন্ত্রাংশ ও অন্যান্য সামগ্রীর বেলায়। এগুলোর অধিকাংমই আমদানি করা হয়। বাংলাদেশের বাইসাইকেল উত্পাদনকারীদের আমদানিকৃত যন্ত্রাংশের ওপর নির্ভরতা ক্রমেই কমে আসছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত যন্ত্রাংশ উত্পাদন শিল্প তেমনভাবে বিকশিত হতে পারেনি। বিকশিত হলে আবার হুহু করে বেড়ে যেতে পারে বাংলাদেশের বাইসাইকেল রপ্তানি। এক্ষেত্রে একটা সময়ে চীনের প্রধান এশীয় প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠতে পারে বাংলাদেশ।

 

বিশ্ব ব্যাংকের ওয়েবসাইট অনুসরণে