শিরোনাম

South east bank ad

দেশে অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে বিপুল পরিমাণ বিদেশী বিনিয়োগ আসবে

 প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ন   |   আমদানী/রপ্তানী

দেশে অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে বিপুল পরিমাণ বিদেশী বিনিয়োগ আসবে

আর্থিক প্রতিবেদনে অসত্য তথ্য থাকলে বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হবেন উল্লেখ করে তানভীর শাহরিয়ার গনি বলেন, ‘এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি এবং সামগ্রিক দেশের ওপরও।’

দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ও অবকাঠামোগত অর্থায়নের জন্য পুঁজিবাজারকেই প্রধান ভূমিকা পালন করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক) তানভীর শাহরিয়ার গনি। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় স্বস্তিদায়ক ও অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে বিপুল পরিমাণ বৈশ্বিক মূলধন আসবে।’ গতকাল রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি) মিলনায়তনে বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

‘বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি: নিরীক্ষা, প্রতিবেদন প্রণয়ন, সুশাসন ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় পেশাজীবী সংস্থাগুলোর ভূমিকা’ শীর্ষক সম্মেলনটির আয়োজন করে আইসিএবি, ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএমএবি), ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড সেক্রেটারিজ অব বাংলাদেশ (আইসিএসবি), ইনস্টিটিউট অব ইন্টারনাল অডিটরস বাংলাদেশ (আইআইএবি) ও অ্যাসোসিয়েশন অব চার্টার্ড সার্টিফায়েড অ্যাকাউন্ট্যান্টস (এসিসিএ)।

সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তানভীর শাহরিয়ার গনি বলেন, ‘দেশের যে বিশাল উন্নয়ন ও অবকাঠামোগত চাহিদা তৈরি হয়েছে, তা পূরণে এখন আর ৫-১০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন ২৫, ৫০ কিংবা ১০০ বিলিয়ন ডলারের মতো বড় অংকের মূলধন। বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ কিংবা এডিবির মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার পক্ষে একবারে এ ধরনের বিপুল অর্থায়ন করা সম্ভব নয়। তাই দীর্ঘমেয়াদি অর্থসংস্থানের ক্ষেত্রে পুঁজিবাজারকেই প্রধান ভূমিকা পালন করতে হবে। আন্তর্জাতিক মূলধন খুবই গতিশীল এবং একই সঙ্গে সতর্ক। বিনিয়োগকারীদের মূলধন সুরক্ষিত রাখতে আর্থিক প্রতিবেদনে শতভাগ সততা ও গ্রহণযোগ্য মানের সত্যতা বজায় রাখা জরুরি।’

আর্থিক প্রতিবেদনে অসত্য তথ্য থাকলে বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হবেন উল্লেখ করে তানভীর শাহরিয়ার গনি বলেন, ‘এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি এবং সামগ্রিক দেশের ওপরও।’ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণে বিনিয়োগকারীদের জন্য স্বস্তিদায়ক পরিবেশ তৈরির ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘ভিয়েতনামে মৌলিকভাবে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি হওয়ার পর শত শত বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ এসেছে। বাংলাদেশেও প্রয়োজনীয় স্বস্তি নিশ্চিত করা গেলে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আসবে। আমাদের আইসিএবি, আইসিএমএবি ও এসিসিএর মতো প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি রয়েছে। এখন প্রয়োজন শুধু আন্তর্জাতিক মানদণ্ড গ্রহণ করা নয়; বরং সেগুলোর সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।’

দেশব্যাপী আর্থিক সাক্ষরতা বা ফাইন্যান্সিয়াল লিটারেসি বাড়ানোর উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তানভীর শাহরিয়ার গনি। তিনি বলেন, ‘বিএসইসি বর্তমানে পুরো দেশে আর্থিক সাক্ষরতা বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে, যা আগামী পাঁচ বছরে অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে। শুধু সংস্কার প্রস্তাব করলেই হবে না, কাজের মান বাড়ানো এবং ডিজিটাইজেশন বাস্তবায়নও জরুরি। নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে এলোমেলোভাবে ফাইল ধরে অনুসন্ধানের পরিবর্তে সিস্টেমভিত্তিক “‍ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি” বা রিস্ক-বেজড সুপারভিশন চালু করতে চায় বিএসইসি

BBS cable ad

আমদানী/রপ্তানী এর আরও খবর: