কর অব্যাহতি সুবিধাপ্রাপ্ত ১ হাজার কোটি টাকার ‘গ্রিন বন্ড’ ইস্যু করছে ব্র্যাক ব্যাংক
বাংলাদেশে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই প্রকল্পে অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারণে ১ হাজার কোটি টাকার ‘গ্রিন বন্ড’ ইস্যু করতে যাচ্ছে ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি। দেশের ব্যাংক খাতে এ ধরনের উদ্যোগ এটাই প্রথম। বন্ডটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য আয়কর অব্যাহতি সুবিধা। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বলছে, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরিবেশবান্ধব ভবন নির্মাণ এবং শিল্প খাতে জ্বালানি-দক্ষতা বৃদ্ধিতে অর্থায়নের লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
রাজধানীর একটি হোটেলে গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) তারেক রেফাত উল্লাহ খান। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের “গ্রিন বন্ড অর্থায়ন নীতিমালা” অনুসরণ করে ব্র্যাক ব্যাংক দেশে প্রথমবারের মতো গ্রিন বন্ড ইস্যু করতে যাচ্ছে। বন্ডটি ইন্টারন্যাশনাল ক্যাপিটাল মার্কেট অ্যাসোসিয়েশনের (আইসিএমএ) গ্রিন বন্ডের মূলনীতির সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। এর কাঠামো সম্পর্কে এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল রেটিংস একটি “সেকেন্ড-পার্টি ওপিনিয়ন” দিয়েছে। এর মাধ্যমে বন্ডটির পরিবেশবান্ধব বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে স্বাধীন মূল্যায়ন পাওয়া গেছে।’
দেশের পুঁজিবাজারে এ গ্রিন বন্ড অর্থবহ ভূমিকা রাখবে বলেও মনে করেন তারেক রেফাত উল্লাহ। তিনি বলেন, ‘নির্ধারিত পরিবেশবান্ধব প্রকল্পের জন্য বিশেষভাবে মূলধন সংগ্রহের মাধ্যমে আমরা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরিবেশবান্ধব ভবন ও শিল্প-কারখানায় জ্বালানির দক্ষ ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগে অর্থায়ন পেতে সহায়তা করতে চাই। আমাদের লক্ষ্য শুধু প্রকল্পে অর্থায়ন করাই নয়; আমরা এমন একটি আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতেও অবদান রাখতে চাই, যেখানে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং দায়িত্বশীল প্রবৃদ্ধির প্রতিটি ক্ষেত্রে টেকসই উন্নয়নকে গুরুত্ব দেয়া হবে।’ এ বন্ড বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের বিকাশেও অর্থবহ ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেন ব্যাংকটির শীর্ষ নির্বাহী।
সংবাদ সম্মেলনে বন্ডটির বিস্তারিত তুলে ধরেন ব্র্যাক ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এএমডি) মো. শাহীন ইকবাল। তিনি বলেন, ‘তিন বছর মেয়াদি বন্ডটি হবে জামানতবিহীন, অরূপান্তরযোগ্য, সম্পূর্ণ পরিশোধযোগ্য ও জিরো-কুপন বন্ড। ডিসকাউন্ট রেট সাড়ে ৭ শতাংশ ও অভিহিত মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ লাখ টাকা, যার প্রাথমিক ক্রয়মূল্য হবে ৮ লাখ ৪ হাজার ৯৬১ টাকা। করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি পর্যায়ের বিনিয়োগকারীর পাশাপাশি প্রযোজ্য বিধিবিধান পূরণ সাপেক্ষে বিভিন্ন কোম্পানির প্রভিডেন্ট ও গ্র্যাচুইটি ফান্ডও এতে বিনিয়োগ করা যাবে।’
মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে শিল্প-কারখানাগুলো জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোও এখন নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে। বন্ডের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ সাশ্রয়ী ও সহজ শর্তে এসব নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে অর্থায়নে ব্যবহৃত হবে বলে জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।
এ সময় বলা হয়, বন্ড থেকে অর্জিত অর্থ পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে ব্যয়ের মাধ্যমে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) ৭ (সাশ্রয়ী ও দূষণমুক্ত জ্বালানি), ৯ (শিল্প, উদ্ভাবন ও অবকাঠামো), ১১ (টেকসই নগর ও জনবসতি) ও ১৩ (জলবায়ু পদক্ষেপ) অর্জনে সরাসরি ভূমিকা রাখবে।
এ বন্ডের আকর্ষণীয় দিক হলো কর অব্যাহতির সুবিধা। এটি জিরো-কুপন বন্ড হওয়ায় আয়কর আইন অনুযায়ী এর থেকে অর্জিত মুনাফায় কোনো অগ্রিম আয়কর বা অন্য কোনো কর প্রযোজ্য হবে না। এছাড়া আবেদনের সময় শেষ হওয়ার পর বন্ডটি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হবে এবং নিয়ম অনুযায়ী বিনিয়োগকারীরাও কর রেয়াত উপভোগ করতে পারবেন। জরুরি প্রয়োজনে মেয়াদের আগেই বাজার থেকে বন্ড বিক্রি করে সহজেই নগদ টাকা তুলে নেয়ার সুযোগও রয়েছে।


