আমদানি বন্ধে চাঙ্গা হচ্ছে নিম্নমুখী থাকা দেশী পেঁয়াজের বাজার
দেশে পেঁয়াজের বাজার কয়েক মাস ধরে ছিল অস্থিতিশীল। মৌসুমের শেষার্ধে মজুদ ফুরিয়ে আসায় নিত্যপণ্যটির অস্বাভাবিক দাম বেড়ে যাওয়ায় আমদানির অনুমতি দেয় সরকার। উৎপাদন মৌসুম শুরু হওয়ায় আবার আমদানি বন্ধ রাখা হয়েছে। এর ফলে থেমেছে দেশী পেঁয়াজের দরপতন। গত কয়েক দিনে মুড়িকাটা পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ৫-৭ টাকা বেড়ে লেনদেন হচ্ছে।
ভোগ্যপণ্যের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জ ও চাক্তাইয়ের বিভিন্ন আড়ত থেকে নেয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতি কেজি মুড়িকাটা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩৫-৪৮ টাকায়। এক সপ্তাহ আগেও সেটির দাম কমতে কমতে ৩০ টাকায় নেমে আসে। মূলত দেশের বাজারে ভারত থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ সরবরাহ কমে আসায় দেশী পেঁয়াজের চাহিদা বাড়ায় দামে প্রভাব পড়েছে। এ কারণে কেজিপ্রতি আমদানীকৃত পেঁয়াজের দামও ৮-১০ টাকা বেড়ে উঠে গেছে ৬০ টাকায়।
উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের তথ্যমতে, দেশে মূল্যবৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে গত ৭ ডিসেম্বর পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি (আইপি) দেয়া শুরু হয়। এ পর্যন্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ৭৪ হাজার ৬০০ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেয়া হলেও এর বিপরীতে ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশে এসেছে ৬২ হাজার ৩৬৮ টন। দেশী পেঁয়াজের উৎপাদন শুরু হওয়ায় ৫ জানুয়ারি থেকে নতুন করে আমদানির অনুমতি বন্ধ রাখা হয়। গত বছর মোট ১ লাখ ২৪ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে।
জানতে চাইলে খাতুনগঞ্জের বিসমিল্লাহ বাণিজ্যালয়ের স্বত্বাধিকারী মো. জসিম উদ্দিন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সরবরাহ সংকটে সরকার পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেয়। আমদানি ঘোষণার পর থেকেই ধীরে হলেও দাম কমতে থাকে। একপর্যায়ে দেশী ও আমদানীকৃত উভয় পেঁয়াজই ৬০-৭০ টাকায় নেমে যায়। অথচ আগে কেজিপ্রতি স্থানভেদে ১৫০ টাকারও বেশি দামে লেনদেন হয়েছিল। এখন আমদানি বন্ধ করে দেয়ায় দেশী পেঁয়াজের নিম্নমুখী দাম আবারো বাড়তে শুরু করেছে।’
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, এ বছর পেঁয়াজ উত্তোলনের ভরা মৌসুমেই রমজান পড়ায় চাহিদা বাড়বে। তবে দেশী পেঁয়াজের উৎপাদন এবং সীমিত পরিসরে আগের অনুমোদিত ভারতীয় পেঁয়াজের সরবরাহ থাকায় দাম বেশি বাড়ার কোনো কারণ নেই। আগামী সপ্তাহ থেকে হালি পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়লে বাজার আরো স্থিতিশীল হবে বলে আশা করছেন তারা।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, মসলাপণ্যের মধ্যে পেঁয়াজের কদর সবচেয়ে বেশি। স্বাভাবিক সময়ে সব শ্রেণীর মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় পেঁয়াজের চাহিদা রমজানে এসে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়। আবার আদা-রসুনের চাহিদাও এ সময় বেড়ে যায়। এ সুযোগে প্রতি বছর দাম ক্রমান্বয়ে বাড়লেও আসন্ন রমজানে তিনটি পচনশীল মসলাপণ্যে স্বস্তিতে থাকবেন ক্রেতারা।
খাতুনগঞ্জের হামিদউল্লাহ মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইদ্রিস বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দেশী পেঁয়াজ গত ১০-১১ মাস চাহিদা মিটিয়েছে। শুধু শেষ পর্যায়ে এসে মজুদ ফুরিয়ে আসায় দাম বেড়েছিল। সরকার সতর্কতার সঙ্গে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দিয়েছিল। এ কারণে প্রয়োজনের তুলনায় বাড়তি আমদানি হয়নি। এখন দেশে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন মৌসুম শুরু হওয়ায় আমদানিও বন্ধ হয়ে গেছে। কিছু কিছু প্রতিষ্ঠানের কাছে আগের আমদানি ও এলসি থাকায় সীমিত পরিসরে ভারতীয় পেঁয়াজ সরবরাহ হচ্ছে। আগামী সপ্তাহ থেকে পুরোদমে হালি পেঁয়াজ সরবরাহ শুরু হলে দেশের চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত হবে।’
ব্যবসায়ীরা জানান, আগের বছরগুলোয় উচ্চমূল্যের কারণে আদা ও রসুনের উৎপাদন ও আমদানি বেড়েছে। ফলে চলতি মৌসুমে বাজারে সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকায় দাম সহনীয় রয়েছে। পাইকারি বাজারে এ দুটি পণ্য গত বছরের একই সময়ের তুলনায় অন্তত ৪০-৫০ শতাংশ কম দামে বিক্রি হচ্ছে। বর্তমানে দেশী রসুন কেজিপ্রতি ৫৫-৮০ টাকা, আমদানীকৃত চীনা রসুন ১২৫-১৪০ টাকা এবং আমদানীকৃত আদা ৯০-১৩৫ টাকায় লেনদেন হচ্ছে। গত বছর একই সময়ে দেশী রসুনের দাম উঠেছিল ২২০ টাকা পর্যন্ত।


