করোনাকালেও দোহার নবাবগঞ্জের উন্নয়ন হয়েছে: সালমান এফ রহমান

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা, ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য সালমান এফ রহমান বলেছেন, করোনাকালেও দোহার নবাবগঞ্জের উন্নয়ন হয়েছে। কথা দিয়েছি দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলাকে মডেল উপজেলায় রূপান্তর করবো। উন্নয়নে যা যা কথা দিয়েছি বাস্তবায়ন করবো।

‘মুজিব শতবর্ষ’ উপলক্ষে গতকাল বিকালে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার নয়নশ্রী ইউনিয়নের দেওতলা নবারুণ সংঘ আয়োজিত ইছামতি নদীতে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সালমান এফ রহমান বলেন, আমরা মহামারি কাটিয়েছি। এই মহামারি কাটিয়ে আবার অর্থনীতির চাকা সচল হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী, জননেত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্বে করোনাকালেও দেশের উন্নয়ন অব্যাহত ছিল। আমাদের দোহার নবাবগঞ্জেও উন্নয়ন হয়েছে।
সালমান এফ রহমান নৌকা বাইচ উপভোগ করেন।

এ সময় হাত নেড়ে অভিবাদন জানান নদীর দু’পাশে থাকা এলাকাবাসীকে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দোহার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আলমগীর হোসেন ও নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন আহমেদ ঝিলু।

নৌকা বাইচ উপলক্ষে এলাকাজুড়ে উৎসবের আমেজ ছিল। ইছামতির দু’পার সাজানো হয়েছিল বর্ণিল সাজে। বাংলাদেশ ও পাকিস্তান জন্মের আগ থেকেই এ অঞ্চলে বাংলা সনের ভাদ্র মাসে মাসব্যাপী নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। তবে করোনার কারণে দু’বছর পর এবার বাংলা সনের আশ্বিন মাসে এ আয়োজন করা হয়। এখন নদীতে পানি না থাকার কারণে মাসব্যাপী আর নৌকা বাইচ হয় না। তারপরও ইছামতি নদীর কমপক্ষে ৮-১০টি পয়েন্টে নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়। এবারের সবচেয়ে বড় নৌকা বাইচের আয়োজন ছিল এটি।

ঐতিহ্য অব্যাহত রাখা ও মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে এ বাইচ অনুষ্ঠিত হয়। বাইচ শেষে দেওতলা নবারুণ সংঘ ও নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার সভাপতি মো. মাসুদ মোল্লার সভাপতিত্বে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান করা হয়।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বক্তৃতায় নেতাকর্মীরা নদীর আগের যৌবন ফিরিয়ে আনার জন্য ড্রেজিং এবং ইছামতি-পদ্মা নদীর সংযোগস্থলে স্লুইসগেট নির্মাণের দাবি জানান।

বাইচে বিশালাকৃতির ৭টি ঘাসি নৌকা, খেলনা নৌকা, কোষা নৌকা অংশগ্রহণ করতে রেজিস্ট্রেশন করে। মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর, মানিকগঞ্জের হরিরামপুর, সিংগাইর এবং ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ থানার আকর্ষণীয় বিশালাকৃতির নৌকা অংশগ্রহণ করে। নদীর দু’পাড় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে লাখ মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা যায়।
নৌকা বাইচ ঐতিহ্য রক্ষা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক রাশিম মোল্লা বলেন, নবাবগঞ্জে কয়েকশ’ বছরের ঐতিহ্য নৌকা বাইচ। কিন্তু বিগত বেশকিছু বছর ধরে নদীতে পানি না থাকায় এ ঐতিহ্যে কিছুটা ভাটা পড়েছে। এছাড়াও নদী-নির্ভর জেলে সম্প্রদায়ের জীবিকা নির্বাহ করা কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে। আর এ সমস্যার সমাধানে প্রয়োজন পদ্মা নদীর সঙ্গে ইছামতি নদীর সংযোগ করে সোনাবাজু বেড়িবাঁধে সু্লইসগেট নির্মাণ করা।

এ ব্যাপারে দেওতলা নবারুণ সংঘের সভাপতি মো. মাসুদ মোল্লা (মাসুদ রানা) বলেন, গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য প্রতি বছরই গ্রামবাসীর সহায়তায় নৌকা বাইচের আয়োজন করি। কিন্তু গত দুই বছর মহামারি করোনার কারণে আমরা এ আয়োজন থেকে বিরত ছিলাম। তবে এ বছর করোনার প্রাদুর্ভাব কম থাকায় সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমতি সাপেক্ষে নৌকা বাইচের আয়োজন করেছি।