সংবাদ শিরোনাম
DSE

ত্রয়োদশ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দুদক

dudok

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ত্রয়োদশ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী মঙ্গলবার। ২০০৪ সালের ২১ নভেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশনে একজন চেয়ারম্যান ও দুইজন কমিশনারের যোগদানের মাধ্যমে কমিশন প্রতিষ্ঠিত হয়।
দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ রাষ্ট্রপতির সম্মতি পায় ২০০৪ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি। দেশের দুর্নীতি দমন, নিয়ন্ত্রণ, প্রতিরোধ এবং সমাজে সততা ও নিষ্ঠাবোধ সৃষ্টির দায়িত্ব এই আইনের মাধ্যমে দুর্নীতি দমন কমিশনের ওপর অর্পণ করা হয়।

এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনেও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের কণ্ঠকে আরও উচ্চকিত করার প্রয়াস নিয়েছে দুদক।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেন্দ্রীয় মঙ্গলবার (২১ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টায় কমিশনের প্রধান কার্যালয় প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা ও কমিশনের পতাকা উত্তোলন করেন দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। এরপর একই স্থানে শান্তির প্রতীক পায়রা অবমুক্ত করবেন এবং বেলুন ও ফেস্টুন ওড়াবেন তিনি।

বেলা ১০টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা অডিটোরিয়ামে কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্নীতিমুক্ত থেকে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনায় অঙ্গীকারাবদ্ধ থাকার লক্ষ্যে তাদের দুর্নীতিবিরোধী শপথ বাক্য পাঠ করাবেন দুদক চেয়ারম্যান।

একই স্থানে একই সময়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের বর্তমান বছরে সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাস উদ্দিন।

কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সাথে সামঞ্জস্য রেখে কমিশনের ৬টি বিভাগীয় কার্যালয় ও ২২টি সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে একই কর্মসূচি উদযাপিত হবে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উপলক্ষে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, আমাদের সব আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি। আমাদের আশা ছিল এমন অবস্থার সৃষ্টি হবে যাতে দুর্নীতি পরায়ন ব্যক্তিরা বিশেষ করে সরকারি কর্মকর্তারা দুর্নীতি করার অনৈতিক সাহস সম্পূর্ণ হারিয়ে ফেলবেন। বাস্তবতা হচ্ছে আমরা এখনও সে পর্যায়ে যেতে পারিনি। তবে আমরা চেষ্টা করছি।

তিনি আরও বলেন, কমিশনের বহুমুখী পদক্ষেপের কারণেই এই প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনগণের আস্থা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০১৫ সাল থেকে ২০১৭ সালে কমিশনে অভিযোগ প্রাপ্তি বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৬০ শতাংশ। ২০১৭ সালের শুরুতেই কমিশন থেকে বলা হয়েছিল২০১৭ সাল হবে ঘুষগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের আতঙ্কের বছর। আমরা আমাদের কথা রাখার চেষ্টা করেছি। সোমবার পর্যন্ত ২৩টি ফাঁদ মামলা পরিচালনা করে ঘুষখোর কর্মকর্তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। এখন প্রকাশ্যে ঘুষ খাওয়ার প্রবণতা কমে এসেছে। ঘুষ এখন গোপন বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
কমিশনের প্রসিকিউসনে বিভিন্ন সংস্কার করা হয়েছে জানিয়ে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ২০১৭ সালে মামলার সাজার হার বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৭০ শতাংশে উপনীত হযেছে। আমরা চেষ্টা করছি প্রায় শতভাগ মামলার সাজার বিষয়ে প্রসিকিউটিং এজেন্সি হিসেবে সঠিক দায়িত্ব পালন করা। দুদকের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য কর্মকর্তাদের দেশ-বিদেশে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এ বছরে কমিশনের নিজস্ব হাজতখানা, সশস্ত্র পুলিশ ইউনিট, গোয়েন্দা ইউনিট, দুদক অভিযোগ কেন্দ্রের হটলাইন ১০৬, রেকর্ড রুম নির্মাণ, সম্পদ পুনরুদ্ধার ইউনিট গঠনসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

দুদক কর্মকর্তাদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে জানিয়ে ইকবাল মাহমুদ আরও বলেন, কমিশনের কোনো কর্মকর্তা দুর্নীতির সাথে জড়িয়ে পড়লে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গত দুই বছরে সাতজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে গুরুদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং ৫ জন কর্মকর্তা–কর্মচারীকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।