সংবাদ শিরোনাম
DSE

‘গ্রামীণ-রবি’র বিরুদ্ধে ৬শ’ অভিযোগ

mobile

সেবা নিয়ে ‘প্রতারণা’ করায় দেশের শীর্ষ স্থানীয় মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন এবং রবি অজিয়াটা’র বিরুদ্ধে ৬শ’ অভিযোগ জমা পড়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরে। কিন্তু এ নিয়ে ব্যবস্থা নিতে গেলে তারা আদালতের মাধ্যমে স্থগিতাদেশ নিয়ে এসেছে। আমরা এদের বিরুদ্ধে ফাইট করবো।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের গৃহীত কার্যক্রমের প্রতিবেদন পরিষদের ১৬তম সভায় সোমবার (২০ নভেম্বর) প্রধান অতিথি বক্তব্যে এ কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।

সেবা গ্রহীতার অধিকার রক্ষায় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদফতরের ভূমিকা তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, গ্রামীণফোন ও রবি দেশে মোবাইল সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে। তাদের মাধ্যমেই ১০ কোটি মোবাইল গ্রাহকের মধ্যে ৬ কোটি ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন। এক্ষেত্রে বিশ্বের মধ্যে আমরা অনেক এগিয়ে। তারা ভালো সার্ভিস দেয় এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে সেবা নিয়ে প্রতারিত হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে ৬শ’ অভিযোগ এসেছে। তারা আবার হাইকোর্টে গিয়ে স্থগিতাদেশ নিয়ে এসেছে। এটা নিয়ে আমরা ফাইট করবো। ভোক্তাদের অধিকার সংরক্ষণের ব্যবস্থা করবো।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, ভোক্তাদের অধিকার রক্ষায় আমরা বিশ্বের মধ্যে এগিয়ে। এটা একটা উদাহরণ। এক সময় দোকানে গেলে মানুষ সন্দেহ করতো ফরমালিন আছে কিনা। এখন ফরমালিন নিয়ে তেমন কোনো কথাই শোনা যায় না। তবে খাদ্যে ভেজাল যে নেই, তা নয়। এ নিয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর কাজ করছে। মানুষও সচেতন হচ্ছে। তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করে তার ২৫ শতাংশ অভিযোগকারীকে বুঝিয়ে দিচ্ছি।

তিনি এ সময় অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আদায় করা টাকার পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, ২০০৯ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে জরিমানা আদায় করে মোট ২২ কোটি ৮৮ লাখ ৫১ হাজার ৪৪৮ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। এর ২৫ শতাংশ অর্থাৎ ৩৩ লাখ ৬৩ হাজার ৭৫২ টাকা অভিযোগকারীরা পেয়েছেন।

বাজারের বাংলাদেশ ট্রেডিং করপোরেশন (টিসিবি) ভবনে এ সভার আয়োজন করে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর। সভায় অন্যদের মধ্যে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদফতরের মহাপরিচালকের পক্ষে বদরুল হাসান চৌধুরী, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন’র (বিএসটিআই) মহাপরিচালক মো. সাইফুল হাসিব, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব একরামুল হক, খাদ্য বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শামীমা সুলতানা, কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’র (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় সেবা নিতে গিয়ে কোনো গ্রাহক প্রতারিত হলে, তার অধিকার রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা জোরদারের সিদ্ধান্ত হয়। এক্ষেত্রে মন্ত্রী প্রচারণা ব্যয় এবং সভা-সেমিনার ব্যয় বাড়ানোর জন্য ব্যবস্থা নিতে বলেন। একই সঙ্গে জনবল নিয়োগ এবং নিয়োগবিধি ঢেলে সাজানোর জন্যও নির্দেশনা দেন।