শিরোনাম

South east bank ad

সরকারি সংস্থার আন্তঃসহযোগিতা বিনিয়োগ পরিবেশকে আরো উন্নত করতে পারে

 প্রকাশ: ৩১ মার্চ ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ন   |   আমদানী/রপ্তানী

সরকারি সংস্থার আন্তঃসহযোগিতা বিনিয়োগ পরিবেশকে আরো উন্নত করতে পারে

বাংলাদেশকে ঘিরে জাপানি কোম্পানিগুলোর আগ্রহ ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।

এখানকার বাজারের আকার, মধ্যবিত্তের উত্থান, স্বল্প শ্রমব্যয় ও ভোক্তা চাহিদা সম্প্রসারণের কারণে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সম্ভাবনাময় বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ব্যবসা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে নীতিগত জটিলতা ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। এক্ষেত্রে সরকারি বিভিন্ন সংস্থার আন্তঃসহযোগিতা বিনিয়োগ পরিবেশকে আরো উন্নত করতে পারে।

রাজধানীর একটি হোটেলে গতকাল ‘‌জাপান বিজনেস ডে’ উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে এসব বিষয় উঠে এসেছে। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে আয়োজন করেছে ঢাকার জাপান দূতাবাস ও জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেট্রো)। এতে সহায়তা করেছে জাপানিজ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন ইন ঢাকা (জেসিআইএডি) ও জাপান বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (জেবিসিসিআই)।

সেমিনারে বিদেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী জাপানি কোম্পানিগুলোর ওপর পরিচালিত এক জরিপের ফলাফল তুলে ধরা হয়। জেট্রো পরিচালিত ‘‌২০২৫ অর্থবছরে ‌বিদেশে (এশিয়া ও ওশেনিয়া) কার্যক্রম পরিচালনাকারী জাপানি কোম্পানিগুলোর ব্যবসায়িক পরিস্থিতির ওপর সমীক্ষা’ শীর্ষক ওই জরিপে বলা হয়, বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনা করে এমন ৫৭ শতাংশ জাপানি কোম্পানি আগামী এক-দুই বছরের মধ্যে এ দেশে তাদের ব্যবসা আরো সম্প্রসারণে আগ্রহী। এরই মধ্যে উৎপাদন খাতের ৪৭ দশমিক ৬ শতাংশ ও অনুৎপাদন খাতের ৬২ দশমিক ২ শতাংশ কোম্পানি রয়েছে। মূলত স্থানীয় বাজারে চাহিদা বৃদ্ধির কারণেই কোম্পানিগুলো তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে চায় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সেমিনারে জরিপের ফলাফল তুলে ধরেন জেট্রোর কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ কাজুইকি কাতাওকা। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ভোক্তা বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। ফলে কোম্পানিগুলোর অর্ধেকই ২০২৫ সালে তাদের ব্যবসায় মুনাফার আশা প্রকাশ করেছে। এছাড়া ২৯ দশমিক ৫ শতাংশ লাভ-লোকসান সমান সমান এবং ২০ দশমিক ৫ শতাংশ কোম্পানি লোকসানের আশঙ্কা করেছে। অন্যদিকে ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে মুনাফা বাড়বে—এমন প্রত্যাশা করেছে ৩৩ দশমিক ৩ শতাংশ কোম্পানি। আর চলতি বছরে মুনাফা বৃদ্ধির আশা করছে ৪৫ দশমিক ২ শতাংশ কোম্পানি।’

জরিপে দেখা গেছে, বাংলাদেশে পরিচালিত জাপানি কোম্পানিগুলোর জন্য সবচেয়ে বড় প্রতিযোগী স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো। ২৯ দশমিক ৪ শতাংশ জাপানি কোম্পানি এ কথা বলেছে। এছাড়া ২১ দশমিক ৬ শতাংশ কোম্পানি জাপানি এবং ১৯ দশমিক ৬ কোম্পানি চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উল্লেখ করেছে। প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে প্রতিষ্ঠানগুলো পণ্যের বৈচিত্র্য, বাজারভিত্তিক পণ্য উন্নয়ন ও স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্বে জোর দিচ্ছে। এর মধ্যে বাংলাদেশে ৩৪ দশমিক ১ শতাংশ কোম্পানি স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হিসেবে দেখছে।

সেমিনারে ‘‌বাংলাদেশের ভোক্তা বাজারে সাম্প্রতিক সময়ে জাপানের আগ্রহ’ শীর্ষক আরেকটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জেট্রোর ঢাকা কার্যালয়ের রিপ্রেজেন্টেটিভ তমতাকা মিনৌরা ও সিনিয়র ডিরেক্টর শরিফুল আলম। তারা বলেন, বাংলাদেশের ভোক্তা বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। ফলে দ্রুত পরিবর্তনশীল ভোগ্যপণ্য (এফএমসিজি), ইলেকট্রনিকস, স্বাস্থ্যসেবা ও খুচরা খাতে জাপানি কোম্পানির আগ্রহ বাড়ছে। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৩৫০টি জাপানি কোম্পানি কার্যক্রম চালাচ্ছে। মধ্য ও উচ্চ আয়ের ভোক্তাদের মধ্যে জাপানি খাদ্যের চাহিদাও বাড়ছে। প্রায় ৫০টির বেশি জাপানি রেস্টুরেন্টও এরই মধ্যে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে কাস্টমস ও প্রশাসনিক জটিলতা, কাঁচামাল সংগ্রহে সমস্যা, ঘন ঘন কর কাঠামো পরিবর্তন এবং দুর্নীতি ও অস্বচ্ছতা বিনিয়োগ পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করছে।

সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন।

অনুষ্ঠানে রাশেদ আল মাহমুদ বলেন, ‘সরকার বিনিয়োগকারীদের নীতিগত সহায়তা ও বিনিয়োগ প্রণোদনা দিতে বদ্ধপরিকর। সেজন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকেও বিকেন্দ্রীকরণ করা হচ্ছে।’

অন্যদিকে চৌধুরী আশিক বলেন, ‘বাংলাদেশ আশা করে, এখানে জাপানের বিনিয়োগ অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় বেশি হবে। পাশাপাশি জাপান তাদের প্রযুক্তি স্থানান্তরেও এগিয়ে আসবে।’

ফেব্রুয়ারিতে জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ। এ প্রসঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিন-ইচি বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে জাপান একটি বিশ্বস্ত ও নিবেদিত উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব বজায় রেখেছে। আমাদের এ সহযোগিতা আস্থা ও অভিন্ন মূল্যবোধের ভিত্তিতে একটি কৌশলগত অংশীদারত্বে রূপ নিয়েছে।’

সেমিনারে জেবিসিসিআইয়ের সভাপতি তারেক রফি ভূঁইয়া (জুন) বলেন, ‘বাংলাদেশ-জাপান ইপিএ শুধু বাণিজ্যপ্রবাহের বিষয় নয়; বরং আস্থা, অঙ্গীকার ও যৌথ ভবিষ্যতের প্রতিফলন। এ চুক্তি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে শুধু গভীরতর করবে না; বরং বাংলাদেশকে এশিয়ায় জাপানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।’

অনুষ্ঠানের প্রথম অধিবেশনে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশে জাপান দূতাবাসের অর্থনৈতিক বিভাগের প্রধান মোচিদা ইউতারো। এ সময় অনলাইনে শুভেচ্ছা বার্তা দেন জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপমহাপরিচালক ইজুরু কোবায়েশি।

BBS cable ad

আমদানী/রপ্তানী এর আরও খবর: