নগদ-ভালোবাসা

গোপালগঞ্জের সোহেব মোল্যার অল্প কিছু সঞ্চয় ছিল। কিন্তু এই অর্থ নিয়ে খুব দুশ্চিন্তার মধ্যে ছিলেন সোহেব। কী করবেন এই টাকা নিয়ে? কোথায় রাখবেন? কোথাও ভরসা পাচ্ছিলেন না তিনি। ব্যাংকেও যেতে চাচ্ছিলেন না। সেই সময় এক বন্ধুর কাছ থেকে জানতে পারলেন নগদ-এর কথা। সোহেব নগদ অ্যাকাউন্ট করলেন। তারপর সেখানে জমা রাখলেন টাকাগুলো। ব্যাস। এবার তিনি টাকার নিরাপত্তা পেলেন। সেই সঙ্গে পেতে থাকলেন লাভও।

নিজের কষ্টের সঞ্চয়ের নিরাপত্তা নিয়ে দারুণ সন্তুষ্ট সোহেব এই সন্তোষের কথাই লিখে পাঠিয়েছেন নগদ-কে। 

দেশব্যাপী নগদ-এর এমন হাজারো গ্রাহক তাদের সন্তোষের কথা, প্রাপ্তির কথা, তৃপ্তির কথা লিখেছেন নগদ-কে। আর এই সুযোগটা তাদের এনে দিয়েছিল নগদের ‘নগদ-এ চিঠি’ শিরোনামের ক্যাম্পেইন।

পাঁচ দিনব্যাপী নগদ-কে চিঠি লেখার একটি কর্মসূচি হাতে নিয়েছিল মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’। এই ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে দেশজুড়ে নগদ-এর গ্রাহকরা হাতে পেয়েছিলেন একটি পোস্টকার্ড। বাংলাদেশ ডাক বিভাগের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস হিসেবে নগদ-এর চিঠি লেখার এই উদ্যোগে দারুণ সাড়া দেন গ্রাহকরা। সারা দেশ থেকে কয়েক হাজার চিঠি জমা হয় নগদ-এর কাছে। 

হাজারো চিঠির ভেতর থেকে সেরা বেছে নেওয়া নিশ্চয়ই খুব কঠিন কাজ ছিল। তারপরও প্রতিযোগিতা বলে কথা। তাই এখান থেকে সেরা ৫০ জন চিঠি লেখককে বেছে নিয়ে পুরস্কৃত করা হয়েছে। 

কেমন ছিল সেই চিঠিগুলো?

তরুণদের দারুণ অংশগ্রহণ ছিল। চিঠিগুলো পরিষ্কার করে দেখিয়ে দেয়, তরুণ প্রজন্মের কাছে নগদ হয়ে উঠেছে আস্থার এক নাম। তবে ব্যাপারটা শুধু একটি প্রজন্মের মধ্যে আটকে ছিল, তা নয়। দেশের প্রবীণদেরও নগদ সমানে আকৃষ্ট করতে পেরেছে, তার প্রমাণও মিলেছে এইসব চিঠিতে। 

কুমিল্লার ফাহমিদা আকতারের কথা বলা যাক। তিনি বাংলাদেশ স্কাউটস থেকে ইউনিট লিডার ভাতা পেয়ে থাকেন। আর তার এই ভাতা পাওয়ার জন্য বিশ্বস্ত মাধ্যম হলো নগদ। এছাড়া কারো ওপর ভরসা করতে পারেন না। ফাহমিদা লিখেছেন, ‘সহজ উপায় হিসেবে আমার পছন্দ নগদ। কারণ নগদে চার্জ কম এবং সার্ভিস পয়েন্ট আমার নিকটতম। এখানকার সার্ভিস ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত আন্তরিক এবং আমি সন্তুষ্ট।’

সবাই যে কেবল নিজের অভিজ্ঞতা বা সন্তুষ্টির কথা বলেই থেমে গেছেন তা নয়। কেউ কেউ  নগদ-এর বিশ্লেষণ করেছেন। বরিশালের মো. ইকবাল হোসেন ৬টি কারণ খুঁজে বের করেছেন নগদ সম্পর্কে। তিনি বলেছেন, এই ৬টি কারণই আসলে নগদকে এগিয়ে রাখছে বাকিদের চেয়ে। বগুড়ার রাবেয়াতুর রহমানও এমন কয়েকটি দিক খুঁজে পেয়েছেন, যে জন্য তার মনে হয়, নগদ ছাড়া অন্য কোথাও লেনদেন করার কোনো কারণই নেই। 

যশোরের মোহাম্মদ নাহিদ হাসান একইভাবে অনেকগুলো অনন্য বৈশিষ্ট্য খুঁজে পেয়েছেন নগদ-এর ভেতর। তার অভিজ্ঞতা দিয়ে তিনি দেখেছেন, এমন সেবা তিনি আর কারো কাছে পাননি। 

তবে নগদ-কে অনেক বড় একটা ধন্যবাদ দিয়েছেন খুলনার মো. শাহীন খান। তিনি আসলে সুদমুক্ত লেনদেনের একটি উপায় খোঁজ করছিলেন। শরিয়া সম্মত মোবাইল ফাইনান্সিয়াল সার্ভিস তিনি কোথাও পাচ্ছিলেন না। আর সেই সময়ই তার সামনে এসেছে ‘নগদ ইসলামিক’। শাহীন খান লিখেছেন, ‘আমার সবচেয়ে নগদের ইসলামিক অ্যাকাউন্ট ভালো লেগেছে। কারণ এটি শরিয়া সম্মত একটি অ্যাকাউন্ট। আর আমি সুদ জিনিসটা অপছন্দ করি।’

এমন অনেক ভালোবাসায় সিক্ত চিঠি পেয়েছে নগদ। তারা আপ্লুত হয়ে আবিষ্কার করেছেন, এইসব গ্রাহকের কাছে নগদ কোনো দূরের প্রতিষ্ঠান নয়; যেনো ঘরের আপনজন। বান্দরবারের আব্দুল করিম যেমন লিখেছেন, ‘তোমার নাম যেমন সুন্দর, তেমনি কাজও চমৎকার। তুমি স্বমহিমায় এগিয়ে যাচ্ছ অবলীলায়।’

এই ধরনের ভালোবাসাই তো নগদ-এর এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা।