শিরোনাম

South east bank ad

প্রায় ৬ টাকা কমিশন বাড়ানোর দাবি সিএনজি স্টেশন মালিকদের

 প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ন   |   কর্পোরেট

প্রায় ৬ টাকা কমিশন বাড়ানোর দাবি সিএনজি স্টেশন মালিকদের

দেশে ক্রমাগত বিদ্যুৎ ও অন্যান্য রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বৃদ্ধি পেলেও গত এক দশক সিএনজি স্টেশন মালিকদের কমিশন বা মার্জিন বাড়েনি।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় ২০১৩ সালেই মার্জিন বাড়ানোর সুপারিশ করলেও তা কার্যকর করা হয়নি। সিএনজি স্টেশন মালিকরা বলছেন, বিদ্যুতের বর্ধিত দাম ও বর্তমান মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় সিএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) বিক্রিতে মার্জিন ন্যূনতম ৫ টাকা ৯৬ পয়সা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। অন্যথায় এ খাতে ব্যবসা চালিয়ে নেয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

রাজধানীর বিজয়নগরে গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা। এ সময় সংগঠনের মহাসচিব ফারহান নূর বলেন, ‘সিএনজি উৎপাদনে বিদ্যুৎ অন্যতম প্রধান উপাদান। ২০১৫ সালের পর থেকে সরকার এ পর্যন্ত সাত দফায় বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি করলেও সিএনজি স্টেশন মালিকদের মার্জিন বা কমিশন বাড়ায়নি। সিএনজির ক্রয় ও বিক্রয়মূল্য সরকারিভাবে নির্ধারিত হওয়ায় এ বর্ধিত উৎপাদন খরচ গ্রাহক পর্যায়ে সংযোজন করাও মালিকদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।’

বর্তমানে সিএনজি মালিকরা প্রতি ঘনফুট (প্রায় ২৮ দশমিক ৩১ লিটার) সিএনজি বিক্রিতে ৮ টাকা কমিশন পান। ২০১৫ সাল পরবর্তী বিভিন্ন সময়ে বিদ্যুতের বর্ধিত মূল্য এবং মূল্যস্ফীতিসহ অন্যান্য ব্যয় সমন্বয় করে এ কমিশন ন্যূনতম ১৩ টাকা ৯৬ পয়সা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন ফারহান নূর। তিনি বলেন, ‘ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি, ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ, ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে যন্ত্রাংশের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, সওজের জায়গা ও সংযোগ সড়কের ইজারা ফি এবং বিভিন্ন লাইসেন্স নবায়ন ফি কয়েক গুণ বেড়েছে। ফলে প্রতি ঘনমিটার গ্যাস সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করে স্টেশন মালিকদের মুনাফার পরিবর্তে উল্টো লোকসান গুনতে হচ্ছে। সবকিছু বিবেচনায় ন্যূনতম কমিশন ১৩ টাকা ৯৬ পয়সা নির্ধারণ করে ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের মূল্যবৃদ্ধি আনুপাতিক ও স্বয়ংক্রিয় পন্থায় কমিশনের সঙ্গে সমন্বয়ের ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার।’

সংবাদ সম্মেলনে সিএনজি স্টেশন মালিকরা জানান, বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৩ সালের ৫ জুলাই সিএনজি স্টেশনগুলো ধর্মঘটে গেলে তৎকালীন সরকারের জ্বালানি উপদেষ্টা ও সচিবদের উপস্থিতিতে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সেই কমিটি ২০১৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর সিএনজি ফিলিং স্টেশন মালিকদের মার্জিন ২ টাকা ৯৮ পয়সা বৃদ্ধি এবং বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে কমিশন স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমন্বয়ের সুপারিশ করেছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ২০১৫ সালে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ১ টাকা মার্জিন বৃদ্ধি করে। ২০১৬ সালের ৩০ অক্টোবর পুনরায় ধর্মঘটের ডাক দেয়া হলে তৎকালীন সরকারের আশ্বাসে তা প্রত্যাহার করা হয় এবং আরো দুটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠিত হয়। ২০১৭ সালের জুনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের গঠিত কমিটিও সুপারিশ প্রদান করে বিইআরসিকে মার্জিন বৃদ্ধির অনুরোধ জানায়। কিন্তু এরপরও এসব সুপারিশ আলোর মুখ দেখেনি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এসব সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে গত বছরের ১২ মার্চ বিইআরসি চেয়ারম্যান বরাবর গণশুনানি আয়োজনের আবেদন এবং প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত জমা দেয়া হলেও কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। এমনকি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশে পটপরিবর্তন ও নতুন সরকার গঠন হলেও এ খাতের সংকট নিরসনে কোনো উদ্যোগ লক্ষ্য করা যায়নি। যদিও সিএনজি স্টেশনগুলোকে মোটা অংকের লাইসেন্স ফি দিয়ে প্রতি বছর বিইআরসি থেকে লাইসেন্স নবায়ন করতে হচ্ছে।

দাবি মানা না হলেও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সিএনজি স্টেশন মালিকরা। তারা বলেন, লোকসান দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করা সম্ভব নয়। ৩০ জুনের মধ্যে ন্যায্য দাবি বাস্তবায়ন করা না হলে ধর্মঘটের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নেয়া ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় থাকবে না।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন

BBS cable ad

কর্পোরেট এর আরও খবর: