সংবাদ শিরোনাম
DSE

নজর কাড়ছে আরএফএল-এর ‘আমরা নতুন বাংলাদেশ’

natun

স্বাধীন বাংলাদেশের ৪৬ বছরের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরতে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি না, আমরা নতুন বাংলাদেশ’শীর্ষক প্যাভিলিয়ন তৈরি করেছে দেশের শীর্ষ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আরএফএল। প্যাভিলিয়নটিতে প্রায় একশটি ছবির মাধ্যমে বাংলাদেশের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

শনিবার বিকেলে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু প্যাভিলিয়নটির উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের আগেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দর্শনার্থীদের নজর কাড়ে এটি। উদ্বোধনের পরপরই দর্শনার্থীদের ঢল নামে ‘আমরা নতুন বাংলাদেশ’ প্যাভিলিয়নে। আগামী শুক্রবার (২২ ডিসেম্বর) পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

প্যাভিলিয়ন ঘুরে দেখা যায়, এর ভেতরে ৮৯টি উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে আছে- প্রধানমন্ত্রীর কন্যা সায়মা ওয়াজেদের কীর্তি। আছে ওয়াসফিয়া নাজরীনের সেভেন সামিট জয়, মাহফুজা খাতুন শিলা ও মারিয়া আক্তার সীমান্তের সোনার পদক, কর্নেল ডা. নাজমা বেগমের সাফল্য। রোকসানা বেগম, নাদিয়া শাহ, তাসমিন মাহফুজ, শাহনাজ পারভীন, পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার, মেরিনা তাবসসুমের সাফল্যের চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে।

বাদ যায়নি চিকিৎসক ডা. সায়েবা আক্তার, পাটের জিনের আবিষ্কারক ড. মাকসুদুল আলম, ইংলিশ চ্যালেন পাড়ি দেয়া এশিয়ার প্রথম সাতারু ব্রজেন দাস, গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডধারী প্রথম নারী টেবিল টেনিস খেলোয়াড় জোবেরা রহমান লিনু, ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান ও গলফার সিদ্দিকুর রহমানের সাফল্যের কথাও।
বাংলাদেশের সাফল্যের বিভিন্ন তথ্য এক ছাদের নিচে দেখতে পেয়ে বেশ খুশি দর্শনার্থীরাও। মিরপুর থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আসা ফাতেমা বেগম বলেন, এটি একটি ব্যতিক্রমধর্মী প্রদর্শনী। এটি দেখে খুব ভালো লাগলো। বাংলাদেশের যে এত এত সাফল্য, আগে জানতামই না। আমরা অনেক দিক থেকেই বিশ্বের অনেক দেশ থেকে এগিয়ে আছি। এমন বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করে আমি সত্যিই গর্ববোধ করছি।

যাত্রাবাড়ী থেকে পরিবার নিয়ে আসা মো. আল-আমিন বলেন, আমরা এসেছিলাম সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গান শুনতে। এখানে এসে দেখি আরএফএল-এর ‘আমরা নতুন বাংলাদেশ’ প্যাভিলিয়ন। দূর থেকে দেখেই এটির নজর কাড়ে। এরপর ভেতরে প্রবেশ করে দেখি- চারদিকে বাংলাদেশের বিভিন্ন সাফল্যের তথ্য। অথচ এ দেশকে এক সময়কার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ আখ্যা দিয়েছিলেন। আজ কিসিঞ্জার সাফল্যের এ তথ্য দেখলে আমার বিশ্বাস লজ্জায় মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারতেন না।
তিনি বলেন, আমরা বীরের জাতি। যুদ্ধ করে আমাদের পূর্ব প্রজন্ম স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। আমরা পরাজয় মানতে রাজি নই। এখন বিশ্বের সব দেশই এ কথা বিশ্বাস করে। এ কারণে যেই বাংলাদেশ সফরে আসেন তার মুখেই বাংলাদেশের সাফল্যের জয়গান শোনা যায়। এটি আমাদের জন্য বিরাট পাওয়া। এক সময় আমরা অন্য দেশে আশ্রয় নিতাম, এখন লাখ লাখ রোহিঙ্গা আমাদের দেশে আশ্রয় নেয়। এনিয়ে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। এটিই বাংলাদেশের মানুষের চরিত্র।

প্যাভিলিয়ন ঘুরে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ‘বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য’ হিসেবে ইউনেস্কোর স্বীকৃতির তথ্য, গ্লোবাল মোবাইল গভর্নমেন্ট অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্তি, গুসি শান্তি পুরস্কার- ২০১৫, চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ- ২০১৫, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাফল্য এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্তির তথ্য চোখে পড়ে।

অর্থনৈতিক বিনিয়োগে বিশ্বের ১১টি দেশের মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশ, বাংলাদেশের মাথাপিছু আয়, মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) সাফল্যের তথ্য, গড় আয়ু, রেমিট্যান্স উপার্জনে বাংলাদেশের অবস্থান, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, রফতানি আয়, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বাংলাদেশের সাফল্যের তথ্যও তুলে ধরা হয়েছে প্যাভিলিয়নে।

‘পরিবেশ সহিষ্ণু ধান উদ্ভাবনে বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষে’- এ তথ্যের পাশাপাশি শোভা পাচ্ছে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা, চাল উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে চতুর্থ, চিংড়ি রফতানিতে বাংলাদেশ অন্যতম, ইলিশ মাছের স্বত্ব পাওয়া, মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ চতুর্থ, সবজি উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে তৃতীয়, আলু উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান অষ্টম স্থানে- এমন আরো অরেক তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া পদ্মা সেতু, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট, ঢাকা-চট্টগ্রাম চার লেনের হাইওয়ে, পারমাণবিক যুগে বাংলাদেশের প্রবেশ, ঢাকা মেট্রোরেল, পায়রা সমুদ্রবন্দরের তথ্যের পাশাপাশি সালমান আমিন খান, নাজমা আক্তার, গোলাম ফারুক, তাহমিনা আনাম, টিউলিপ রেজওয়ান সিদ্দিকী, নিজামউদ্দিন আউলিয়া লিপু, সজীব ওয়াজেদ জয়, জাভেদ করিমের সাফল্যের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে ‘আমরা নতুন বাংলাদেশ’ প্যাভিলিয়নে।

আউটসোর্সিং, নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন, পাটের সাফল্য, মোবাইল ব্যাংকিং, ওষুধ রফতানির তথ্য, নারী-পুরুষ লিঙ্গ সমতা, পোশাক রফতানি, ব্র্যাকের সাফল্য, আয়েশা আরেফিন টুম্পা, ডা. শেখ মোহাম্মদ ফজলে আকবর, ডা. মামুন-আল-মাহতাব, ডা. শাহ এম ফারুক, বিজ্ঞানী শুভ রায়, ড. আনিসুর রহমান, ড. আবেদন চৌধুরী, মাহমুদা সুলতানার সাফল্যের তথ্যও আছে প্যাভিলিয়নটিতে।

প্যাভিলিয়নটি উদ্বোধন করতে এসে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, বাংলাদেশ কোথায় দাঁড়িয়েছে, তার একটি প্রদর্শনী উদ্বোধনের জন্য আরএফএল-কে ধন্যবাদ। এদিনে এ মাঠে পাকিস্তান হানাদার বাহিনী ও তার দোসর রাজাকার-আলবদররা আত্মসমর্পণ করে। বাংলাদেশ হানাদারমুক্ত হয়।

তিনি বলেন, আজ এত বছর পর আমরা যখন পেছন ফিরে তাকাই, তখন দেখি বাংলাদেশ আরো অনেক দূর এগোতে পারত। যত দূর এগোনো উচিত ছিল, তার থেকে একটু কম এগিয়েছি। এর কারণ হচ্ছে ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে সামরিক শাসকরা বাংলাদেশে রাজাকার, জামায়াত-যুদ্ধাপরাধীদের আমদানি ও পুনর্বাসন করে। এরপরও বাংলাদেশ অনেক সাফল্য অর্জন করেছে।

‘যে আমেরিকা যুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল, যে হেনরি কিসিঞ্জার বাংলাদেশের বিরোধিতা করেছিল, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে স্বীকার করেনি, স্বাধীনতার পর যারা ঠাট্টা করে বলেছিল, বাংলাদেশ কোনোদিনই দাঁড়াতে পারবে না, বাংলাদেশ চিরদিন তলাবিহীন ঝুড়ি থাকবে, আজ এ বিজয়ের দিনে রেসকোর্স ময়দানে দাঁড়িয়ে হেনরি কিসিঞ্জারকে আহ্বান জানাই- আসুন, দেখে যান, বাংলাদেশ আর তলাবিহীন ঝুড়ি নয়’- যোগ করেন তথ্যমন্ত্রী।