তিন প্রান্তিকে ম্যারিকোর আয় বেড়েছে ২৪ শতাংশের বেশি
বহুজাতিক কোম্পানি ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেড চলতি ২০২৫-২৬ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (এপ্রিল-ডিসেম্বর) আয় বেড়েছে ২৪ দশমিক ১১ শতাংশ। আলোচ্য প্রান্তিকের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের জন্য ৪৭৫ শতাংশ নগদ অন্তর্বর্তী লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে ম্যারিকোর আয় হয়েছে ১ হাজার ৫৪৫ কোটি টাকা, আগের হিসাব বছরের একই প্রান্তিকে যা ছিল ১ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা। আলোচ্য প্রান্তিকে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ৪৯৭ কোটি ৯৮ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরের একই প্রান্তিকে যা ছিল ৪৫৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।
প্রথম তিন প্রান্তিকে ম্যারিকোর শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১৫৮ টাকা ৯ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই প্রান্তিকে যা ছিল ১৪৫ টাকা ৬৫ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৯২ টাকা ২২ পয়সায়।
সর্বশেষ ৩১ মার্চ সমাপ্ত ২০২৪-২৫ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ৩ হাজার ৮৪০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটির পর্ষদ। এর মধ্যে ১ হাজার ৯৫০ শতাংশ চূড়ান্ত নগদ ও ১ হাজার ৮৯০ শতাংশ অন্তর্বর্তী নগদ লভ্যাংশ। আলোচ্য হিসাব বছরে ম্যারিকোর ইপিএস হয়েছে ১৮৭ টাকা ৪৯ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১৪৬ টাকা ২৩ পয়সা। ৩১ মার্চ ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২৩৯ টাকা ১৩ পয়সায়।
সমাপ্ত ২০২৩-২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ২০০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি। আলোচ্য হিসাব বছরে ম্যারিকো বাংলাদেশের ইপিএস হয়েছে ১৪৬ টাকা ২৩ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১২২ টাকা ৯৩ পয়সা। ৩১ মার্চ ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২৬০ টাকা ৬৪ পয়সায়।
সমাপ্ত ২০২২-২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ৭৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি। আলোচ্য হিসাব বছরে ম্যারিকো বাংলাদেশের ইপিএস হয়েছে ১২২ টাকা ৯৩ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১১২ টাকা ৮২ পয়সা। ৩১ মার্চ ২০২৩ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১১৩ টাকা ৮৫ পয়সায়।
ম্যারিকো বাংলাদেশের সার্ভিল্যান্স রেটিং দীর্ঘমেয়াদে ‘ট্রিপল এ’ ও স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি ওয়ান’। সমাপ্ত ২০২৪-২৫ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন, ৩০ জুন ২০২৫ পর্যন্ত অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং রেটিং ঘোষণার দিন পর্যন্ত প্রাসঙ্গিক অন্যান্য পরিমাণগত ও গুণগত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এ প্রত্যয়ন করেছে ইমার্জিং ক্রেডিট রেটিং লিমিটেড (ইসিআরএল)।
মুম্বাইভিত্তিক এফএমসিজি কোম্পানি ম্যারিকো ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশে ব্যবসা শুরু করে। ২০০৯ সালে ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেড নামে এটি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ৪০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ৩১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৬৯৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ৩ কোটি ১৫ লাখ। এর ৯০ শতাংশই রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৬ দশমিক ২৮, বিদেশী বিনিয়োগকারী ১ দশমিক ৮৯ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ১ দশমিক ৮৩ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।


