শিরোনাম

South east bank ad

নতুন বিনিয়োগের প্রত্যাশায় শেষ হলো ইউএস ট্রেড শো

 প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ন   |   আমদানী/রপ্তানী

নতুন বিনিয়োগের প্রত্যাশায় শেষ হলো ইউএস ট্রেড শো

তিন দশকের বাণিজ্যিক সম্পর্কের পথচলায় নতুন মাত্রা যোগ করার প্রত্যাশা নিয়ে শেষ হলো ৩০তম ইউএস ট্রেড শো ২০২৬। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, নতুন ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব তৈরি এবং প্রযুক্তি বিনিময়ের সম্ভাবনা সামনে রেখে শেষ হয় তিন দিনের এই আয়োজন।

শনিবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ঢাকার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের ক্রিস্টাল বলরুমে সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তিন দিনের এ মেলার পর্দা নামে। গত ৫ নভেম্বর শুরু হওয়া এ আয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পণ্য, সেবা ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তি প্রদর্শনীর পাশাপাশি দুই দেশের ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন বাজার ও বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরা হয়।

আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) ও ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস যৌথভাবে এ ট্রেড শোর আয়োজন করে। এতে নীতিনির্ধারক, ব্যবসায়ী, শিল্পোদ্যোক্তা, বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধি ও দর্শনার্থীরা অংশ নেন।
প্রদর্শনীর পাশাপাশি সেমিনার ও আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতার সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও করণীয় নিয়ে মতবিনিময় করেন তারা।

সমাপনী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) প্রশাসক, প্লামি ফ্যাশনস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি মো. ফজলুল হক এবং ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি চিফ অব মিশন ত্রিশিতা মওলা।

অনুষ্ঠানে মো. ফজলুল হক বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। ইউএস ট্রেড শোর মতো আয়োজন দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে শক্তিশালী অংশীদারত্ব গড়ে তোলার পাশাপাশি নতুন বাজার অনুসন্ধানের সুযোগ তৈরি করে। ব্যবসায়িক সম্পর্ক জোরদার ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নতুন ক্ষেত্র তৈরিতেও এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

অ্যামচেম বাংলাদেশের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল বলেন, তিন দশক ধরে ইউএস ট্রেড শো মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের সংযোগ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এবারের আয়োজনেও বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর নতুন সম্ভাবনা সামনে এসেছে। বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখতে সরকার, যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস ও ব্যবসায়ী সমাজের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাবে অ্যামচেম।

সেরা স্টলের পুরস্কার
সমাপনী অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল সেরা স্টলের পুরস্কার ঘোষণা। অংশগ্রহণকারী প্রদর্শকদের ভোটে প্রথম স্থান অর্জন করে বাংলা ট্র্যাক লিমিটেড (বাংলাক্যাট)। যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থান পায় শেভরন বাংলাদেশ ও এমজেএল বাংলাদেশ পিএলসি। তৃতীয় হয় লাল তীর সিড লিমিটেড।

এছাড়া স্টার্টআপ জোনে সেরা স্টলের স্বীকৃতি পেয়েছে পালসটেক এবং কার্নিভাল জোনে সেরা হয়েছে স্বপ্ন। ব্যতিক্রমী ও সৃজনশীল স্টল পরিকল্পনার জন্য বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয় এক্সিলারেট এনার্জি বাংলাদেশ লিমিটেডকে।

অ্যামচেম বাংলাদেশের কোষাধ্যক্ষ ও ফিলিপ মরিস বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রেজা উর রহমান মাহমুদ সমাপনী অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। সফল আয়োজনের জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস, অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান, পৃষ্ঠপোষক, সহযোগী, অতিথি ও দর্শনার্থীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

বাণিজ্যের পাশাপাশি জ্বালানি ও প্রযুক্তিতে সহযোগিতার আলোচনা
এবারের ইউএস ট্রেড শো শুধু পণ্য প্রদর্শনীর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। তিন দিনজুড়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও ব্যবসায়িক বিষয় নিয়ে একাধিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। নারী নেতৃত্ব, জ্বালানি নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসাপ্রযুক্তি, যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগের সুযোগ, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক বাণিজ্য এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) ও ডিজিটাল অর্থনীতি ছিল আলোচনার বিষয়।

এসব সেমিনারে নীতিনির্ধারক, ব্যবসায়ী ও খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা অংশ নিয়ে নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা, ব্যবসার প্রতিবন্ধকতা এবং দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা করেন।

আলোচনায় ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা, বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়ানো, আধুনিক প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের প্রসার এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আরও কার্যকর সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, তিন দশকের এই আয়োজনের ধারাবাহিকতা দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ককে আরও গভীর করবে। একইসঙ্গে নতুন বিনিয়োগ, প্রযুক্তি বিনিময় ও বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অ্যামচেম বাংলাদেশের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল, সংগঠনটির সাবেক সভাপতিদের মধ্যে আফতাব উল ইসলাম, সৈয়দ এরশাদ আহমেদ ও মো. নুরুল ইসলাম, অ্যামচেমের নির্বাহী কমিটির সদস্যরা, ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী নেতারা ও অন্য অতিথিরা।

BBS cable ad

আমদানী/রপ্তানী এর আরও খবর: