সংবাদ শিরোনাম
DSE

ত্বক সুস্থ রাখার উপায়গুলো জেনে নিন

nari

গত কয়েক দশকে লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে পরিবেশ দূষণের মাত্রা। থেমে থাকেনি সেই সম্পর্কিত রোগের প্রকোপও। আপনার কী মনে হয়, পরিবেশ দূষণের প্রভাবে শুধু শরীর অসুস্থ হয়, তা নয় কিন্তু! শরীরের পাশপাশি ত্বকের ওপরও এর বিরূপ প্রভাব পড়ে। মাত্রাতিরিক্ত দূষণের কারণে একাধিক ত্বকের রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পেতে পারে। যেমন- ত্বকের বয়স বেড়ে যায়, সেই সঙ্গে স্কিন অ্যালার্জি এমনকি স্কিন ক্যান্সার হওয়ার আশঙ্কাও থাকে।

এখানে এমন কিছু নিয়ম সম্পর্কে আলোচনা করা হল, যা মেনে চললে দূষণের করাল গ্রাস প্রভাব থেকে রক্ষা পাবে আপনার স্কিন। কী সেই সব নিয়ম? চলুন জেনে নেওয়া যাক সে সম্পর্কে…..

১. ভালো করে মুখ পরিষ্কার করতে হবে
ত্বকের উপরিঅংশে জমে থাকা দূষিত উপাদানের স্তরকে সরিয়ে ফেলতে দিনের শেষে ভালো করে মুখ পরিষ্কার করা একান্ত প্রয়োজন। আর যদি আপনি কোনো মেট্রোপলিটন সিটিতে বাস করেন তাহলে তো বারে বারে মুখ ধুতে হবে। কারণ এই সব দূষিত পদার্থগুলি স্কিনের জন্য একেবারেই ভালো নয়। প্রসঙ্গত, আপনি যে ভালো করে মুখ ধুয়েছেন তা বুঝবেন কীভাবে? খুব সহজ একটা পদ্ধতি রয়েছে। মুখ পরিষ্কার করার পর যদি দেখেন ত্বক অমসৃণ মতো হয়ে গেছে, তাহলে বুঝবেন তখনও ত্বকে ময়লা জমে আছে। সে ক্ষেত্রে আরেকবার ক্লিন্সার দিয়ে মুখটা ধুয়ে নিতে হবে।

২. স্কার্ব ব্যবহার জরুরি
প্রতিদিন অফিস থেকে ফিরে স্নান করেন নিশ্চয়। সে সময় ভালো করে স্কার্বার দিয়ে গা এবং মুখ পরিষ্কার করবেন। এমনটা করলে দূষিত কেমিক্যাল, অতিরিক্ত তেল এবং টক্সিক উপাদান সব ধুয়ে যাবে। ফলে পরিবেশ দূষণের হাত থেকে রক্ষা পাবে আপনার স্কিন।

৩. অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার বেশি করে খেতে হবে
পরিবেশে উপস্থিত ফ্রি র‌্যাডিক্যালস বা ক্ষতিকর উপাদান তখনই আপনার শরীর এবং ত্বকের ক্ষতি করতে পারবে, যখন আপনি বেশি করে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার খাবেন না। আসেল এই উপাদানটি একাধিক রোগের প্রকোপ থেকে শরীরকে রক্ষা করে। তাই এই বিষ বাষ্পের মধ্যে সুস্থ এবং সুন্দরভাবে বেঁচে থাকতে হলে প্রতিদিন সবুজ শাক-সবজি এবং ফল বেশি করে খেতে হবে। প্রসঙ্গত, দূষণের হাত থেকে স্কিনকে বাঁচাতে ভিটামিন সি এবং ই খুব কাজে লাগে। তাই যে সব বিউটি প্রোডাক্টে এই দুটি উপাদান রয়েছে, তেমন জিনিসের ব্যবহার বাড়াতে পারেন।

৪. ময়েশ্চারাইজারের ব্যবহার জরুরি
পরিবেশে উপস্থিত ক্ষতিকর উপাদানের হাত থেকে ত্বককে বাঁচাতে ময়েশ্চারাইজারের কোনো বিকল্প হয় না বললেই চলে। আসলে এই বিশেষ ধরনের ক্রিমটি ত্বকের উপরিঅংশে একটা ঢাল তৈরি করে দেয়। ফলে ক্ষতিকর উপাদানেরা সেই ঢাল ভেদ করে আর ত্বক অব্দি পৌঁছাতে পারে না। সেই সঙ্গে ত্বককে আর্দ্র এবং তুলতুলে রাখতেও ময়েশ্চারাইজার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৫. সানস্ক্রিন লাগাতে ভুলবেন না
বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় সান স্ক্রিন লাগাতে কখনও ভুলবেন না। কারণ সূর্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ত্বককে বাঁচাতে এই বিউটি প্রডাক্টটি বাস্তবিকই দারুণ কাজে দেয়। প্রসঙ্গত, সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে নানা ধরনের ত্বকের রোগ হওয়ার আশঙ্কা থাকে, যা সান স্ক্রিন লাগালে একেবারে হয় না বললেই চলে।

৬. পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি খাওয়া জরুরি
ত্বককে যত আর্দ্র রাখবেন, তত পরিবেশ দূষণের প্রভাব কমবে। সেই সঙ্গে স্কিন আরও সুন্দর হয়ে উঠবে। তাই তো দিনে কম করে ৩-৪ লিটার পানি খাওয়া মাস্ট! প্রসঙ্গত, ত্বকের অন্দরে পানির মাত্রা ঠিক রাখতে পানিই যে একমাত্র কাজে আসে, এমন নয়। যে সব ফলে পানির মাত্রা বেশি থাকে, তেমন ফল খেলেও সমান উপকার পাওয়া যায়।