শিরোনাম

South east bank ad

বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির প্রতি সরকারের অঙ্গীকারের প্রতিফলন

 প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ন   |   আমদানী/রপ্তানী

বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির প্রতি সরকারের অঙ্গীকারের প্রতিফলন

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে স্বাগত জানিয়েছে জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (জেবিসিসিআই)।

সংগঠনটির মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, মূল্যস্ফীতির চাপ ও উচ্চ অর্থায়ন ব্যয়ের মধ্যেও প্রস্তাবিত বাজেটে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, আর্থিক শৃঙ্খলা জোরদার এবং দেশী-বিদেশী বিনিয়োগের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরির প্রতি সরকারের অঙ্গীকারের প্রতিফলন ঘটেছে।

জেবিসিসিআই গতকাল এক বিবৃতিতে বলেছে, টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক সুরক্ষা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকারের গুরুত্বারোপ ইতিবাচক। একই সঙ্গে বেসরকারি খাতকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করাও বিনিয়োগকারীদের জন্য উৎসাহব্যঞ্জক বার্তা বহন করে।

সংগঠনটি কর ও কাস্টমস প্রশাসনের ডিজিটালাইজেশন উদ্যোগের প্রশংসা করেছে। তাদের মতে, ভ্যাট নিবন্ধন প্রক্রিয়ার স্বয়ংক্রিয়করণ, অনলাইন কমপ্লায়েন্স ব্যবস্থা সম্প্রসারণ, ইআরপি-ভিত্তিক ডকুমেন্টেশন স্বীকৃতি এবং আরো কাঠামোবদ্ধ অডিট পদ্ধতি ব্যবসায়িক স্বচ্ছতা বাড়াবে, প্রশাসনিক জটিলতা কমাবে এবং নীতিগত পূর্বানুমানযোগ্যতা নিশ্চিত করবে।

এছাড়া কাস্টমস আধুনিকায়ন, বন্ডেড ওয়্যারহাউজ ব্যবস্থাপনা, লজিস্টিকস উন্নয়ন ও ফ্রি ট্রেড জোন প্রতিষ্ঠাসংক্রান্ত সংস্কারকে স্বাগত জানিয়েছে জেবিসিসিআই।

সংগঠনটির ভাষ্য, দক্ষ কাস্টমস প্রক্রিয়া, আধুনিক লজিস্টিক অবকাঠামো এবং দ্রুত বন্দরসেবা জাপানি উৎপাদনকারী ও বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের জন্য বিনিয়োগ সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বাজেটে ইলেকট্রিক ভেহিকল, ব্যাটারি প্রযুক্তি, সেমিকন্ডাক্টর, উন্নত ইলেকট্রনিকস ও মেডিকেল ডিভাইস খাতে প্রণোদনাকে ভবিষ্যৎমুখী শিল্পায়নের ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে সংগঠনটি। তাদের মতে, এসব উদ্যোগ উচ্চমূল্যের বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণ, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং দক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক হবে।

তবে বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে জেবিসিসিআই। সংগঠনটির মতে, নীতিগত ঘোষণার সুফল নিশ্চিত করতে সময়মতো বাস্তবায়ন বিধি জারি, স্পষ্ট নির্দেশনা এবং মাঠপর্যায়ে অভিন্ন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক স্থিতিশীলতা, কর ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা ও স্বচ্ছ কাস্টমস প্রশাসন দীর্ঘমেয়াদি জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ।

সংগঠনটি আরো বলেছে, ডিজিটাল কর ও কাস্টমস ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে নির্ভরযোগ্য প্রযুক্তিগত অবকাঠামো ও দক্ষ সহায়তা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমানো, লজিস্টিকস ও বাণিজ্য অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখতে হবে।

জেবিসিসিআই মনে করে, বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) বাস্তবায়নের প্রেক্ষাপটে এ বাজেট জাপানি বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর ও দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে। সংগঠনটি আশা প্রকাশ করেছে, কার্যকর বাস্তবায়ন ও ধারাবাহিক সংস্কারের মাধ্যমে বাংলাদেশ এশিয়ার আরো একটি প্রতিযোগিতামূলক ও বিনিয়োগবান্ধব গন্তব্য হিসেবে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে সক্ষম হবে।

BBS cable ad

আমদানী/রপ্তানী এর আরও খবর: