শেয়ার বাজারে যাত্রা শুরু করলো ইসলাম অক্সিজেন লিমিটেড

বাংলাদেশ পাবলিক ইস্যু বিধি-২০১৫ অনুযায়ী বুক বিল্ডিং মেথডের মাধ্যমে ইনেশিয়াল পাবলিক অফারিং (আইপিও)-তে যাত্রা শুরু করলো ইসলাম অক্সিজেন লিমিটেড। আজ ২৫ অক্টোবর সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে একটি রোড শোর মাধ্যমে এই যাত্রা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। রোড শোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইসলাম অক্সিজেন লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. নুরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চেয়ারম্যান মো. শহিদুল ইসলাম, ডিরেক্টর মো. আজহারুল ইসলাম, চিফ অপারেটিং অফিসার বদর উদ্দিন আল-হোসাইন, কোম্পানি সেক্রেটারি মো. আখতারুজ্জামান, কোম্পানীর সতন্ত্র পরিচালকগণসহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্চ ও চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্চ এর প্রতিনিধি, জনতা ক্যাপিটাল এন্ড ইনভেষ্ট লিঃ-এর চীফ এক্সিকিউটিভ, সোনালী ইনভেষ্টমেন্ট লি, আই.সি.বি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিঃ ও রুপালী ইনভেষ্টমেন্ট লিঃ এর সি.ই.ও, বিভিন্ন হাসপাতালের চিকিৎসক, বিভিন্ন ব্যাংক বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও এর প্রতিনিধি, মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারজে হাউজ -এর প্রতিনিধি, কোম্পানীর শেয়ারহোল্ডার, পরিচালক বৃন্দ, কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ।

মার্কেট শেয়ার অর্জনের জন্য এবং বাংলাদেশের একটি সনামধন্য অক্সিজেন কোম্পানীতে পরিণত করতে ইসলাম অক্সিজেন লিমিটেড বুক বিল্ডিং মেথডের মাধ্যমে বি এস ই সি এর অনুমোদন সাপেক্ষে ৯৩ কোটি টাকার জন্য আইপিও-তে অংশগ্রহণ করছে। আইপিও-তে ব্যয়ের পর প্রতিষ্ঠানটি বাকি টাকা দিয়ে নতুন ফ্যাক্টরি বিল্ডিং স্থাপন, প্ল্যান্ট এবং মেশিনারিজ স্থাপনে ব্যয় করবে। অক্সিজেন ছাড়াও আরো বিভিন্ন ধরনের মেডিকেল গ্যাসের চাহিদা রয়েছে সেই চাহিদা থেকেই শেয়ার বাজারে যাত্রা শুরু করছে প্রতিষ্ঠানটি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইসলাম অক্সিজেন লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. নুরুল ইসলাম বলেন, ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে আমরা আমাদের উৎপাদন ক্ষমতা দুই কোটি পঞ্চাশ লক্ষ ঘন মিটারে উন্নীত করতে সক্ষম হয়েছি। আই.পি.ও’র মাধ্যমে বাজার থেকে উত্তলিত অর্থ দ্বারা আমরা একটি লিক্যুইড গ্যাস প্লান্ট ও একটি নতুন ফ্যাক্টরি বিল্ডিং স্থাপন করব। উক্ত প্লান্ট দুটি স্থাপিত হলে, আশা করি দেশের অক্সিজেনসহ ও অন্যান্য গ্যাসের চাহিদা অনেকাংশেই পূরণ করতে সক্ষম হব। উক্ত প্লান্ট স্থাপনের মাধ্যমে আমাদের বর্তমান উৎপাদন ক্ষমতা দুই কোটি পঞ্চাশ লক্ষ ঘন মিটার থেকে প্রায় চার কোটি পঞ্চাশ লক্ষ ঘন মিটার-এ উন্নীত হবে। এতে দেশের গ্যাস শিল্পে যে বিদেশ নির্ভরতা রয়েছে তা কমিয়ে এনে বাংলাদেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ গ্যাস সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করা যাবে।

প্রোজেক্টেড ফাইন্যান্সিয়াল স্টেটমেন্ট অনুযায়ী, ২০২৫ এ আমাদের প্রজেক্ট রেভিনিউ হবে ২৭০.২৭ কোটি টাকা এবং উৎপাদন ক্ষমতা বেড়ে হবে বছরে ৪.৮৭ কোটি পিস। আমরা বাংলাদেশের মার্কেটের চাহিদা পূরণ করে অন্যান্য উন্নত দেশগুলোতেও তখন রপ্তানি করতে পারব। ইসলাম অক্সিজেন লিমিটেড এ বিনিয়োগ করার এখনই সেরা সময় এবং আমরা আমাদের শেয়ার হোল্ডারদের সঠিক রির্টান দিতে সক্ষম হব এবং পুঁজিবাজারে আমাদের পরবর্তী মাইলফলক শুরু করতে পারবো বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা।

ইসলাম অক্সিজেন লিমিটেড সম্পর্কে :

আজ থেকে প্রায় ২৯ বছর আগে বড় ভাইয়ের হাত ধরে শুরু হয় আমাদের স্টীল ট্রেড বিজনেস। পর্যায়ক্রমে একাধিক স্টীল উৎপাদন ফ্যাক্টরী গড়ে তুলে। এই স্টীল মিলের প্রয়োজনে ৩ ভাইয়ের যৌথ প্রচেষ্টায় পরবর্তীতে ইসলাম অক্সিজেন লিমিটেড, যার বানিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়েছিল ২০১৩ সালে ইন্ডাষ্ট্রিয়াল অক্সিজেন উৎপাদনের মাধ্যমে। চাহিদা বৃদ্ধির কারণে ২য় প্লান্ট স্থাপন এবং একটি এসিটিলিন প্লান্ট গড়ে তুলে। বিভিন্ন শিল্পে কাচামাল হিসেবে ব্যবহৃত গ্যাসের ইন্ডাষ্ট্রিয়াল চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় আমরা কার্বন-ডাই-অক্সাইড, আর্গন, নাইট্রোজেন, হাইড্রোজেন, হিলিয়াম, আর্গোশিল্ড, কর্গন ও বিভিন্ন ধরনের ইন্ডাষ্ট্রিয়াল মিক্সড গ্যাস উৎপাদন এবং সরবরাহ করা শুরু করে। আর এভাবেই বাংলাদেশের ইন্ডাষ্ট্রিয়াল গ্যাসের বাজারে একটি সুদৃঢ় অবস্থান তৈরি হয়। বর্তমানে ক্রমান্বয়ে কম্প্রেড মেডিকেল এয়ার, নাইট্রাস অক্সাইড, মেডিকেল কার্বন ডাই অক্সাইড, মেডিকেল নাইট্রোজেন ও বিভিন্ন ধরনের মেডিকেল মিক্সড গ্যাস উৎপাদন ও সরবরাহ করে চলছে। যেখানে নিরবিচ্ছন্নভাবে গ্রাহকরা ২৪ ঘন্টা সেবাসমূহ পেয়ে থাকে।