প্রথম প্রান্তিকে প্রায় ৩৮০ কোটি টাকার পণ্য বিক্রি করেছে বাটা
তালিকাভুক্ত বাটা শু কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) প্রায় ৩৮০ কোটি টাকার পণ্য বিক্রি করেছে।
চলমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং পরিবর্তনশীল স্থানীয় বাজার পরিস্থিতির মধ্যেও কোম্পানিটি বছরের প্রথম প্রান্তিকে উল্লেখযোগ্য পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। ঈদ মৌসুমের ইতিবাচক বাজার চাহিদা, কৌশলগত ব্যবসায়িক বাস্তবায়ন এবং ক্রেতাদের অব্যাহত আস্থার ভিত্তিতে দেশের শীর্ষস্থানীয় বহুজাতিক পাদুকা কোম্পানিটি এ সময়ে বাজারে নিজেদের অবস্থান আরো সুদৃঢ় করেছে।
২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির বিক্রি দাঁড়িয়েছে ৩৭৯ কোটি ৭০ লাখ টাকায়। ঈদ মৌসুমকে ঘিরে ক্রেতাদের বাড়তি কেনাকাটা, বৈচিত্র্যময় পণ্যের সমাহার এবং দেশব্যাপী ক্রেতা চাহিদার ধারাবাহিকতা এ প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি বাটার বিস্তৃত রিটেইল নেটওয়ার্ক, বিকল্প বিক্রয় চ্যানেলের সম্প্রসারণ এবং নতুন কালেকশনগুলোতেও ক্রেতাদের ইতিবাচক সাড়া কোম্পানিটির এ রেকর্ড পারফরম্যান্সে সহায়তা করেছে।
মুদ্রাস্ফীতি, লজিস্টিকস, ব্র্যান্ড প্রমোশন ও সামগ্রিক পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধির চাপ থাকা সত্ত্বেও দক্ষ উৎপাদন পরিকল্পনা, নিয়ন্ত্রিত ব্যবসায়িক ব্যবস্থাপনা এবং কৌশলগত সোর্সিং উদ্যোগের মাধ্যমে বাটা বাংলাদেশ প্রান্তিকজুড়ে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি ও কার্যক্রমের গতি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। একই সঙ্গে বাজারে প্রতিযোগিতামূলক মধ্যম মূল্যসীমা বজায় রেখে প্রতিষ্ঠানটি দেশজুড়ে ক্রেতাদের জন্য সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য পাদুকা পণ্য সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে। কোম্পানিটির অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে পরিচালন মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৫৮ দশমিক ৫ কোটি টাকা এবং কর-পরবর্তী মুনাফা হয়েছে ৩৭ দশমিক ১ কোটি টাকা, যা কোম্পানিটির প্রথম প্রান্তিকে রেকর্ড মুনাফা অর্জনে সহায়তা করেছে।
কোম্পানিটি জানায়, দেশের অন্যতম বড় উৎসব ঈদ, এ বছর প্রথম প্রান্তিকে পড়ায় বছরের শুরুতেই বাজারে ক্রেতা চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। এ চাহিদা মোকাবেলায় বাটা নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি পণ্য সংগ্রহ ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনাকে আরো কার্যকর করেছে।
টানা সপ্তমবারের মতো চামড়া ও পাদুকা শিল্প খাতে সর্বোচ্চ করদাতা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে বাটা বাংলাদেশ। শুধু ব্যবসায়িক সাফল্য নয়, দেশের অর্থনীতিতে ধারাবাহিক অবদান রেখেও প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের অবস্থান আরো শক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। সামনের দিনগুলোতে উদ্ভাবন, ক্রেতাদের অভিজ্ঞতা এবং সময়োপযোগী জুতার কালেকশন নিয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বাটা বাংলাদেশ। পাশাপাশি কয়েক দশক ধরে গড়ে ওঠা মান ও আস্থার ঐতিহ্য ধরে রেখে দেশের ভোক্তাদের জন্য নির্ভরযোগ্য ও আধুনিক পণ্য নিয়ে আসার প্রতিশ্রুতি অব্যাহত রাখবে প্রতিষ্ঠানটি।


