পাঁচ ব্যাংকের নিরীক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে
অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকা শরিয়াহভিত্তিক পাঁচ ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডাররা কোন প্রেক্ষাপটে শেয়ার কিনেছেন সেটি পরীক্ষা করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে এ ব্যাংকগুলোর আর্থিক প্রতিবেদন নিরীক্ষার দায়িত্বে থাকা নিরীক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। সচিবালয়ে গতকাল সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা বলেন।
পাঁচ ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষতিপূরণ দেয়াসংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘শেয়ারহোল্ডারদের বিষয়টি জটিল। বললেই তো হবে না, এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া যায় না। আমরা বলছি, আমানতকারীরা টাকা পাবেন, এটা খুবই সরল হিসাব। আর শেয়ারহোল্ডাররা শেয়ার কিনেছেন কোন প্রেক্ষাপটে—বাজার দরে কিনেছেন, শেয়ারহোল্ডাররা মালিক হতে চেয়েছেন।’
শেয়ারহোল্ডাররা বলছেন যে তারা আর্থিক প্রতিবেদন দেখে শেয়ার কিনেছেন, যেখানে ব্যাংকগুলো মুনাফা দেখিয়েছে, সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে এমন প্রসঙ্গ উত্থাপন করা হলে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘সেটা তো আমরা দেখব। ওই বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছি, কোন প্রেক্ষাপটে কিনেছেন। দেখি কী করা যায়।’
২০২৪ সালের আগস্টের আগে পাঁচ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিবেদন যারা নিরীক্ষা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন কিনা? এমন প্রশ্ন করা হলে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘ব্যবস্থা তো নেয়া হবেই। যা-ই হোক, এখন সব কথা বলা যাবে না।’
ভেনিজুয়েলা ও ইরানজুড়ে অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। এতে আশঙ্কা করা হচ্ছে জ্বালানি তেলের মূল্যের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। এ বিষয়ে সরকার কীভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে জানতে চাইলে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘জ্বালানির ব্যাপারে দীর্ঘমেয়াদি একটা পরিকল্পনা করা হয়েছে। জ্বালানি তো আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। জ্বালানি যদি নিশ্চিত না করতে পারি, তাহলে স্থানীয় উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। জ্বালানির দুটো দিক আছে—পাওয়ার ও এনার্জি। ওই দুটো দিকে একটা কমপ্রিহেনসিভ করা হয়েছে। আমাদের নিজস্ব অফশোর ড্রিলিং, তারপর কয়লার ব্যবহারটা কীভাবে করব। মধ্যপাড়ায় যে কয়লা আছে, সেটা হার্ড রক। এগুলোর একটা কমপ্রিহেনসিভ ব্যবস্থা করা হয়েছে।’
দেশে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি রয়ে গেছে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে বড় হলো সুশাসন। রাজনৈতিক সুশাসন যদি না থাকে, ভোগ্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে পরিদর্শক পাঠিয়ে দিয়ে, ম্যাজিস্ট্রেট বসিয়ে হয় না। বিশ্বের কোনো দেশে এটা হয় না।’


