সংবাদ শিরোনাম
DSE

রক্ত দিয়ে জীবন বাঁচাচ্ছে ‘ডোনেট ব্লাড বিডি.কম’

blood

২০০৪ কি ২০০৫ সালের দিকে স্বেচ্ছায় রক্ত দানের একটি ক্যাম্প বসে রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ।জীবনে প্রথম বার রক্ত দেবেন বলে লাইনে দাঁড়িয়ে গেলেন হালকা পাতলা গড়নের এক যুবক।তাঁর দেওয়া রক্ত কোন অসুস্থ মানুষের কাজে লাগবে, জীবন বাঁচাবে-এটা ভাবতেই ভেতরে এক ধরনের উত্তেজনা কাজ করছিল। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই সেটা হতাশায় রূপ নিল। রক্ত সংগ্রহকারীরা জানালেন, ওজন কম থাকায় তাঁর রক্ত নেওয়া সম্ভব নয়। খুব মন খারাপ হলো। জীবনের প্রথম প্রত্যাখ্যান ঘুরিয়ে দিল তাঁর চিন্তার মোড়।বলছিলাম নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞানের ছাত্র সুব্রত দেবের কথা।যিনি তৈরি করেছেন রক্তদাতাদের একটি প্রতিশ্রুতিশীল প্লাটফর্ম ।নিজে রক্ত দিতে না পারলেও, মানুষকে রক্ত দিতে উৎসাহিত করতে ২০১৩ সালে তার হাতেই জন্ম নেয় ডোনেট ব্লাড বিডি (www.donatebloodbd.com) নামের ওয়েবসাইটটি।উদ্দেশ্য রক্তের জন্য যেন একটি প্রাণও ঝরে না যায়।

ওয়েবসাইট তৈরি করে রক্তদাতাদের সন্ধানে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিতে থাকলেন সুব্রত।তাতে খুব একটা সাড়া পেলেন না।পরিচিতদের সবাই লাইক আর বাহারি কমেন্ট দিয়ে এডিয়ে গেলেন।এক সময় হতাশ সুব্রত দেব দেখলেন মাত্র ছয় জন তাঁর ডাকে এগিয়ে এসেছেন। তাঁদের নিয়েই শুরু হলো ব্লাড ডোনেট বিডির পথচলা। এই সংখ্যা এখন দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৬৬০ জনে। রক্তদানে আগ্রহী রক্তদাতারা এই ওয়েবসাইটে রক্তের গ্রুপ, জেলা, মোবাইল নম্বরসহ বিস্তারিত তথ্য দিয়ে নিবন্ধন করেন।এরপর স্বেচ্ছাসেবকরা প্রয়োজন অনুযায়ী রোগীদের রক্ত সরবরাহ করেন।ক্রমেই এটি পরিণত হয়েছে রক্তদাতাদের একটি অভিধানে।রাতে-দিনে প্রায় ২৪ ঘন্টাই রক্তের প্রয়োজনে ফোন আসতে থাকে সুব্রতর কাছে। অবস্থা এমন হলো যে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সুব্রতর পক্ষে সামলানোই কঠিন হয়ে পড়লো।এবার ফেসবুকে ‘রক্তদানের অপেক্ষায় বাংলাদেশ’নামে একটি গ্রুপ খুললেন। যেখানে রক্তদাতা নিজেই পোস্ট করে জানাবেন, রক্ত দিতে আগ্রহের কথা।আর রক্তগ্রহীতা যোগাযোগ করে সংগ্রহ করে নেবেন রক্ত।২০১৫ সালে শুরু হওয়া এই ফেসবুক গ্রুপে এখন সদস্য সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ৬৬ হাজারে। এখানেই শেষ নয়, ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ডোনেট ব্লাড বিডির কল সেন্টার।এটি ছিল বাংলাদেশে এ ধরনের প্রথম কল সেন্টার। ০১৭৫৬৯৬৩৩০৮ এবং ০১৭৪৮৩০৬০২৭ নম্বরে কল করলেই রোগীর জরুরি প্রয়োজনে খোঁজ পাওয়া যাবে রক্তদাতার।পুরান ঢাকার নজরুল ইসলাম ও আফসানা নাজনীন দম্পতি এটি সামলান।আর এ কাজটি তাঁরা করেন বিনা পারিশ্রমিকে।শুক্রবার বাদে সপ্তাহের অন্যান্য দিনে কল সেন্টার খোলা থাকে।

এতকিছু করেও থেমে নেই সুব্রত ও তাঁর স্বেচ্ছাসেবক দল।রক্ত দিতে মানুষের সচতেনতা বাড়াতে ফেসবুকে পোস্ট, ক্যাম্পেইনসহ নানা কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। সুব্রত জানালেন, প্রতিবছর আমাদের দেশে ৯ লাখ ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন হয়। কিন্তু রক্ত দিতে অনিচ্ছা, রক্ত দিলে স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়-এ ধরণের ভুল ধারণা থেকে আমরা এই চাহিদা পূরণ করতে পারি না। অথচ একটু সচেতন হলেই ১৬ কোটি মানুষের দেশে এটি কোনো ব্যাপারই না।