একজন আপাদমস্তক সফল মানুষ অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল

বিশেষ প্রতিবেদক

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন আ হ ম মুস্তফা কামাল এফসিএ।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে উন্নয়ন রূপকল্প ২০২১ ও ২০৪১ এবং টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট ২০৩০ সফলভাবে অর্জন করার জন্য নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। লন্ডন ভিত্তিক একটি মাসিক ম্যাগাজিন ‘The Banker’ বাংলাদেশের আর্থিক খাতে অবদানের জন্য তাকে এশিয়া-প্যাসিফিক এবং গ্লোবাল এর ২০২০ সালের বর্ষসেরা অর্থমন্ত্রী হিসাবে ভূষিত করেছে। তিনিই প্রথম বাংলাদেশি অর্থমন্ত্রী যিনি এই পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

তিনি মন্ত্রণালয়ে যেমন সফল, তেমনি একজন সফল ব্যবসায়ীও। রাজনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট হিসেবেও খ্যাতি লাভ করেছেন। মেধার স্বীকৃতি হিসেবে শিক্ষাজীবনেই তিনি ‘লোটাস’ উপাধি পেয়েছিলেন। শিক্ষা, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন, ক্রিকেট, ভোটের মাঠ এবং দেশ ও মানুষের কল্যাণে রাজনীতি, নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন, মেধা-মনন ও দক্ষতাসহ সকল ক্ষেত্রে দেশে-বিদেশে আলোচিত একজন আপাদমস্তক সফল মানুষ আ হ ম মুস্তফা কামাল। স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তিনি সকল মহলে ‘লোটাস কামাল’ হিসেবে সমধিক পরিচিত।

আ হ ম মুস্তফা কামাল ১৯৪৭ সালের ১৫ জুন কুমিল্লার লালমাই উপজেলার বাগমারা ইউনিয়নের দুতিয়াপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম বাবরু মিয়া, মাতা মরহুমা সায়রা বেগম। আ হ ম মুস্তফা কামাল দত্তপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা, ১৯৬২ সালে বাগমারা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, পরে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি, ১৯৬৪-১৯৬৭ সালে চট্টগ্রাম সরকারি কমার্স কলেজ থেকে বিকম (অনার্স) ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৬৭-৬৮ শিক্ষাবর্ষে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একাউন্টেন্সি ও আইন বিভাগে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন এবং ১৯৭০ সালে তদানীন্তন পুরো পাকিস্তানে চার্টার্ড একাউনটেন্সি (সিএ) পরীক্ষায় মেধা তালিকায় সম্মিলিতভাবে প্রথম স্থান অর্জন করেন। রেকর্ড সংখ্যক মার্ক নিয়ে পাস করে ‘লোটাস’ খ্যাতি পাওয়া তদানিন্তন পাকিস্তানে চার্টার্ড একাউন্টেন্সী পরীক্ষায় তিনিই একমাত্র বাঙ্গালী যিনি প্রথম স্থান অর্জন করার এক বিরল কৃতিত্বের অধিকারী। এ ছাড়া আইন শাস্ত্রেও তিনি স্নাতক ডিগ্রির অধিকারী।

ছাত্র জীবন থেকেই আ হ ম মুস্তফা কামালের রাজনীতিতে হাতেখড়ি। কলেজ জীবনের পুরোসময়ই তিনি ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। ১৯৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলন, ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান এবং ৭০’র ঐতিহাসিক নির্বাচনের সময় তিনি আওয়ামী লীগের একজন নিবেদীত সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে প্রার্থী হয়ে ১৯৯৬ সালে তৎকালীন কুমিল্লা-৯ সদর দক্ষিণ (যা বর্তমানে কুমিল্লা-১০ সদর দক্ষিণ, লালমাই, নাঙ্গলকোট) সংসদীয় আসন থেকে প্রথমবারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এ সময়ে তিনি পাবলিক একাউন্টস কমিটির সদস্য, বিনিয়োগ বোর্ডের সদস্য, প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের সদস্য, অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য, যাকাত বোর্ডের সদস্য এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৪ সাল থেকে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত আছেন। ২০০৬ সালের ১২ মে থেকে তিনি কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব লাভ করেন। পরবর্তীতে ২০১৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-১০ নির্বাচনী এলাকা থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে প্রার্থী হয়ে দ্বিতীয় বারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৯ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত তিনি অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-১০ আসন থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়নে প্রার্থী হয়ে তৃতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে সরকারের পুরো মেয়াদে তিনি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি একই আসন থেকে চতুর্থবারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পান।

আ হ ম মুস্তফা কামাল একজন বিখ্যাত ক্রিকেট পৃষ্ঠপোষক। গত ত্রিশ বছর ধরে ক্রিকেটের সাথে সম্পৃক্ত থেকে তিনি এর উন্নয়নে বিভিন্ন দায়িত্বে অংশ নিয়েছেন। ১৯৯০-এর দশকে লোটাস কামাল পেস বোলিং ক্রিকেট একাডেমী প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৯১ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রথিতযশা ক্রিকেট ক্লাব আবাহনী লিমিটেডের সাবেক পরিচালক মুস্তফা কামাল ১৯৯১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ক্লাবগুলোর ক্রিকেট কমিটির সভাপতি ছিলেন। বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে অংশগ্রহণের পূর্বকালীন সময়ে ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লীগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলোয়াড় অন্তর্ভুক্তিতে নেতৃত্ব দেন তিনি। ২০১২-১৩ মৌসুমে ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে সকল খেলোয়াড়কে বিসিবি’র কেন্দ্রীয় চুক্তির আওতায় নিয়ে আসেন।

তিনি সেপ্টেম্বর, ২০০৯ থেকে অক্টোবর, ২০১৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ দায়িত্ব পালনকালে ২০১২ – ২০১৪ মেয়াদে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের সহ-সভাপতি হিসেবে মনোনীত হন। আইসিসি’র অডিট কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ২০১০ থেকে ২০১২ মেয়াদকালে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (এসিসি)’র সভাপতি ছিলেন তিনি। ২৬ মে, ২০১৪ তারিখে আইসিসি’র ১১শ সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন। ২০১৫ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যকার দ্বিতীয় কোয়ার্টার ফাইনালে আম্পায়ারিংয়ের মানের বিষয়ে সংক্ষুদ্ধ হয়ে এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা হিসেবে বিশ্বকাপ ট্রফি হস্তান্তরে সভাপতিকে এড়িয়ে যাওয়ার প্রতিবাদস্বরূপ এপ্রিল ১, ২০১৫ তারিখে সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন। দেশের ভাবমূর্তি ও সম্মানকে সর্বোচ্চ স্থান দিতে আইসিসি সভাপতি পদের মোহও তাঁকে পদত্যাগে বাধাগ্রস্ত করতে পারেনি।

উন্নয়নে ও ভোটের মাঠে লোটাস কামাল:

১৯৯৪ সালে কুমিল্লা-৯ (সদর দক্ষিণ) নির্বাচনী এলাকায় ভোটের মাঠে নামেন আ হ ম মুস্তফা কামাল ওরফে লোটাস কামাল। সেই থেকে তিনি আজও বলেন ‘সত্য কথা বলেও রাজনীতি করা যায়। পিতা-মাতার সর্বোচ্চ দায়িত্ব তাদের সন্তানদেরকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করা। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত একজন মানুষের জীবনের যাবতীয় ভাল কাজই হচ্ছে রাজনীতি। রাজনীতি হচ্ছে মানুষকে ভালোবাসা, মানুষের কল্যাণে কাজ করে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা। পুরুষ এবং মহিলা সকল মানুষের জন্য বিদ্যা শিক্ষা অপরিহার্য।’ এমনিভাবে তাঁর আরও অনেক স্লোগান আকর্ষণ করে সাধারণ মানুষকে। তিনি অনেক উন্নয়ন করেছেন নিজ নির্বাচনী এলাকাসহ জাতীয় পর্যায়ে। দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আ হ ম মুস্তফা কামাল কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর এখানে দলকে সুসংগঠিত করেছেন। তিনি গত ১২ বছরে এলাকার কুমিল্লা-১০ আসনের সদর দক্ষিণ, লালমাই, নাঙ্গলকোট এলাকায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, শিল্পসহ সকল ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়েরও হয়েছে ব্যাপক উন্নয়ন। এছাড়া কুমিল্লা ইপিজেড ঘিরে অন্তত ২ লাখ মানুষ তাদের জীবিকা নির্বাহ করছে এবং গড়ে উঠছে পরিকল্পিত আধুনিক নগরায়ন। কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার লালমাই পাহাড়ের পাদদেশে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হয়েছে। এখানে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স এর উদ্যোগে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ক্রিকেট একাডেমি চালু রয়েছে। ইতোমধ্যে উক্ত একাডেমি থেকে একাধিক খেলোয়াড় জাতীয় বয়স ভিত্তিক দলে খেলছে এবং এ একাডেমি দেশ সেরা ক্রিকেট সংগঠক হিসাবে নির্বাচিত হয়েছে। জানা যায়, এ আসনের লালমাই ও সদর দক্ষিণ উপজেলার মধ্যবর্তী স্থানে আইটি পার্ক স্থাপনে জায়গা অধিগ্রহণের কাজ শেষ হয়েছে। এতে ১৫ হাজার পুরুষ-মহিলার কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এছাড়া মহিলাদের জন্য আরো একটি আইটি পার্ক স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, উক্ত আইটি পার্কে ১০ হাজার মহিলার কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। লালমাই ময়নামতি পাহাড়ি জনগণের জীবনমান উন্নয়নে সাড়ে ৫০ কোটি টাকার প্রকল্প চলমান রয়েছে। কুমিল্লায় ২৫ একর জমির উপর একটি আধুনিক আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম নির্মাণের প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে। মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সভা-সমাবেশে বলে থাকেন, ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ অনুসরণে ও জননেত্রী শেখ হাসিনার সুদৃঢ় নেতৃত্বে দেশ ও এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং তাদের ভাগ্য পরিবর্তনে করে যাচ্ছি। দেহে যতোদিন প্রাণ আছে ততোদিন দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাবো।’