সংবাদ শিরোনাম
DSE

জিয়া মহিউদ্দিন, অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার, পিআর অ্যান্ড কমিউনিকেশন

জনসংযোগ কর্মকর্তাকে ইংরেজিতে বলা হয় পাবলিক রিলেশন অফিসার। সংক্ষেপে পিআরও। পিআরও বা জনসংযোগ কর্মকর্তার কাজই হচ্ছে জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা। জনসংযোগ বলতে বুঝায় জনসাধারণের সঙ্গে কোনো পণ্য বা কোনো প্রতিষ্ঠানের সংযোগ স্থাপন করে দেওয়া, অর্থাত্ কোনো প্রতিষ্ঠানের কোনো কাজ কিংবা কোনো উদ্দেশ্যে জনসমর্থন জোগার করা। বস্তুত জনসংযোগের উদ্দেশ্য হলো সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি বাড়ানো তথা বাজার তৈরি করা, পুরাতন গ্রাহক ধরে রাখা এবং নতুন ভোক্তা বা ব্যবহারকারীদের আকৃষ্ট করা। নিজের যোগাযোগের দক্ষতার মাধ্যমে এই পদে নিজের সক্ষমতা তৈরি করতে হয়। এই প্রজন্মের একজন মেধাবী জনসংযোগ জিয়া মহিউদ্দিন। জিয়া মহিউদ্দিন, অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার, পিআর অ্যান্ড কমিউনিকেশন।
জিয়া মহিউদ্দিন বলেন, জনসংযোগ একটি চ্যালেঞ্জিং পেশা। এ সেক্টরে কাজ করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে, কারণ এখন আমাদের দেশে প্রচুর কর্পোরেট হাউস হচ্ছে, মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ড চালানোর জন্য আবশ্যিকভাবে প্রয়োজন পাবলিক রিলেশন সেকশন অর্থাত্ জনসংযোগ বিভাগ। কাজের অনেক সুযোগের কথা জানাচ্ছিলেন জিয়া মহিউদ্দিন, যিনি পাঁচ তারকা হোটেল রূপসী বাংলার জনসংযোগের বিষয়টা দেখছেন এখন। জিয়া মহিউদ্দিন অস্ট্রেলিয়ান দূতাবাসে কাজ করার মাধ্যমে সরাসরি এই পেশায় আসেন ২০০৪ সালের দিকে। তারপর থেকে নানা বাধা-বিপত্তি পার করেই আজকের এই অবস্থানে। সব মানুষের সাথে পরিচিত হওয়ার এই পেশা দারুণ উপভোগ করেন তিনি এখন।

নতুনদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘যেকোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির ভাবমূর্তি বাড়ানোর জন্য জনসংযোগ খুবই জরুরি। বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রতিনিয়ত যে প্রতিযোগিতা সে প্রতিযোগিতায় জনসংযোগ একটি বড় ফ্যাক্টর। প্রতিষ্ঠানের পক্ষে বিশ্বের কোথায় কি ঘটছে, কিভাবে প্রতিষ্ঠানকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায় তা নিশ্চিত করতে পারে জনসংযোগ বিভাগ। এ জন্য এর গুরুত্বও বেশি। প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তিরা জনসংযোগ বিভাগের দায়িত্বশীলতার ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল। প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে জনসংযোগ কর্মকর্তা তাত্পর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। জনসংযোগ কর্মকর্তা যেহেতু প্রতিষ্ঠানের হয়ে বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করেন সেহেতু তারও সুযোগ থাকে নিজের ব্যক্তিগত পারফর্মেন্স বিভিন্ন জায়গায় প্রদর্শন করার। যার ফলে বিভিন্ন জায়গায় আরও কাজের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।’ তাই প্রতিটি কাজই দায়িত্বসচেতনতার সাথে করার পরামর্শ দেন তিনি।

প্রজন্মের এই জনসংযোগ কর্মকর্তা বলেন, ‘সফল জনসংযোগ কর্মকর্তার কাজ হলো যোগাযোগ বা কমিউনিকেশন। সেই সঙ্গে কমিউনিকেশন দ্বারা একটি পজেটিভ রেসপন্স পাওয়া। আসলে কোম্পানির উন্নয়নের স্বার্থে এবং স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড নির্বিঘ্নে চলার জন্য যেসব যোগাযোগ দরকার একজন জনসংযোগ কর্মকর্তাকে সফলভাবে তা সম্পন্ন করতে হবে। এটাই তার মূল কাজ। একজন সফল জনসংযোগ কর্মকর্তাকে হতে হবে স্পষ্টবাদী। যেহেতু কথা বলাই একজন পাবলিক রিলেশনস কর্মকর্তার মূলশক্তি, তাই তাকে কথা বলতে জানতে হবে। একজন মানুষের সঙ্গে প্রথম দর্শনেই তার মধ্যে যেন ইতিবাচক ধারণা তৈরি হয় সেই চেষ্টা করতে হবে। যেকোনো সময়ে যেকোনো রকম পরিস্থিতির মোকাবেলা করার মতো মানসিক দৃঢ়তা থাকতে হবে। তাত্ক্ষণিক সিদ্ধান্ত প্রদানের কৌশল শিখতে হবে। আর সার্বিকভাবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে সব সময় আপ টু ডেট জ্ঞান ও ধারণা থাকতে হবে। এ পেশায় যারা যোগ দিতে চান তাদের মনে রাখতে হবে—এ পেশাটি শতভাগ চ্যালেঞ্জিং। এখানে কাজের যোগ্যতাটাই মুখ্য। যার যোগ্যতা যত বেশি তার ফলাফল তত বেশি ভালো হবে।’

জিয়া মহিউদ্দিন নিজের কর্মজীবনে সফল একজন মানুষ, ঠিক একই রকমভাবে পরিবারের সবার কাছেও তিনি খুব আপন হয়ে থাকতে চান। তার বাবা স্থপতি আ.ফ.ম গোলাম মহিউদ্দিন আর মা রিফাত রশীদ ছিলেন শিক্ষিকা। লালামাটিয়ায় এক সুবিশাল বাগান বাড়িতে তার বেড়ে ওঠা, প্রকৃতির সাথে সখ্যতা তার বেশ। স্ত্রী চিকিত্সক আর একমাত্র সন্তান আরিজ আল হাসান মহিউদ্দিনকে নিয়েই কাটে তার অবসর। একসময় খুব বৃষ্টিতে ভিজতেন, সেই সুখের দিনগুলোকে ভেবেই অন্যরকম এক সুখ অনুভব করেন এখন, এটাই যে স্বর্গীয়।