দুদক এনফোর্সমেন্ট ইউনিটে অভিযোগের বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ

বিডিএফএন টোয়েন্টিফোর.কম

পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর, ঢাকা-এর শিক্ষা পরিদর্শকের বিরুদ্ধে মিনিস্ট্রি অডিটের নামে ২০০ জন শিক্ষক-কর্মচারীর পুরো একমাসের বেতনের অর্ধকোটি টাকা ঘুষ হিসাবে নেওয়ার অভিযােগের প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন, প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সিলভিয়া ফেরদৌস (দলনেতা) ও মো: আবুল কালাম আজাদ এর সমন্বয়ে গঠিত একটি টিম আজ ১২.০৫.২০২২ খ্রি. তারিখে একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করেছে। এনফোর্সমেন্ট টিম সরেজমিনে শিক্ষা ভবন পরিদর্শন করে। সেখানে দায়িত্ব প্রাপ্ত পরিচালক এর অনুপস্থিতে যুগ্ম পরিচালক বিপুল চন্দ্র সরকার এর সাথে অভিযােগের বিষয় নিয়ে আলােচনা করা হয়। উক্ত অভিযােগের বিষয়ে রেকর্ডপত্র সংগ্রাহ প্রক্রিয়া চলমান আছে। কোন প্রকার ঘুষ প্রদান করা হয়েছে কি না তা যাচাই-বাছাই করে বিস্তারিত প্রতিবেদন কমিশনে দাখিল করবে দুদক টিম।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের বিচ রক্ষা ও উন্নয়ন প্রকল্পে নিম্নমানের বালু দিয়ে টিউব ও জিও ব্যাগ ভর্তি করার অভিযােগে কুয়াকাটায় দুদক, সজেকা, পটুয়াখালীর সহকারী পরিচালক মো. আরিফ হোসেনের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালিত হয়েছে। সরেজমিনে অভিযানকালে দেখা যায়, সৈকত রক্ষার্থে ২ কিলোমিটার এলাকায় জিও টিউভ বসানোর কাজ চলমান রয়েছে। আনুমানিক ৬০% কাজ সমাপ্ত হয়েছে। ২ কিলোমিটার এলাকায় ১২৭ টি জিও টিউবের মধ্যে ৮৭ টি স্থাপন করা হয়েছে। বাকিগুলোর কাজ চলমান রয়েছে যার মেয়াদ আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত রয়েছে। অভিযানকালে জিও টিউব ও ব্যাগ পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়েছে। অভিযানকালে কুয়াকাটা সৈকত এলাকায় গর্ত করে বালি উত্তোলনের কোন চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় প্রায় অর্ধ শতাধিক ব্যক্তিবর্গকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়, ট্রাকে করে বালি এনে সৈকতে একটি অস্থায়ী কুয়া খনন করে নিচে পলিথিন ব্যবহার করে সেখানে বালির সাথে পানি মিশিয়ে তরল করা হয়েছে। যা পরবর্তীতে জিও ব্যাগ ও টিউবে ভরা হয়েছে। যেহেতু প্রকল্পটি চলমান রয়েছে, বাকি কার্যক্রম সঠিকভাবে সম্পাদনের জন্য দুদক টিমের পক্ষ থেকে ঠিকাদারের প্রতিনিধিকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। শ্রীঘ্রই রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে দুদক টিম কমিশন বরাবর এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রেরণ করবে।

আঞ্চলিক পাসপাের্ট অফিস, নােয়াখালী-এর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গ্রাহকের পাসপাের্ট সেবা প্রদানে ঘুষ দাবি ও হয়রানির অভিযােগে দুর্নীতি দমন কমিশন, সমন্বিত জেলা কার্যালয়, নোয়াখালীর উপসহকারী পরিচালক আরিফ আহম্মদ ও সহকারী পরিদর্শক মোঃ শরিফুল ইসলাম এর সমন্বয়ে গঠিত চার সদস্যের এনফোর্সমেন্ট টিম কর্তৃক উক্ত অফিসে এক অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে ছদ্মবেশে টিম পাসপোর্ট অফিস ও তার আশেপাশের বিভিন্ন ফটোকপির দোকান পর্যবেক্ষণ করেন। পর্যবেক্ষণ কালে টিম বিভিন্ন সেবা গ্রহীতার সাথে কথা বলে জানতে পারে যে, তাদের নিজ নিজ এলাকায় বিভিন্ন দালালের মাধ্যমে পাসপোর্ট এর জন্য নির্ধারিত সরকারির ফি’র অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে আবেদন করেছেন।

উক্ত দালালদের সম্পর্কে তথ্য দিতে সেবা গ্রহীতারা অনিচ্ছুক। টিম পাসপোর্ট অফিসে ছদ্মবেশে জিজ্ঞাসাবাদ করে কোন দালালের সন্ধান পায়নি। এ ব্যাপারে পাসপোর্ট অফিসের উপ-পরিচালক টিমকে জানায়, তার অফিসে সেবা গ্রহীতা ব্যতীত বহিরাগতদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষেধ। টিম পাসপোর্ট অফিসে কর্মরত সকল কর্মচারীকে সতর্ক করে এবং আশেপাশের ফটোকপির দোকানগুলোকে মৌখিকভাবে সতর্ক করে। এ ব্যাপারে পরবর্তীতে টিম বিস্তারিত প্রতিবেদন কমিশনে দাখিল করবে।

এছাড়াও দুদক অভিযোগ কেন্দ্রে (হটলাইন-১০৬) আগত অভিযোগের প্রেক্ষিতে ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক কমিশনকে অবহিত করার জন্য ৫টি দপ্তরে দুদক এনফোর্সমেন্ট ইউনিট হতে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে।