এআই প্রযুক্তিতে ক্রমবর্ধমান বিনিয়োগে বাড়ছে মূল্যস্ফীতির চাপ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিপুল বিনিয়োগ বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
তবে একই সঙ্গে প্রযুক্তিটি মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন চাপও তৈরি করছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। বিশেষ করে ডেটা সেন্টার নির্মাণ ও পরিচালনায় বাড়তি বিদ্যুৎ চাহিদা ও নির্মাণ ব্যয় এ চাপের অন্যতম কারণ। খবর দ্য ন্যাশনাল।
সম্প্রতি প্রকাশিত বিভিন্ন গবেষণা ও বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের ফলে ডেটা সেন্টার নির্মাণে ব্যাপক বিনিয়োগ হচ্ছে। এসব ডেটা সেন্টারে চ্যাটজিপিটির মতো এআই সেবা ও ক্লাউডভিত্তিক প্রযুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় সার্ভার ও নেটওয়ার্ক অবকাঠামো স্থাপন করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে তিন হাজারের বেশি ডেটা সেন্টার চালু রয়েছে। এছাড়া আরো প্রায় ১ হাজার ৫০০ ডেটা সেন্টার নির্মাণাধীন বা পরিকল্পনা পর্যায়ে রয়েছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর হিসাব অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক এআই অবকাঠামো গড়ে তুলতে পাঁচ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন হতে পারে।
বিশ্বের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এ খাতে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ করছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট, অ্যামাজন, মেটা ও মাইক্রোসফট এআই অবকাঠামো সম্প্রসারণে বিপুল অর্থ ব্যয় করেছে। চলতি বছরে এআই-সংশ্লিষ্ট মূলধনী ব্যয় ৬৫০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা, ২০২৫ সালের তুলনায় যা ৬৭ শতাংশ বেশি।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা বলছেন, ডেটা সেন্টার পরিচালনার জন্য বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ প্রয়োজন। গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিস্টাড এনার্জির হিসাবে, ২০৩৫ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ডেটা সেন্টারগুলোর বিদ্যুৎ চাহিদা ১০০ গিগাওয়াটের বেশি হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে নির্মাণাধীন স্টারগেট প্রকল্প এর একটি বড় উদাহরণ। ৫০০ বিলিয়ন ডলারের এ প্রকল্পে প্রায় সাত গিগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হবে। তুলনামূলকভাবে নিউইয়র্ক শহর পরিচালনায় প্রয়োজন হয় প্রায় ছয় গিগাওয়াট বিদ্যুৎ।
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসন জানায়, দীর্ঘদিন স্থিতিশীল থাকার পর সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বিদ্যুতের চাহিদা ফের বাড়তে শুরু করেছে। এর বড় একটি কারণ ডেটা সেন্টারের সম্প্রসারণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই-সম্পর্কিত অবকাঠামো নির্মাণে চিপ, কংক্রিট ও স্টিলের চাহিদা বাড়ছে। একই সঙ্গে নির্মাণশ্রমিকদের মজুরিও বাড়ছে। ফলে কিছু খাতে বাড়ছে উৎপাদন ব্যয় ও তৈরি হচ্ছে মূল্যস্ফীতির চাপ।
ইউএস এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জানায়, ১৫ বছর ধরে দেশটিতে বিদ্যুতের ব্যবহার মোটামুটি একই স্তরে ছিল। তবে ডেটা সেন্টার তৈরির পর থেকে গত পাঁচ বছরে বিদ্যুতের গড় চাহিদা ২ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে।
তবে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে এ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কেউ কেউ মনে করেন, বর্তমান মূল্যবৃদ্ধি সাময়িক। সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে চিপসহ বিভিন্ন উপকরণের দাম কমে আসতে পারে। আবার অনেকের ধারণা, এআই প্রযুক্তি দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদনশীলতা বাড়াবে এবং মূল্যস্ফীতি কমাতেও সহায়তা করবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের নীতিনির্ধারকদের সামনে বড় প্রশ্ন হলো এআই কতটা মূল্যস্ফীতি বাড়াবে ও এর উৎপাদনশীলতার সুফল কবে থেকে অর্থনীতিতে দৃশ্যমান হবে। বর্তমানে মূল্যস্ফীতি এখনো ফেডের ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার ওপর রয়েছে। ফলে এআইয়ের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে নীতিনির্ধারকদের মধ্যে আলোচনা ফের জোরালো হচ্ছে।


