শেয়ারবাজারের বড় সমস্যা দুটি: সালমান এফ রহমান

বিডিএফএন টোয়েন্টিফোর.কম

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেছেন, দেশের শেয়ারবাজারের বড় সমস্যা দুটি। এর একটি কাঠামোগত সমস্যা, অন্যটি ম্যাচিউরড বাজারে প্রাতিষ্ঠানিক ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের লেনদেনের ধরণ সংক্রান্ত সমস্যা।

বৃহস্পতিবার (১৩ জানুয়ারি) দেশের শেয়ারবাজারে প্রথম কোনো সুকুকের লেনদেন শুরু উপলক্ষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) নিকুঞ্জ ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

ডিএসই’র চেয়ারম্যান ইউনুসুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা এবং বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান।

এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, আমি যেখানেই যাই, সেখানেই শেয়ারবাজারের বড় দুটি সমস্যার কথা বলি। এরমধ্যে একটি কাঠামোগত সমস্যা। কারণ আমাদের বাজার শুধুমাত্র ইক্যুইটিভিত্তিক বাজার, বলতে পারেন ডেবট নেই। এটি একটি বড় দুর্বলতা। তবে নতুন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ডেবট মার্কেটের উন্নয়নে কাজ করছে।

তিনি বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশে ইক্যুইটি ও ডেবট মার্কেট রেশিও সমান সমান। অনেক দেশে ডেবট মার্কেটে আকার ইক্যুইটির চেয়ে বেশি। তাই আমাদের দেশে ডেবট মার্কেটের আকার বাড়াতে হবে।

শেয়ারবাজারের দ্বিতীয় বড় সমস্যা হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, ম্যাচিউরড বাজারে প্রাতিষ্ঠানিকদের লেনদেনের পরিমাণ বেশি হয় এবং রিটেইলারদের (সাধারণ বিনিয়োগকারী) কম হয়। এমনকি সেখানে রিটেইলাররা ফান্ডের মাধ্যমে লেনদেন করেন। কিন্তু আমাদের দেশে ঠিক উল্টো। এ কারণে দেশের শেয়ারবাজারে উত্থান-পতন হয় বেশি।

তিনি বলেন, ব্রোকারেজ হাউজগুলোকে করপোরেট হতে হবে। এখনো আমাদের দেশে ব্রোকারেজ হাউজগুলোকে ব্রোকার মনে করা হয়। যে কারণে বিনিয়োগকারীরা নিজেরাই পোর্টফোলিও ম্যানেজ করে। এটা ব্রোকারেজ হাউজগুলোর করা কথা। কিন্তু এজন্য ব্রোকারেজ হাউজগুলোকে সত্যিকারের ইনস্টিটিউট হতে হবে এবং তাদের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা সৃষ্টি করতে হবে।

সালমান এফ রহমান আরও বলেন, শেয়ারবাজারের উন্নয়নে সুদহার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে সুদহার ১৭-১৮ শতাংশ বেশি বলে এক সময় বলতেন। এই বেশির কারণে খেলাপি ঋণ বেশি হয় বলে জানাতেন তিনি। যে কারনে উনি সুদহার কমানোর উদ্যোগ নেন। যার ধারাবাহিকতায় সুদহার সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ করে দেন।

তিনি বলেন, এফডিআর’র সুদহার এখন ৬ শতাংশের নিচে। তবে আমাদের সুকুক থেকে ৯ শতাংশ হারে দেওয়া হবে। এ কারণে এটি নিয়ে খুবই আশাবাদী ছিলাম। কিন্তু পাবলিকের কাছ থেকে সেভাবে সাড়া পাইনি। তবে প্রাতিষ্ঠানিকদের অংশগ্রহণ ভালো ছিল। পাবলিকের সাড়া না পাওয়ার পেছনে সুকুকটির বিষয়ে ভালোভাবে তুলে ধরতে না পারা কারণ হিসেবে কাজ করেছে বলে আমার মনে হয়। অথচ এফডিআরওয়ালাদের জন্য সুকুক খুবই আকর্ষণীয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএসইসি চেয়্যারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, আমরা সুকুক নিয়ে একটা কাজ করলাম, উদ্বোধন করলাম এবং আজকে থেকে এর ট্রেড শুরু হলো। যত বাধা-বিপত্তিই থাকুক সামনে আরও নতুন নতুন কাজ করবো। আমাদের সামনে গ্রিন বন্ড অনেকগুলো চলে আসছে, আমাদের ডেরিভেটিভস নিয়ে কিছু কাজ করছি, সেটা চলে আসবে।

তিনি বলেন, বেক্সিমকো গ্রুপ বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া প্রথম প্রাইভেট কোম্পানি। যারা স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে প্রাইভেট কোম্পানি হিসেবে এক্সপোর্ট-ইমপোর্টের লাইসেন্স পেয়েছে। তারপর থেকেই ওনাদের যোগ্য যারা নেতৃত্বে আছেন, তারা সবাই এই কোম্পানিটিকে একটি করপোরেট প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন। করপোরেট কালচার বলতে আমরা যে জিনিসটা মিন করি, এটা কিন্তু ওনারা ৭০ দশকে শুরু করেছেন। যেটা আজকেও আমরা অনেক জায়গায় দেখতে পাই না। যদিও সে কালচারটা আমাদের খুব দরকার।

বিএসইসি চেয়্যারম্যান বলেন, যখন কেউ এই মার্কেটকে চিনতো না, তখন বেক্সিমকো গ্রুপ এই মার্কেটে এসে অনেক নতুন নতুন ইনোভেটিভ এনে আমাদের দেখিয়েছেন। আজকে এই গ্রুপটিই প্রথম সাহসিকতার সঙ্গে নতুন আরেকটি প্রোডাক্ট নিয়ে আসলো। আমাদের আজকের প্রধান অতিথি (সালমান এফ রহমান) একজন খুবই ইনোভেটিভ এবং সাহসী ব্যবসায়ী। তিনি নতুন নতুন ইনোভেটিভ প্রোডাক্ট নিয়ে আসতে খুবই পছন্দ করেন। খালি ক্যাপিটাল মার্কেট নয়, তিনি অন্যান্য আরও অনেক কিছু করার চেষ্টা করছেন। যেগুলো বাংলাদেশে প্রথম আসতে যাচ্ছে।