নারী নেতৃত্বের বিকাশ ও অসহায়দের পাশে দাঁড়াতেই রাজনীতিতে আসা

আমজাদ হোসেন শিমুল, (রাজশাহী ব্যুরো):

রাজনৈতিক ক্যারিয়ার গঠনের উদ্দেশ্য ব্যক্তিভেদে আলাদা হবে এটাই স্বাভাবিক। সিংহভাগ রাজনৈতিক ব্যক্তি ব্যক্তিগত ফায়দা হাসিলসহ জনগণের সেবা করার উদ্দেশ্যে রাজনীতিতে নাম লেখান। রাজনৈতিক জীবনে অনেকেই আবার শুধুই জনগণের জন্যই নিজেকে উৎস্বর্গ করতে ভালোবাসেন। এমনি একজন বর্তমান ক্ষমতাশীন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে নারী নেতৃত্বের বিকাশ ঘটাতে দিন-রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার সাবিহা শবনম কেয়া। তিনি কেয়া রহমান নামেই অধিক পরিচিত। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি কেয়া রহমানের রাজনীতির উদ্দেশ্যই যেন স্বচ্ছ রাজনৈতিক ধারাকে সমুন্নত রাখতে কাজ করে যাওয়া। সেই সাথে পিছিয়ে পড়া নারী সমাজকে রাজনীরিত উর্বর ভূমিতে নিয়ে এসে নারী নেতৃত্বের বিকাশ ঘটানোই যেন তরুণ এই নেত্রীর প্রধান ব্রত। শুধু তাই নয়; সমাজের গবীর-অবহেলিত, অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষের পাশে থেকে নীরবে সাহায্য-সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়াই যেন তার রাজনৈতিক কর্মকা-ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সম্প্রতি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সাবেক এই শিক্ষার্থীর একান্ত সাক্ষাতকারে এমন সব বিষয়ই উঠে এসেছে। সাক্ষাতকারটি পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো:

প্রতিবেদক : আপনার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরুর গল্পটা যদি একটু বলতেন?

কেয়া রহমান : মূলতঃ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া লেখার সময় হতে রাজনীতির প্রতি আমি আকৃষ্ট হই। আমার স্বামী (সেফাউর রহমান) ৩৫ তম বিসিএস খাদ্য কর্মকর্তা হলেও ছাত্রজীবন হতে অদ্যাবধি বিশেষ করে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের তিনি একজন পৃষ্ঠপোষক। প্রাথমিকভাবে তার সুবাদে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সকল স্তরের নেতা-কর্মীর সাথে আমার রাজনৈতিক সখ্যতা গড়ে ওঠে। অর্থ্যাৎ আমার স্বামীর প্রবল ইচ্ছা এবং আমার ব্যক্তিগত ইচ্ছার সমন্বয়েই আমার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু।

প্রতিবেদক : কেন আপনি অন্যসব পেশা ব্যতিরেকে রাজনীতিকেই পেশা হিসেবে নিয়েছেন?

কেয়া রহমান : বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্যান্য বিষয়ে ভর্তির সুযোগ থাকা সত্ত্বেও সমাজবিজ্ঞান বিভাগকে বেছে নিয়েছিলাম, সমাজের বাস্তবতা জানার ও বুঝার জন্যই। তেমনি নেতৃত্বে পিছিয়ে থাকা নারী নেতৃত্বের বিকাশ ঘটিয়ে রাজনৈতিক ময়দানে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি করে শিক্ষিত নারীদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণের আগ্রহ সৃষ্টি করে নারীদের সক্ষমতা প্রমাণের চ্যালেঞ্জ হিসেবে অন্য পেশাকে পাশ কাটিয়ে রাজনীতিকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেছি। সেই সাথে মানব সেবা অন্যতম। কেননা- রাজনৈতিক জীবনে যতদিন বেঁচে থাকবো অসহায় জনগণের সেবায় যাতে নিজেকে আত্মনিয়োগ করতে পারি।

প্রতিবেদক : রাজনীতিতে আসার পর আপনার ভালো কাজের কিছু স্মৃতিচারণ যদি করতেন?

কেয়া রহমান : নিজ অর্থায়নে করোনার সময়ে স্বশরীরে বাড়ি-বাড়ি গিয়ে প্রায় ৫০০০ (পাচ হাজার) পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা প্রদান করি। আদর্শিক সহযোগিদের নিয়ে সচেতনতামূলক লিফলেট, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও মাস্ক বিতরণ করি। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ প্লাসপ্রাপ্ত ছাত্র-ছাত্রীদের পুরস্কৃত করি। এতিমখানা, মসজিদ, মাদ্রাসা, গোরস্থান, ঈদগাহ, মন্দির প্রভৃতিতে সাধ্যমত আর্থিক সহায়তা করি। খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক প্রোগ্রামে পৃষ্ঠপোষকতা করি। একজন মুক্তিযোদ্ধার কন্যা হিসেবে সাধ্যমত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানিত করি।

প্রতিবেদক : ভবিষ্যৎ রাজনীতির ক্যারিয়ার আরো বেশি ডেভলপ করতে আপনার পরিকল্পনাগুলো সম্পর্ক যদি বলতেন?

কেয়া রহমান : আসলে সত্যি কথা বলতে কী- জনগণের সেবাই আমার ব্রত। রাজনীতি আসার উদ্দেশ্য বলতে পারেন এই একটাই। আমার নিজ এলাকাসহ দেশের আপামর জনসাধারণের জন্য কিছু করার পরিকল্পনা নিয়েই সামনের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করছি। তারপরও কিছু বিষয় তো থাকেই। আওয়ামী লীগের একজন কর্মী হিসেবে আমার প্রধান পরিকল্পনার কথা যদি বলি- দলের হাইকমান্ডের আদেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করা। কেননা- আমি একজন কর্মী যদি নিজের দল তথা দলের নেতৃবৃন্দকে মনেপ্রাণে ধারণ করতে না পারি তাহলে কখনোই আমি একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হতে পারি না। এজন্য অবশ্যই আমাকে হাই-কমান্ডের নির্দেশনা যথাযথভাবে পালন করতে হবে।
এছাড়া ন্যায়ের প্রতি শতভাগ সমর্থন ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার চেষ্টা সবসময়ই করি এবং এটি ভবিষ্যতেও যথাযথভাবে করার পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাবো। সকল প্রকার প্রতিহিংসা পরিহার করে স্বচ্ছ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নিজেকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। দল-মত নির্বিশেষে সমাজের নির্যাতিত, নিষ্পেষিত ও নিগৃহীত নারীদের নিয়ে একটা সার্বজনীন প্লাটফর্ম করে সকল প্রকার বৈষম্যদূরীকরণের জন্য প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপে আত্মনিয়োগ করবো ইনশাআল্লাহ।

প্রতিবেদক : একজন রাজনৈতিক ব্যক্তি হিসেবে আপনার এলাকার নিরীহ-অসহায় মানুষদের জন্য আপনি কী কী করেছেন এবং ভবিষ্যতে কী করতে চান?

কেয়া রহমান : করোনা দুর্যোগকালীন, দলীয় নির্যাতিত কর্মীদের বিপদে, বিভিন্ন অসুস্থ অসহায়দের চিকিৎসা ক্ষেত্রে অর্থাৎ নিরীহ-অসহায়দের যে কোন দুর্যোগ বা দুর্দিনে অতীতে যেভাবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে পাশে ছিলাম বর্তমানে আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকবো ইনশাআল্লাহ।

প্রতিবেদক : প্রত্যেক রাজনৈতিক ব্যক্তির রাজনীতিতে চাওয়া-পাওয়া থাকে। আপনার চাওয়া-পাওয়ায় ব্যতিক্রম কিছু আছে কিনা?

কেয়া রহমান : ঠিক বলেছেন, প্রত্যেকের মতই আমারও চাওয়া-পাওয়া আছে। হ্যাঁ তবে আমার চাওয়া-পাওয়া ব্যাতিক্রম কিছু আছে। আর সেটা হচ্ছে রাজনীতিতে নারীদের নিয়ে যে একটা খারাপ ধারণা আছে বা উচ্চ শিক্ষিত ও মার্জিত নারীরা বর্তমান রাজনীতিতে আসতে ভয় পায়- সে সব ধারণা ভুল প্রমাণ করে রাজনীতিতে নারীদের সম-মর্যাদা বা উচ্চ মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা। এক্ষেত্রে আমার একমাত্র আদর্শ, সাহস ও অনুপ্রেরণা জাতির পিতার সুযোগ্যা কন্যা সারা বিশ্বের মুকুট মনি প্রাণ প্রিয় নেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা।

প্রতিবেদক : ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক জীবন আপনি কীভাবে কাটাতে চান?
কেয়া রহমান : হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর সুযোগ্য কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা আপার আদর্শকে বুকে ধারণ, লালন-পালন ও কর্তব্য-কর্মে তার প্রতিফলন ঘটিয়ে নারী নির্যাতনের সামাজিক ক্ষতকে প্রশমন ও দেশের আর্থসামাজিক অগ্রগতিতে যথাসাধ্য উৎকৃষ্টতার ছাপ রেখে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক জীবন কাটাতে সচেষ্ট থাকব ইনশাআল্লাহ। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।