কৃষি বাণিজ্য কেন্দ্র আশুগঞ্জ মোকামে অবকাঠামো সংকট
পূর্বাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ ধানের মোকাম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের ভিওসি ঘাট।
মেঘনাতীরের এ বাণিজ্যিক কেন্দ্রে প্রতিদিন প্রায় এক লাখ মণ ধান কেনাবেচা হয়। হাওরাঞ্চলের খাদ্যনিরাপত্তা ও হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান টিকিয়ে রাখা এ বাজার ঘিরে জেলায় গড়ে উঠেছে প্রায় ২৫০ চালকল। এরই মধ্যে এটি পূর্বাঞ্চলের কৃষি অর্থনীতির অন্যতম প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। তবে এখনো গড়ে ওঠেনি গুরুত্বপূর্ণ এ কেন্দ্রটির প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, নেই আধুনিক জেটি, আবাসন ও স্যানিটেশন সুবিধা। ফলে এখানকার ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, আধুনিক জেটি ও ব্যবসায়ীদের আবাসন কিংবা শ্রমিকদের জন্য কোনো বিশ্রামাগার এখানে নেই। ফলে স্থানীয় অর্থনীতিতে বিশাল অবদান রাখলেও বছরের পর বছর দুর্ভোগ নিয়েই পরিচালিত হচ্ছে এ মোকামের কার্যক্রম।
জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ হাওরাঞ্চলের অন্তত সাত জেলার ধান আসে আশুগঞ্জে। বিশেষ করে, কিশোরগঞ্জের নিকলী, মিঠামইন, ইটনা, সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনার বিভিন্ন হাওর এলাকা থেকে নৌপথে এখানে ধান নিয়ে আসেন ব্যবসায়ীরা। এখানে বিআর২৮, বিআর২৯ ও মোটা জাতের ধানের বড় বাজার গড়ে উঠেছে। ধানের এ প্রবাহকে কেন্দ্র করেই বিস্তৃত হয়েছে একটি বড় অর্থনৈতিক বলয়। আশুগঞ্জ মোকামকে ঘিরে শুধু ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাতেই গড়ে উঠেছে প্রায় আড়াইশ চালকল। এসব মিল থেকে প্রতিদিন অন্তত ১০ কোটি টাকার চাল বাজারজাত করা হয় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।
স্থানীয়রা জানান, এ মোকাম ঘিরে ধান ওঠানামা, পরিবহন, চালকল, গুদামজাত ও খুচরা বাণিজ্য—সব মিলিয়ে কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে।
ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা জানান, এত বড় মোকাম হলেও এখানে আধুনিক জেটি নেই। ফলে নৌকা থেকে ধান ওঠানামার সময় প্রতিদিনই পড়তে হয় দুর্ভোগে। ঘটে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। বর্ষা মৌসুম কিংবা ঝোড়ো আবহাওয়ায় নিরাপদে নৌকা ভিড়ানোর সুযোগ না থাকায় ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও থেকে যায়। অনেক সময় প্রতিকূল আবহাওয়ায় নদীতেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় ব্যবসায়ীদের।
হাওরাঞ্চল থেকে ধান নিয়ে আসা শ্রমিকদের ভাষ্য, ধান বিক্রি করতে এসে অনেক সময় কয়েক দিন পর্যন্ত আশুগঞ্জে অবস্থান করতে হয়। কিন্তু থাকার মতো কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে রাত কাটাতে হয় নৌকাতেই। খাওয়া-দাওয়া ও প্রয়োজনীয় স্যানিটেশন সুবিধার অভাব নিয়মিত দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নিকলী থেকে আসা ধান ব্যবসায়ী রমজান মিয়া বলেন, ‘আমরা হাজার হাজার মণ ধান এখানে বিক্রি করতে আনি। কিন্তু মোকামে ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধাও পাই না। সরকারিভাবে জেটি নির্মাণ ও ব্যবসায়ীদের থাকার ব্যবস্থা করা জরুরি বলে মনে করি।’
একই ধরনের ভোগান্তির কথা জানান শ্রমিকরাও। প্রতিদিন শত শত শ্রমিক এ মোকামে কাজ করলেও তাদের জন্য নেই বিশ্রামাগার কিংবা স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ। সারা দিন পরিশ্রমের পর অনেককেই খোলা স্থানে কিংবা নৌকায় বসে বিশ্রাম নিতে হয়। স্থানীয়দের মতে, একটি আধুনিক বিশ্রামাগার, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা ও উন্নত স্যানিটেশন সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে শ্রমিকদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে আসবে।
স্থানীয় বাসিন্দা গোলাম হোসেন ইপটি বলেন, ‘পর্যাপ্ত জেটি ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা হলে মোকামটি আরো সম্প্রসারণ হবে। এতে কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ হবে, ব্যবসার পরিধি বাড়বে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে আরো গতি আসবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আশুগঞ্জকে পরিকল্পিত কৃষিপণ্য বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা গেলে এটি জাতীয় অর্থনীতিতেও বড় ভূমিকা রাখবে।’
আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাফে মোহাম্মদ ছড়া বলেন, ‘মোকাম সম্প্রসারণ ও শ্রমিক-ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি নিরসনে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নি


