ভূরাজনৈতিক উত্তেজনায় আরো বাড়তে পারে স্বর্ণের দাম

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অধিকাংশ আমদানি পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন। নির্দিষ্ট কিছু দেশের ক্ষেত্রে তা আরো বাড়ানো হয়েছে। তার এমন সিদ্ধান্তের পর বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যযুদ্ধ তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সাধারণত মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধিসহ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়। এমন প্রেক্ষাপটে চলতি ও আগামী বছরের জন্য স্বর্ণের মূল্য নিয়ে দেয়া পূর্বাভাস আবার সংশোধন করেছে ব্রিটিশ বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক ও আর্থিক পরিসেবা প্রতিষ্ঠান এইচএসবিসি। খবর রয়টার্স।
গত বুধবার প্রকাশিত এক নোটে ব্যাংকটি জানায়, ২০২৫ ও ২৬ সালে স্বর্ণের গড় মূল্য দাঁড়াতে পারে যথাক্রমে আউন্সপ্রতি ৩ হাজার ১৫ ও ২ হাজার ৯১৫ ডলার। এর আগে দেয়া পূর্বাভাসে এ পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ২ হাজার ৬৮৭ ও ২ হাজার ৬১৫ ডলার।
এইচএসবিসি বলছে, ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির পরিবর্তন ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মতো ঝুঁকি স্বর্ণের দামের পূর্বাভাস সংশোধনের অন্যতম কারণ। বিনিয়োগ ব্যাংকটির মতে, চলতি ও আগামী বছর কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো স্বর্ণ ক্রয় অব্যাহত রাখবে। দাম ৩ হাজার ডলারের ওপরে উঠলে ক্রয় কমে যেতে পারে। তবে ২ হাজার ৮০০ ডলারের কম দামে বেচাকেনা হলে ক্রয় বাড়বে।
এইচএসবিসির পূর্বাভাস অনুযায়ী, সামনের দিনগুলোয় স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ডলারের নিচে অথবা ২ হাজার ৭০০ ডলারের কাছাকাছি বা আরো কমে গেলে মুনাফা উঠিয়ে নেয়ার উদ্দেশ্যে বিক্রি বাড়াবেন বিনিয়োগকারীরা। তবে এক্ষেত্রে গহনা খাতে চাহিদা বৃদ্ধিসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ক্রয়ও বেড়ে যেতে পারে।
ব্যাংকটি আরো জানায়, ২০২৫ সালের শেষের দিকে ডলারের বিনিময় হার ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে। এতে স্বর্ণের দামের ঊর্ধ্বমুখিতা ব্যাহত হবে।
গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) তিন ধাপে মোট ১০০ শতাংশীয় পয়েন্ট সুদহার কমিয়েছে। তবে মার্চে ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েল বলেন, ‘আমরা তাড়াহুড়ো করে কোনো পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছি না।’
উল্লেখ্য, যেকোনো অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনায় আপৎকালীন বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ে। তবে সুদহার বেড়ে গেলে মূল্যবান ধাতুটির চাহিদা কমে যায়।
এদিকে স্বর্ণের বাজারের বিনিয়োগকারীরা ট্রাম্পের সর্বশেষ শুল্ক ঘোষণার প্রভাব বিশ্লেষণ করছেন। একই সঙ্গে ফেডের আর্থিক নীতিমালা সম্পর্কে স্পষ্টতা পেতে নজর এখন যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি ছাড়া অন্যান্য খাতের কর্মসংস্থানের তথ্যের দিকে।
স্পট মার্কেটে গতকাল স্বর্ণের দাম কমেছে দশমিক ৯ শতাংশ। প্রতি আউন্সের মূল্য স্থির হয়েছে ৩ হাজার ৮৬ ডলার ৩২ সেন্টে। এদিন যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটে মূল্যবান ধাতুটির দাম দশমিক ৪ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি মূল্য স্থির হয়েছে ৩ হাজার ১০৭ ডলার ৭০ সেন্টে।
মার্কেটপালস-বাই-ওয়ান্ডার বিশ্লেষক জেইন ভাওদা বলেন, ‘স্বর্ণের দামের নিম্নমুখিতা মুনাফা তুলে নেয়ার লক্ষ্যে বিক্রি বাড়ানোর ফলাফল। আবার কিছুটা বাজারে ঘোষিত শুল্কের প্রভাবও প্রতিফলিত হচ্ছে। একই সঙ্গে অনেক দেশ আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক কমাতে পারে। এ প্রত্যাশাও শুল্কে দামের ঊর্ধ্বগতিকে কিছুটা সীমিত করে রেখেছে।’