টেন্ডার বাণিজ্যে নাকাল ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতাল
ফরিদুল ইসলাম রঞ্জু, (ঠাকুরগাঁও):
টেন্ডার বাণিজ্য হয়রানিতে পরেছে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতাল। নির্দিষ্ট একটি চক্র বাদে অন্যান্য সাধারণ ঠিকাদাররা প্রায় ৫ বছর থেকে শিডিউল জমা দিতে না পারার অভিযোগ উঠেছে।
এবারও ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের ওষুধ ও সার্জিকাল সামগ্রী ক্রয়ের জন্যে ডাকা টেন্ডারের শিডিউল ক্রয়ের পর আর জমা দিতে না পারার অভিযোগ করছে ঠিকাদাররা।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) জমা দেওয়ার শেষদিন শিডিউল জমা দিতে গেলে প্রায় ২০০ জন দুর্বৃত্তের কবলে পরে আর জমা দিতে না পারার অভিযোগ করছে ঠিকাদার।
জানাগেছে, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের দরিদ্র রোগীদের মাঝে বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ ও অপারেশন সহ অন্যান্য প্রয়োজনে সার্জিক্যাল সামগ্রী গজ ব্যান্ডেজ, লিলেন সামগ্রী ক্যামিকেল ও আসবাবপত্র ইত্যাদি ৬টি গ্রুপে মালামাল সরবরাহের জন্য প্রথম দফা দরপত্র আহবান করা হয় গত বছরের ডিসেম্বর মাসে।
এজন্য প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় ৫ কোটি টাকা। সেবার দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ছিল ৩০ ডিসেম্বর দুপুর ১২টা পর্যন্ত। ওইদিন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের কার্যালয়ের দোতালার বারান্দায় দুটি টেন্ডার বাক্স রাখা হয়।
বেলা ১২ টার কিছু পূর্বে ১০-১২ জন যুবক অকস্মাৎ টেন্ডার বাক্সে পোড়া মবিল ঢেলে দিয়ে পালিয়ে যায়। এর ফলে বাক্সে ফেলানো ৬৭টি দরপত্র প্যাকেট নষ্ট হয়ে যাওয়ায় টেন্ডর বাতিল করা হয়। এ সময় কর্তব্যরত পুলিশ লাবু নামে একজনকে আটক করতে সক্ষম হলেও পরবর্তিতে অন্যান্য দোষিদের বিরুদ্ধে আর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালের ওষুধ সহ সার্জিক্যাল সামগ্রী বেশিদামে সরবরাহের জন্য একটি মহল দরপত্র গ্রহিতাদের সঙ্গে সমঝোতা করার চেষ্টা চালায়। কিন্তু ২/১টি প্রতিষ্ঠান জেলার দরিদ্র মানুষের কথা ভেবে সমঝোতায় রাজি না হলে দরপত্র বাতিলের জন্য পোড়া মবিল ঢেলে দেওয়ার পরিকল্পনা হাতে নেয় তারা।
এবার যাতে কেউ পোড়া মবিল জাতীয় দ্রব্য ফেলে সিডিউল নষ্ট করতে না পারে সেজন্য টেন্ডার কমিটির পক্ষ থেকে প্রশাসনিক সাহায্য চাওয়া হয়েছে। টেন্ডার বাক্স ঘিরে কেউ যেন নাশকতা করতে না পারে সেজন্য পুলিশ পাহারার ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে জানান সিভিল সার্জন ডা.নুর নেওয়াজ।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, এবার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে একটি এবং হাসপাতাল প্রশাসনিক কার্যালয়ের সামনে একটি বাক্স বসানো হয়েছে। হাসপাতালের ডা.সাজ্জাদ হায়দার শাহিনকে প্রধান করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট টেন্ডার কমিটিও গঠন করা হয়েছে। সকল ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান যাতে স্বাচ্ছন্দে দরপত্র জমা দিতে পারে সেজন্য টেন্ডার কমিটি তৎপর রয়েছে।
বুধবার দুপর পর্যন্ত এবার ১২৩টি দরপত্র বিক্রি হয়েছে এবং দরপত্র জমা দেওয়ার তারিখ নির্ধারণ করা হয় বৃহস্পতিবার(১০ ফেব্রুয়ারী) দুপুর পর্যন্ত।কিন্তু জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে রাখা টেন্ডার বাক্সে অনেক ঠিকাদারকে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি ও অনেককে জিম্মি করে রেখে কালক্ষেপণ করা হয়েছে এবং হাসপাতালের প্রশাসনিক কার্যালয়ের সামনে রাখা বাক্সটি খুজে পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেছেন ঠিকাদাররা।
শিডিউল জমা দিতে না পারা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স শাহিন ফার্মেসীর কর্ণধার শাহিন মনসুর বলেন, ৫ বছর থেকে হাসপাতালের বিভিন্ন টেন্ডারের শিডিউল শুধু কিনছি কিন্তু জমা দিতে পারিনা। এভাবে অস্বচ্ছ উপায়ে টেন্ডার বাণিজ্য হওয়ায় দরিদ্র ও অসহায় মানুষরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। এবার আমি শিডিউল জমা দিতে যেতে চাইলে আমাকে আটকে দেয়া হয়েছে।
এই বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবোধায়ক ফিরোজ জামান জুয়েল বলেন, কেউ আমাকে এই বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেনি। এবার স্বচ্ছতার আশায় টেন্ডার বাক্স জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে রেখেছি। সেটা হাসপাতালের বাহিরের এলাকা। সেখানে কোনো ঝামেলা হলে আমার কিছু করার নেই।
সেই সাথে হাসপাতাল প্রশাসনিক কার্যালয়ের সামনে রাখা বাক্সটি খুজে না পাবার অভিযোগটি অস্বীকার করেন তিনি।


