শিরোনাম

South east bank ad

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রাখতে দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ চায় ডিসিসিআই

 প্রকাশ: ০৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ন   |   বিশেষ সংবাদ

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রাখতে দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ চায় ডিসিসিআই

নতুন বছরে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক গতি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সময়োপযোগী, কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক উদ্যোগ নেয়ার পাশাপাশি যথাযথ বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। গতকাল ঢাকা চেম্বারের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে সৃষ্ট রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ডিসিসিআই মনে করে, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও ব্যবসায়িক আস্থা রক্ষা করাই অন্যতম অগ্রাধিকার হওয়া আবশ্যক। বিদ্যমান প্রেক্ষাপটে ডিসিসিআই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রশাসনসহ সব রাজনৈতিক ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের প্রতি শান্তিপূর্ণ, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিতের আহ্বান জানাচ্ছে।’

এছাড়া ২০২৬ সালে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ত্বরান্বিত করতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, শিল্প খাতে নিরবচ্ছিন্ন ও সাশ্রয়ী জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, ব্যবসা পরিচালনা কার্যক্রম সহজতর করা, ব্যবসার ব্যয় হ্রাস, বিনিয়োগবান্ধব অবকাঠামো ও নীতিগত পরিবেশ উন্নয়ন, রফতানি বৈচিত্র্যকরণ, সম্ভাবনাময় রফতানি খাতে লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা, বিশেষ করে সিএমএসএমই খাতে সহজ ঋণপ্রাপ্তি এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে ডিসিসিআই।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চলমান জ্বালানি সংকট ও উচ্চ জ্বালানি মূল্য উৎপাদনমুখী শিল্প-কারখানার কার্যক্রম বিঘ্নিত করছে, ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতায় পিছিয়ে পড়ছে।

এ কারণে দীর্ঘমেয়াদি ও পূর্বানুমেয় জ্বালানি মূল্য নির্ধারণ নীতির প্রয়োজনীয়তার কথা পুনরায় উল্লেখ করে দ্রুত নতুন গ্যাস ক্ষেত্র অনুসন্ধান, জ্বালানি আমদানির বিকল্প উৎস খুঁজে বের করা এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সরবরাহ চুক্তি সম্প্রসারণের ওপর জোর দিচ্ছে ডিসিসিআই।

ডিসিসিআই আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছে, ‘সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের অতিরিক্ত ব্যাংক ঋণ গ্রহণের ফলে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, যা বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান উভয়ের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। রাজস্ব আহরণ বাড়াতে গিয়ে যেন বিদ্যমান করদাতাদের হয়রানি না হয়।’

পাশাপাশি রাজস্ব ব্যবস্থাপনার পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন, কর আইনের আধুনিকায়ন, সংস্কার এবং নতুন রাজস্ব খাত সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করেছে ডিসিসিআই।

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় যথাযথ প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে ডিসিসিআই। এলডিসি-পরবর্তী সময়ে রফতানি প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্রুত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক জোটের সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তি সম্পাদনের উদ্যোগ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি মনে করে, রফতানি পণ্যের বৈচিত্র্যকরণ, নিরবচ্ছিন্ন শিল্প উৎপাদন, স্থানীয় শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিক অবকাঠামো উন্নয়ন, দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টি, প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন, ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পের সম্প্রসারণ এবং যুক্তিসংগত কর ও শুল্ক কাঠামো সংস্কার প্রভৃতি বিষয়গুলো ২০২৬ সালে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার অন্যতম নিয়ামক হিসেবে ভূমিকা পালন করবে।

BBS cable ad

বিশেষ সংবাদ এর আরও খবর: