নির্মাণ খাতে স্থবিরতা, হিমশিম খাচ্ছে ইস্পাত শিল্প
তিন মাস ধরে নির্মাণ খাত সংকোচন ধারার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ফলে এ খাতের অন্যতম প্রধান উপাদান ইস্পাত শিল্পের প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে।
বুধবার (১৩ মে) রাজধানীর গুলশানে ব্যবসায়ীদের শীর্ষস্থানীয় সংগঠন মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) ও পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ (পিইবি) আয়োজিত এক সভায় এ তথ্য উঠে আসে।
এমসিসিআই ও পিইবি প্রতি মাসে যৌথভাবে পিএমআই প্রতিবেদন প্রকাশ করে। দেশের অর্থনীতির প্রধান চারটি খাত—কৃষি, উৎপাদন, নির্মাণ ও সেবা খাতের ওপর জরিপ চালিয়ে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। ১০০-এর মধ্যে নির্ধারিত এ প্রতিবেদনের সূচক মান ৫০-এর নিচে হলে সংশ্লিষ্ট খাত সংকোচন ও ৫০-এর বেশি হলে সম্প্রসারণের ধারায় রয়েছে বলে বোঝানো হয়।
চলতি মাসে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এপ্রিলের পিএমআই আগের মাস থেকে ১ দশমিক ১ পয়েন্ট বেড়ে ৫৪ দশমিক ৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এ মাসে কৃষি খাতের সূচক ৭০ দশমিক ৭, উৎপাদন খাতের সূচক ৫৬ দশমিক ৯ ও সেবা খাতের সূচক ৫১ দশমিক ৮-এ ছিল। তিনটি খাত সম্প্রসারণ ধারায় থাকলেও একমাত্র সংকোচন ধারায় রয়েছে নির্মাণ খাত। এপ্রিলে এ খাতের সূচক দাঁড়িয়েছে ৪৪ দশমিক ৬ পয়েন্টে।
শুধু এপ্রিলই নয়, পিএমআই প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিন মাস ধরে নির্মাণ খাতের পয়েন্ট কমছে। সর্বশেষ গত জানুয়ারিতে সম্প্রসারণ ধারায় ছিল এ খাত। সে মাসে খাতটির পয়েন্ট ছিল ৫৮ দশমিক ২। এরপর ফেব্রুয়ারিতে তা ৪৯ দশমিক ২ পয়েন্টে নেমে আসে। মার্চেও একই পয়েন্টে থাকে এ খাতটির সূচক।
তবে এপ্রিলে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে ৪৪ দশমিক ৬ পয়েন্টে নেমে আসে নির্মাণ খাত।
পিইবির সিনিয়র ম্যানেজার হাসনাত আলম বলেন, ‘গত এপ্রিলে অন্যান্য খাত সংকুচিত হলেও কৃষি ও উৎপাদন খাতে সম্প্রসারণ হয়েছে। নির্মাণ খাত অনেকটা স্থবির হয়ে পড়ায় স্টিল খাতের কোম্পানিগুলো ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে।’
হাসনাত আলম আরো বলেন, ‘পিএমআই সূচক নির্ধারণে আমরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তা বা মালিক পক্ষকে কয়েকটি প্রশ্ন করি। সাত থেকে আটটি প্রশ্ন করা হয়। এতে বোঝা যায় ওই কোম্পানি আগের চেয়ে কর্মসংস্থান বাড়িয়েছে কিনা, আমদানি-রফতানি কতটা প্রবৃদ্ধি হয়েছে। বিভিন্ন খাতের কোম্পানি সম্পর্কে এসব তথ্য একত্র করলে দেশের অর্থনীতির সামগ্রিক চিত্র উঠে আসে।’
পিইবির চেয়ারম্যান ও নির্বাহী পরিচালক ড. মাসরুর রিয়াজ। তিনি বলেন, ‘পিএমই দেশের অর্থনীতির গতিশীলতা সম্পর্কে নিয়মিত তথ্য দেয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রণালয়, দাতা সংস্থা ও দূতাবাসসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা পিএমআইয়ের ওপর ভিত্তি করে তাদের প্রতিবেদন তৈরি করে। এটি সরকার ও বেসরকারি খাতকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নির্ধারণে সহায়তা করে।’
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন এমসিসিআইয়ের মহাসচিব ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ফারুক আহমেদ। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিঙ্গাপুর ইনস্টিটিউট অব পারচেজিং অ্যান্ড ম্যাটেরিয়ালস ম্যানেজমেন্টের (এসআইপিএমএম) নির্বাহী পরিচালক স্টিফেন পোহ। এ সময় তিনি বলেন, ‘সিঙ্গাপুরে পিএমআই দুই দশক ধরে চালু রয়েছে। বর্তমানে সরকার, এজেন্সি ও গণমাধ্যমে পিএমআইকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হয়।’
অনুষ্ঠানে রবি আজিয়াটা পিএলসির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার এম এনামুল্লাহ সাঈদ, কোকা-কোলা বেভারেজ বাংলাদেশ লিমিটেডের ফাইন্যান্স ইন্টিগ্রেশন লিডার আহমেদ জাহিদ ইরদম, পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স পিএলসির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার রফিকুল ইসলাম ও ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স পিএলসির অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. মনিরুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


