মিরসরাইয়ে লোকসানে বন্ধ হয়ে গেছে অর্ধেক খামার
গত বছরের রমজানের তুলনায় এ বছর ব্রয়লার মুরগির বাচ্চার দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। এ অবস্থায় লোকসানের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে অর্ধেক খামার।
মিরসরাই পোলট্রি অ্যাসোশিয়েশনের তথ্য বলছে, উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভায় ছোট-বড় প্রায় ১০ হাজার খামার রয়েছে। বাচ্চার অতিরিক্ত দামের কারণে অর্ধেক বন্ধ রয়েছে। গত বছর রমজানে একদিনের প্রতি পিস ব্রয়লার মুরগির বাচ্চার দাম ছিল ৪০-৪৫ টাকা। কিন্তু চলতি বছর রমজানের আগেই এক লাফে দাম বেড়ে ৮০-৮৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে। বেশ কয়েকটি কোম্পানি সিন্ডিকেট করে বাচ্চার দাম বাড়িয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ খামারিদের।
খামারিরা জানান, ২০২৪ সালের বন্যায় মিরসরাইয়ে পোলট্রি শিল্পে প্রায় ১০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। সে ক্ষতি এখনো খামারিরা পুষিয়ে উঠতে পারেননি। নতুন করে আবার ক্ষতিগ্রস্ত হলে অনেকে পথে বসবেন। ৮০-৮৫ টাকা দামে বাচ্চা কিনে এক কেজি ওজন করতে প্রায় ১৭০ টাকা খরচ হবে। যদি মুরগির দাম কম থাকে খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
খামারি বলছেন, কিছু প্রান্তিক ডেইরি খামারিকে সামান্য পশুখাদ্য দিয়ে সহায়তা করা হলেও পোলট্রি খামারিরা কোনো সহায়তা পাননি। ফলে অনেক খামারি এখনো বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে না পেরে খামার বন্ধ করে দিয়েছেন।
মিরসরাই উপজেলা পোলট্রি অ্যাসোশিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জাহেদ হোসেন বাপ্পি বলেন, ‘আমি ২০০৬ সাল থেকে পোলট্রি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। বন্যার আগে চট্টগ্রামের মিরসরাই ও ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলায় ১৮টি খামার ছিল আমার। এর মধ্যে বন্যায় ছাগলনাইয়া উপজেলায় সাতটি ও মিরসরাইয়ে দুটি খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সে ক্ষতি এখনো পুষিয়ে উঠতে পারিনি। গত বছর রমজানে একদিন বয়সী ব্রয়লার মুরগির বাচ্চার দাম ছিল ৪০-৪৫ টাকা। কিন্তু এ বছর সেই বাচ্চা বিক্রি হচ্ছে ৮০-৮৫ টাকায়। অথচ সরকার সর্বোচ্চ ৬৯ টাকা দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে। বাচ্চার দাম বেশি থাকায় অনেক খামার বন্ধ হয়ে গেছে।’
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জাকিরুল ফরিদ জানান, ‘ব্রয়লার মুরগির একদিন বয়সী বাচ্চা বিক্রি হচ্ছে ৮০-৮৫ টাকায়। এতে খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হবে।’


