হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে প্রধান কার্যালয়ের জন্য ভবন কিনবে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক
করপোরেট প্রধান কার্যালয়ের জন্য রাজধানী মতিঝিলে একটি বাণিজ্যিক ভবন কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ডাচ্-বাংলা ব্যাংক পিএলসি। এ ভবন কিনতে ব্যাংকটির সম্ভাব্য ব্যয় হতে পারে ১ হাজার ১৬ কোটি ২১ লাখ টাকা। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
তথ্যানুসারে, মতিঝিলে সাড়ে ২১ তলা ভবন কিনবে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক। ভবনের মোট আয়তন ২ লাখ ৭ হাজার ৩৪০ বর্গফুট। এর মধ্যে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৩০০ বর্গফুট ফ্লোর স্পেস এবং ৩১ হাজার ৪০ বর্গফুট বেজমেন্ট। এ সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন সাপেক্ষে কার্যকর হবে।
চলতি ২০২৫ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ৯ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ২ টাকা ১১ পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত)। আলোচ্য হিসাব বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) ব্যাংকটির ইপিএস হয়েছে ১৭ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৭৮ পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত)। ৩০ জুন ২০২৫ শেষে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৫৩ টাকা ৪৫ পয়সায়।
সর্বশেষ ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ১০ শতাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছে ব্যাংকটির পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ইপিএস হয়েছে ৫ টাকা ৩৯ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৯ টাকা ১২ পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত)। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ শেষে ব্যাংকটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৫৮ টাকা ৭২ পয়সায়।
৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ১৭ দশমিক ৫০ শতাংশ নগদ ও ১৭ দশমিক ৫০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছে ব্যাংকটি। আলোচ্য হিসাব বছরে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ইপিএস হয়েছে ১০ টাকা ৭২ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৭ টাকা ৫৭ পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত)। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ শেষে ব্যাংকটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৬৪ টাকা ৪১ পয়সায়।
৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২২ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের মোট ২৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে ব্যাংকটি। এর মধ্যে ১৭ দশমিক ৫০ শতাংশ নগদ ও ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ স্টক। আলোচ্য হিসাব বছরে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ইপিএস হয়েছে ৮ টাকা ১৪ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৭ টাকা ৯৯ পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত)। ৩১ ডিসেম্বর ২০২২ শেষে ব্যাংকটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৫৯ টাকা ৮৫ পয়সায়।
৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২১ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের মোট ২৭ দশমিক ৫০ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক। এর মধ্যে ১৭ দশমিক ৫০ শতাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ স্টক। আলোচ্য হিসাব বছরে ব্যাংকটির ইপিএস হয়েছে ৮ টাকা ৭৯ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৮ টাকা ৬৯ পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত)। ৩১ ডিসেম্বর ২০২১ শেষে ব্যাংকটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৫৩ টাকা ১৩ পয়সায় (পুনর্মূল্যায়িত)।
ডাচ-বাংলা ব্যাংকের সর্বশেষ সার্ভিলেন্স রেটিং দীর্ঘমেয়াদে ‘ট্রিপল এ’ ও স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি ওয়ান’। ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৪ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং রেটিং ঘোষণার দিন পর্যন্ত প্রাসঙ্গিক অন্যান্য গুণগত ও পরিমাণগত তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রত্যায়ন করেছে ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (সিআরএবি)।
২০০১ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন ১ হাজার ৫০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ৯৬৬ কোটি ৭০ লাখ ১০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৪ হাজার ১৯৩ কোটি ১ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ৯৬ কোটি ৬৭ লাখ ১ হাজার ১৩৯। এর ৮৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৬ দশমিক ৮০ শতাংশ, বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কাছে দশমিক শূন্য ৩ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৯ দশমিক ৬১ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।


