বাংলাদেশে আসছেন ৫০ দেশের ৫৫০ বিনিয়োগকারী

বাংলাদেশে বিদেশী প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) বাড়াতে আগামী ৭-১০ এপ্রিল রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অনুষ্ঠিত হবে ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট সামিট ২০২৫’। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) আয়োজিত এ সম্মেলনে অংশ নেবেন ৫০টি দেশের ৫৫০-এর বেশি বিনিয়োগকারী।
এ সামিটের মূল লক্ষ্য বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা তুলে ধরা, সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সংস্কার প্রদর্শন এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ সংযোগ তৈরি করা। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট সামিট ২০২৫’-এর উদ্বোধন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘এরই মধ্যে ৫০টি দেশের ২৩০০-এর বেশি বিনিয়োগকারী নিবন্ধন করেছেন। যার মধ্যে ৫৫০ জনের বেশি বিদেশী বিনিয়োগকারী রয়েছেন। চীন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, সিঙ্গাপুর ও জাপানসহ বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতির দেশগুলো থেকে বিনিয়োগকারীরা এ সম্মেলনে অংশ নেবেন।’
সামিটে করপোরেট জগতের শীর্ষ ব্যক্তিরা অংশ নিচ্ছেন। যার মধ্যে রয়েছেন জারা গ্রুপের সিইও অস্কার গার্সিয়া মেসেইরাস, ডিপি ওয়ার্ল্ডের চেয়ারম্যান সুলতান আহমেদ বিন সুলাইয়েম, ব্রিটিশ ব্যারোনেস রোজি উইন্টারটন, স্যামসাং সিঅ্যান্ডটির ভাইস প্রেসিডেন্ট কিয়ংসু লি, গিওর্দানোর সিইও জুনসিওক হান, এক্সিলারেট এনার্জির প্রেসিডেন্ট স্টিভেন কোবোস, এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের উবারের পাবলিক পলিসি প্রধান মাইক অর্গিল এবং মেটার পাবলিক পলিসি ডিরেক্টর সারিম আজিজ। এছাড়া বি ক্যাপিটাল, গবি, কনজাংশন, মারুবেনি ও জিএফআরের মতো ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠানগুলো স্টার্টআপ বিনিয়োগ ও ডিজিটাল অর্থনীতির প্রসারে কাজ করবে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও ধনকুবের ইলোন মাস্ক বাংলাদেশ বিজনেস সামিটে আসছেন না। এ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, ‘ইলোন মাস্ক এলে এতদিনে আপনারা জানতে পারতেন। ইলোন মাস্ক এখন মার্কিন সরকারের অংশ। স্টারলিংকের হয়ে আগে বিভিন্ন দেশ পরিদর্শন করলেও এখন পরিস্থিতি ভিন্ন।’
আশিক চৌধুরী আরো বলেন, ‘স্টারলিংকের কর্মকর্তারা আগামী ৯ এপ্রিল ডেমো সেশন করবেন। ওইদিন সরকারি কর্মকর্তারা যারা হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বিনিয়োগ সম্মেলনে আসবেন তারা টেস্টিং সেশনে অংশগ্রহণ করবেন। প্রকৃতপক্ষে স্টারলিংকের কমার্শিয়াল অপারেশন শুরু হতে আরো কিছুদিন সময় লাগবে।
আমাদের ৯০ দিনের লক্ষ্য এখনো মাথায় আছে। যখন লঞ্চ করব তখন আমরা ওনাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে দেখব উনি (ইলোন মাস্ক) ওই সময় আসার জন্য আমাদেরকে সময় দিতে পারেন কিনা। আমরা তাকে আতিথেয়তা দিতে পারলে খুশি হব।’
এদিকে সামিটের অংশ হিসেবে বিনিয়োগকারীদের নিয়ে সরাসরি শিল্প ও অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ৭ এপ্রিল দক্ষিণ কোরিয়ার ২৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলসহ বিনিয়োগকারীরা চট্টগ্রাম, মিরসরাই ও কোরিয়ান ইপিজেড পরিদর্শন করবেন। একই দিনে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে স্টার্টআপ সংযোগ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে। ৮ এপ্রিল বিনিয়োগকারীরা নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে অবস্থিত বাংলাদেশ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন করবেন। ওইদিনের শেষভাগে একটি বিশেষ নেটওয়ার্কিং অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে।
৯ এপ্রিল সামিটের মূল আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত, নীতিনির্ধারক, শীর্ষ ব্যবসায়ী এবং বিনিয়োগকারীরা উপস্থিত থাকবেন। এদিনে তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য স্টার্টআপ এক্সপো অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে তারা নিজেদের উদ্যোগ তুলে ধরার সুযোগ পাবেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউএনডিপির আয়োজনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর একটি ব্রেকআউট সেশন অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া বাংলাদেশের নিজস্ব সংস্কৃতি বৈচিত্র্য তুলে ধরতে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় একটি বিশেষ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হবে।
১০ এপ্রিল সামিটে বিভিন্ন ব্রেকআউট সেশন অনুষ্ঠিত হবে, যার মধ্যে রয়েছে ডিজিটাল অর্থনীতি (সিটি এনএ ও ইউএনডিপি), টেক্সটাইল (এইচএসবিসি, বিজিএমইএ), কৃষি ও কৃষি-প্রক্রিয়াকরণ (ডাচ্ দূতাবাস ও এলসিপি) এবং স্বাস্থ্যসেবা খাত (ইন্সপিরা, ইবিএল ও সাজিদা ফাউন্ডেশন) নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। এছাড়া বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ ম্যাচমেকিং সেশন এবং সেরা বিনিয়োগ চর্চা নিয়ে রাউন্ড টেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
সামিটে বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ মিটিং রুম বরাদ্দ থাকবে, যার মধ্যে বোর্ডরুম, লাউঞ্জ, মধুমতি ও তুরাগ কনফারেন্স হল এবং হোটেলের দ্বিতীয় তলায় নেটওয়ার্কিং স্পেস অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এ সম্মেলনের পার্টনার হিসেবে থাকছে ইউএনডিপি, এফসিডিও, গ্রামীণফোন, বিশ্বব্যাংক এবং ফিকি, যারা একসঙ্গে কাজ করবে বাংলাদেশের বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে।
সংবাদ সম্মেলনে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, ‘অনেক বিদেশী বিনিয়োগকারী এখনো বাংলাদেশের প্রকৃত বিনিয়োগ পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন নন। এ সামিটের মাধ্যমে তারা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, বিনিয়োগবান্ধব নীতি এবং সংস্কৃতি সম্পর্কে আরো ভালোভাবে জানতে পারবেন। বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট সামিট ২০২৫ দেশের বিনিয়োগ খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।’