স্বাধীন শরিয়াহ বোর্ডের অভাব ইসলামী ব্যাংকগুলোকে ঝুঁকিতে ফেলেছে
প্রযুক্তিগত দুর্বলতা ও ঋণঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বা তদারকির ঘাটতির কারণে দেশের ব্যাংক খাতে দুর্বল অবস্থা তৈরি হয়নি। বরং সংকট গভীর হয়েছে মূলত রাজনৈতিক প্রভাব ও নৈতিক ব্যর্থতার কারণে। ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে যোগ্যতার বদলে রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা ও পৃষ্ঠপোষকতা প্রাধান্য পেয়েছে। ফলে সৎ ব্যাংকাররা নিরুৎসাহিত হয়েছেন। অন্যদিকে ইচ্ছাকৃত খেলাপিরা বারবার ঋণ নেয়ার সুযোগ পেয়েছেন। শুধু শরিয়াহভিত্তিক কাঠামো থাকলেই নৈতিকতা নিশ্চিত হয় না। রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, দুর্বল শাসন ব্যবস্থা ও স্বাধীন শরিয়াহ বোর্ডের অভাব ইসলামী ব্যাংকগুলোকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) গতকাল আয়োজিত ‘আন্তর্জাতিক ইসলামী অর্থায়ন ও ব্যাংকিং সম্মেলন ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে এ কথা বলেন বক্তারা। সেন্ট্রাল শরিয়াহ বোর্ড ফর ইসলামিক ব্যাংকস অব বাংলাদেশ ও ঢাবির ফাইন্যান্স বিভাগ যৌথভাবে দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনের আয়োজন করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান। উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ অরলিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কবির হাসান এবং অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড অডিটিং অর্গানাইজেশন ফর ইসলামিক ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনসের (আআওফি) বোর্ড অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড এথিকসের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ফররুখ রেজা। এ সময় স্বাগত বক্তব্য রাখেন ঢাবির ফাইন্যান্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এইচ এম মোশাররফ হোসেন ও সেন্ট্রাল শরিয়াহ বোর্ড ফর ইসলামিক ব্যাংকস অব বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল মুফতি মুহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহ বাকী আন-নাদভী।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউনাইটেড ফাইন্যান্স পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম ও বাংলাদেশ ব্যাংকের শরিয়াহ অ্যাডভাইজরি বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আবু বকর রফিক।
সম্মেলনের প্রথম দিনে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে ইসলামী অর্থায়ন নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা একাধিক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এছাড়া ‘বাংলাদেশে ইসলামী অর্থায়ন শিক্ষা’ শীর্ষক এক প্যানেল আলোচনায় শিক্ষাক্রম উন্নয়ন, গবেষণা ও দক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়েও কথা বলেন বক্তারা।


