শিরোনাম

South east bank ad

বকেয়া বীমা দাবি পরিশোধে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার

 প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ন   |   কর্পোরেট

বকেয়া বীমা দাবি পরিশোধে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার

বীমা খাতে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা গ্রাহকদের বকেয়া দাবি পরিশোধকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ শুরু করার কথা জানিয়েছেন বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন।

একই সঙ্গে দুর্বল বীমা কোম্পানির সম্পদ ব্যবস্থাপনা, কমিশন বাণিজ্য বন্ধ, ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি চালু ও অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

গতকাল গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে আইডিআরএ চেয়ারম্যান এসব পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি জানান, বীমা খাতের সবচেয়ে বড় সংকট বর্তমানে গ্রাহকের আস্থার ঘাটতি। দ্রুত বকেয়া দাবি পরিশোধ শুরু করা গেলে গ্রাহকের আস্থা ফিরবে এবং এরপর পুরো খাতকে স্থিতিশীল অবস্থায় নেয়া সহজ হবে। গত দুই সপ্তাহে সবচেয়ে সংকটাপন্ন সাতটি বীমা কোম্পানির মালিক পক্ষ ও প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠক করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এসব প্রতিষ্ঠানের সম্পদ, বিনিয়োগ ও আর্থিক সক্ষমতা পর্যালোচনা করা হয়েছে। সন্দেহজনক সম্পদের ক্ষেত্রে পুনর্মূল্যায়নের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এসব কোম্পানির জমি, ট্রেজারি বন্ড, বিনিয়োগ ও অন্যান্য সম্পদ পর্যায়ক্রমে নগদায়ন করে পৃথক ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হবে। প্রতিটি কোম্পানির জন্য আলাদা হিসাব পরিচালনা করা হবে এবং সেখানে অডিটরের সম্পৃক্ততা থাকবে। পরে ফার্স্ট ইন, ফার্স্ট আউট (এফআইএফও) পদ্ধতিতে আগে জমা পড়া দাবিগুলো আগে নিষ্পত্তি করা হবে।’

বর্তমানে লাইফ ও নন-লাইফ মিলিয়ে বীমা খাতে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকার বকেয়া দাবি রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এর মধ্যে সাতটি কোম্পানির কাছেই প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার দাবি আটকে আছে। তাই প্রাথমিকভাবে এসব প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করেই সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সম্পদ নগদায়নের ক্ষেত্রে এফডিআর, সরকারি ট্রেজারি বন্ড, বিক্রিযোগ্য জমি ও অন্যান্য বিনিয়োগকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংকে থাকা আমানতের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।’

বীমা খাতে অতিরিক্ত কমিশন বাণিজ্য বন্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে আইডিআরএ চেয়ারম্যান বলেন, ‘অনেক ক্ষেত্রে বেতন বা চুক্তির আড়ালে কমিশন দেয়া হচ্ছে। এ ধরনের অনিয়ম শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে এবং শিগগিরই দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়া হবে। প্রচলিত কমপ্লায়েন্সভিত্তিক তদারকির পরিবর্তে ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে নিয়মিত ও হালনাগাদ তথ্যের ভিত্তিতে কোম্পানির আর্থিক ঝুঁকি মূল্যায়ন করা হবে এবং অনিয়ম দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে।’

গ্রাহক সুরক্ষায় ইউনিক পলিসিহোল্ডার আইডি চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। বৈধ বীমা পলিসির বিপরীতে গ্রাহকের মোবাইল নম্বরে আইডি পাঠানো হবে। ভবিষ্যতে আইডি না পাওয়া পর্যন্ত কোনো গ্রাহক যেন প্রিমিয়াম পরিশোধ না করেন, সে বিষয়ে সচেতনতা কার্যক্রম চালানো হবে।

তিনি আরো বলেন, ‘প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক ডেটাবেজ, সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক ও ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর (সিআইবি) তথ্য ব্যবহার করে যাচাই প্রক্রিয়া শক্তিশালী করা হবে। এছাড়া গ্রাহকের দাবি পরিশোধ ও খাতকে স্থিতিশীল করার ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া এবং আত্মসাৎ করা অর্থ উদ্ধারের উদ্যোগ নেয়া হবে।’

BBS cable ad

কর্পোরেট এর আরও খবর: