নৌকার প্রতি মানুষের যে আস্থা তারই প্রতিফলন ঘটবে-রিফাত

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) নির্বাচনে নিজের জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদের কথা জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আহসানুল হক রিফাত।

ভোটের প্রচারণায় অভূতপূর্ব সাড়া মিলেছে জানিয়ে তিনি বলেছেন, নির্বাচনে পরাজয়ের কোনো প্রশ্নই আসে না। প্রচারণায় গিয়ে আমি ভোটারদের কাছ থেকে অভূতপূর্ব সাড়া পেয়েছি। যা প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি। আমার বিশ্বাস, বুধবারের ভোটে নৌকার প্রতি মানুষের যে আস্থা তারই প্রতিফলন ঘটবে।

একইসঙ্গে তিনি এ-ও বলেছেন, নির্বাচনে জয়-পরাজয় মেনে নেওয়ার মানসিকতা আমার রয়েছে। কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে যে প্রার্থীই জয়লাভ করবেন আমি তাকে প্রথম ফুলের মালা দেবো।

কুসিক নির্বাচনে ভোটের একদিন আগে মঙ্গলবার (১৪ জুন) নির্বাচনী এলাকায় নিজ বাড়িতে তিনি এসব কথা বলেন।

ক্ষমতাসীন দলের এ মেয়র প্রার্থী বলেন, কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগ অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি সংঘবদ্ধ এবং সংগঠিত। এখানে আওয়ামী লীগের মধ্যে কোনো ধরনের বিরোধ নেই।

কুসিক নির্বাচনে ভোটাররা নৌকার পক্ষে কেন ভোট দেবে এবং সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কুর ব্যর্থতা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সাবেক মেয়রের সবকিছুতেই ব্যর্থতা। সফলতা শুধুমাত্র দুর্নীতিতে। উনার (সাবেক মেয়রের) ব্যর্থতার কারণে কুমিল্লার মানুষ পরিবর্তন চায়, এজন্যই তারা আমাকে বেছে নেবেন।

কুমিল্লা-৬ সংসদ সদস্য আ. ক. ম. বাহাউদ্দিন বাহারকে কুসিক নির্বাচনকালীন এলাকা ত্যাগ করতে চিঠি দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। কিন্তু ক্ষমতাসীন দলের এ এমপির এলাকা না ছাড়াকে ‘কমিশনের আইনি বিধানের লঙ্ঘন’ মনে করছেন না আহসানুল হক রিফাত। বরং নির্বাচন কমিশন নিজেদের ইমেজ বাড়াতে নৌকা সমর্থিত প্রার্থী-সমর্থকদের ওপর খড়গহস্ত হচ্ছে বলে দাবি এ মেয়র প্রার্থীর।

প্রথমবার মেয়র নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা আহসানুল হক রিফাত আরও বলেন, কুমিল্লায় গত প্রায় ১৭/১৮ দিনের নির্বাচনী প্রচারণা ঘিরে একটিও সংঘাত বা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি। আগামী দিনেও এ ধরনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকবে বলে আমি আশা করি। তবে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের (সাক্কু ও তার কর্মীদের ইঙ্গিত করে) পোস্টার ছেঁড়া নিয়ে একটি অভিযোগ রয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে আমার নিজের পোস্টারও অনেক জায়গায় ছিঁড়ে মাটিতে পড়ে আছে। আমি তো কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ করিনি! আসলে তারা তো নালিশ পার্টির লোক, নালিশ দেওয়াই তাদের কাজ।

তিনি বলেন, ছোট্ট শহর কুমিল্লা, এখানে আমরা সবাই মিলেমিশে থাকি। সকালে ঘুম থেকে উঠলেই একজনের সঙ্গে আরেকজনের দেখা হয়, কুশল বিনিময় হয়। সুতরাং, আমাদের মধ্যে নোংরামির পরিবেশ তৈরি হোক, তা আমি চাই না।

নৌকার পক্ষে প্রচার-প্রচারণা ও নির্বাচনী এলাকায় আধিপত্যের বলয় তৈরি করতে বহিরাগতদের আনা হচ্ছে, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে রিফাত বলেন, যাদের বহিরাগত বলা হচ্ছে তারা সবাই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী। কুমিল্লার আশপাশের উপজেলা এবং ইউনিয়নের সব নেতাকর্মীরা এসে নৌকার পক্ষে কাজ করছেন। এ শহরে তো তাদের আত্মীয়-স্বজনও থাকেন। তারা এসে তাদের আত্মীয়-স্বজনদের কাছে যাচ্ছেন এবং নৌকার পক্ষে ভোট চাইছেন। এতে তো দোষের কিছু দেখি না। যারা বাইরে থেকে এসেছিল একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তারা ছিল এবং এরপর যে যার মতো নিজ এলাকায় চলেও গেছেন।

স্থানীয়ভাবে দলের অবস্থান ব্যাখ্যা করে নৌকার এ মেয়র প্রার্থী বলেন, কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগ সাংগঠনিকভাবে অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। দলের অঙ্গসংগঠন যেমন- ছাত্রলীগ, যুবলীগ, কৃষকলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ অন্য অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের প্রতিটি ওয়ার্ডে কর্মী রয়েছে। আমাদের ২৭টি ওয়ার্ড রয়েছে। সব ওয়ার্ডেই বিপুল সংখ্যক কর্মী রয়েছে। ভোটের দিন তারা কেন্দ্রভিত্তিক নিজ নিজ কেন্দ্রে অবস্থান করলেও প্রতিটি কেন্দ্রের সামনে এক থেকে দেড় হাজার কর্মীর সমাবেশ ঘটবে। তাহলে আমি কেন বাইরের লোক এখানে এনে জড়ো করবো। কী প্রয়োজন আমার।

এসময় সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে আমাদের মধ্যে কোনো ধরনের সংশয় বা শঙ্কা নেই।

নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী, আগামীকাল বুধবার একযোগে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নগরীর ১০৫টি কেন্দ্রের প্রতিটিতেই ভোট হবে ইভিএম পদ্ধতিতে।

কুসিক নির্বাচনে এবার মেয়র পদে প্রার্থী হয়েছেন পাঁচজন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত (নৌকা প্রতীক), স্বতন্ত্র প্রার্থী সদ্যবিদায়ী মেয়র মনিরুল হক সাক্কু (টেবিল ঘড়ি), নিজাম উদ্দিন কায়সার (ঘোড়া), ইসলামী আন্দোলনের রাশেদুল ইসলাম (হাত পাখা) এবং নাগরিক কমিটির কামরুল আহসান বাবুল (হরিণ)। এছাড়া কাউন্সিলর পদে ১০৮ জন এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৩৬ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

কুসিক নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ২৯ হাজার ৯২০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ১২ হাজার ৮২৬ জন আর নারী ভোটার ১ লাখ ১৭ হাজার ৯২ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন দুজন।