সংবাদ শিরোনাম
DSE

এস্কোয়্যার নিট কম্পোজিট লিমিটেডেরএহসানুল হাবীব নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তাদের একজন

en

এস্কোয়্যার নিট কম্পোজিট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এহসানুল হাবীব। তিনি নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তাদের একজন। যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিবিএ সম্পন্ন করেছেন। দেশে ফিরে বাবার হাতে তৈরি এস্কোয়্যার গ্রুপে যোগ দেন। অল্প সময়ের মধ্যে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। উন্নত বিশ্বের ব্যবস্থাপনা, বিপণন ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে এস্কোয়্যার গ্রুপ এবং এর অঙ্গপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এক ধাপ এগিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি নিজে এস্কোয়্যার নিট কম্পোজিটের ইন্টারন্যাশন্যাল মার্কেটিং দেখাশোনা করেন। কোম্পানিটি শেয়ারবাজারে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে তালিকাভুক্ত হতে ইতোমধ্যে রোড শো সম্পন্ন করেছে।
এস্কোয়্যার নিট কম্পোজিট এর যাত্রা ১৯৭৪ সালে। এস্কোয়্যার গ্রুপের একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান এস্কোয়্যার নিট কম্পোজিট লিমিটেড। শতভাগ রফতানিমুখী তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান। ২০০০ সালে এস্কোয়্যার নিট কম্পোজিট লিমিটেড প্রতিষ্ঠিত হয়। আর এটি ২০১৫ সালে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তরিত হয়। তাছাড়া আমরা নতুন একটি ইউনিটে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। এজন্য বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে আইপিওর মাধ্যমে পুঁজিবাজারে যাচ্ছি। শুরু থেকে প্রতিষ্ঠানটি সফলতার সঙ্গে ব্যবসা করে আসছে। এছাড়া বিশ্ববাজারে এদের পণ্যের চাহিদা রয়েছে। মূলত ইউরোপিয়ান বাজারেই বেশি রফতানি করছি। ডেনমার্ক, নরওয়ে ও সুইডেনে বেশ কিছু ক্রেতা আছে। চাহিদাও দিন দিন বাড়ছে।
এস্কোয়্যার নিট কম্পোজিট এর কিছু নন ট্রেডিশনাল বাজার আছে; যেমন চায়না ও রাশিয়া। তারা অস্ট্রেলিয়ার বাজারে প্রবেশের চেষ্টা করছে। যেসব ব্র্যান্ড এস্কোয়্যার নিট কম্পোজিট এর ক্রেতা তালিকায় রয়েছে, তার মধ্যে সি অ্যান্ড এ, বেস্ট সেলার, অস্টিন, এসপিরিট, মাসকট, সেলিও, নেক্সট, টি জেইস, পুল অ্যান্ড বিয়ার প্রভৃতি অন্যতম।

বিশ্ববাজার লক্ষ করলে দেখা যায় নিট পণ্য রফতানিতে প্রথম স্থানে চীন, এরপরই রয়েছে বাংলাদেশ। দিন দিন এগিয়ে যাচ্ছে আমাদের এ খাত। দেশের ভিশন-২০২১-এ রফতানির লক্ষ্যমাত্রা ৫০ বিলিয়ন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসতে হবে। সে অনুযায়ী তৈরি পোশাকের চাহিদা বাড়ছে। এতদিন আমরা বাংলাদেশ থেকে যে পণ্য রফতানি করতাম, সেগুলো ‘লো মিড রেঞ্জের’ পণ্য। এখন ‘মিড অ্যান্ড আপার’ রেঞ্জের দিকে যাচ্ছে। আগে আমরা শুধু গেঞ্জি বা শার্ট রফতানি করতাম। বর্তমানে এর সঙ্গে এখন ফ্যাশন ওয়ার্কও করা হয়। এতদিন বিদেশ থেকে ক্রেতারা নিজস্ব ডিজাইন নিয়ে আসতেন। আমরা ওই ডিজাইন কপি করে পণ্য তৈরি করে রফতানি করতাম। এখন আমরা নিজেরাই ডিজাইন করে ক্রেতাদের কাছে তুলে ধরছি। ভালো সাড়া পাচ্ছি।

উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর চিন্তা-ভাবনা করেই নতুন প্লান্ট স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এস্কোয়্যার গ্রুপ । যেখানে দেশের প্রায় ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। যা আমাদের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সঙ্গে দেশের জন্যও ভালো কিছু বয়ে আনবে। তাছাড়া কীভাবে আরও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারি, কীভাবে বিশ্বে আরও সুযোগ সৃষ্টি করা যায়- সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। দেশের শেয়ারবাজারে এস্কোয়্যার নিট কম্পোজিট তালিকাভুক্ত হবে একটা ব্রান্ড যুক্ত হওয়া।
এস্কোয়্যার গ্রুপের প্রধান পণ্য নিট কাপড় ও কাপড়জাত পণ্য। এর বাইরে কিছু নন ট্র্যাডিশনাল বা হাইএন্ড প্রডাক্ট রয়েছে। যেগুলো স্টোরে যায় না। ইউরোপের বিভিন্ন জায়গায় কর্মীদের পোশাক হিসেবে রফতানি করা হয়। ওই পোশাকগুলো বিশেষভাবে তৈরি করা হয়। পণ্যের মান অনেক ভালো। অনেক টেকসই কাপড়ের পোশাকের জন্যই এটি হাইএন্ড। কারণ শ্রমিকদের ব্যবহারে সহজে যেন নষ্ট না হয়, ঘামে ভিজলে বা রোদ-বৃষ্টিতে যেন কাপড়ের কোনো সমস্যা না হয়, সেভাবেই কাপড়গুলো তৈরি করা হয়।