সৈয়দ আলমগীর; যার পরিচয় ‘মার্কেটিং সুপারস্টার’


বিশেষ প্রতিবেদক


আকিজ ভেঞ্চারসের গ্রুপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সৈয়দ আলমগীর।
দেশের করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর সিইওদের মধ্যে সৈয়দ আলমগীর স্বনামখ্যাত। তাঁর দেওয়া স্লোগান ‘শতভাগ হালাল সাবান’ একসময় একটি নতুন সাবানের ব্র্যান্ডকে বাজারের শীর্ষে তুলেছিল। এ ছাড়া ভোগ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বা ফাস্ট মুভিং কনজ্যুমার গুডস (এফএমসিজি) খাতের নানা পণ্যকে জনপ্রিয় করেছেন তিনি।

মার্কিন বিপণন বিশেষজ্ঞ কোটলারের বিখ্যাত বই ‘প্রিন্সিপালস অব মার্কেটিং’–এর একটি সংস্করণে হালাল সাবানের বিপণন কৌশলটি একটি ‘কেস স্টাডি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।

সৈয়দ আলমগীর ১৯৯৮ সালের জানুয়ারিতে এসিআই কনজ্যুমার ব্র্যান্ডসে নির্বাহী পরিচালক হিসেবে যোগ দেন। কনজ্যুমার ব্র্যান্ডসের অধীনে গ্রুপটির খাদ্য ও নিত্যব্যবহার্য বিভিন্ন পণ্যের ব্যবসা দেখাশোনা করতেন তিনি।

আলমগীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউট থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ক্যাসলস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। আলমগীর আইবিএ থেকে পড়াশোনা শেষে, মে অ্যান্ড বেকার লিমিটেডে তার কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। তিনি ১৯৯২ সালে গ্রুপ মার্কেটিং ডিরেক্টর হিসেবে যমুনা গ্রুপে যোগদান করেন। ১৯৯৮ সালে এসিআই লিমিটেডে এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর পদে যোগদান করেন এবং পরবর্তীতে ম্যানেজিং ডিরেক্টর পদে উন্নীত হন। সৈয়দ আলমগীর এসিআই কনজিউমার ব্র্যান্ডস, এসিআই সল্ট লিমিটেড, এসিআই পিওর ফ্লাওয়ার লিমিটেড এবং এসিআই ফুডস লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ছিলেন। তিনি এসিআইয়ের বৈদেশিক যৌথ ভেনচারসহ বেশ কয়েকটি সংস্থার বোর্ড সদস্য। আলমগীর বেশ কয়েক বছর নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, সাউথ ইস্ট বিশ্ববিদ্যালয় এবং ড্যাফোডিল আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্টটাইম ফ্যাকাল্টি ছিলেন।

এছাড়াও তিনি দেশে-বিদেশে বিপনন খাতে আরও অনেক পুরস্কার অর্জন করছেন। পাশাপাশি আলমগীর জাতি সংঘের অঙ্গ সংস্থা ইউনিসেফের বেসরকারি সেক্টরের উপদেষ্টা বোর্ডের একজন সদস্য। তিনি অন্যান্য বেশ কয়েকটি সংঘেরও সভাপতিত্ব করেন।

তার ভিশন সম্পর্কে সৈয়দ আলমগীর বলেন, আমাদের লক্ষ্য হলো আকিজ কোম্পানিকে দেশের অন্যতম বড় কোম্পানিতে পরিণত করা। আকিজ সাহেবের মোরালিটি অনুযায়ী, দেশ-জাতির জন্য বিশুদ্ধ ও স্বাস্থ্যসম্মত পণ্য সেবা দেয়া। আমরা বাংলাদেশের মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজনে লাগে এমন ৮-১০টি প্রডাক্ট বাজারে নিয়ে আসবো, যা হবে আকিজের স্ট্যান্ডার্ড সম্মত ও গুণাগুণসম্পন্ন পণ্য সেবা। আকিজের স্ট্যান্ডার্ড বলতে বুঝাতে চাচ্ছি যে, আমরা যে ড্রিংকস ও জুস তৈরি করছি সেগুলোর জন্যও চায়না মেশিন নয়, জার্মান মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে আপনি বলতে পারেন যে আমরা এখনও অন্যান্য কোম্পানির তুলনায় লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারিনি। আশা করছি, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে আমরা সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব।