শিরোনাম

South east bank ad

বিশ্ববাজারে বাড়ছে ভুট্টা ও সয়াবিনের দাম

 প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

বিশ্ববাজারে বাড়ছে ভুট্টা ও সয়াবিনের দাম

অ্যামোনিয়া ও প্রাকৃতিক গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সারের বাজারে এ ধাক্কা আরো তীব্র হয়েছে। বিশ্বজুড়ে সারের বাড়তি দামের কারণে কৃষকরা জমিতে সার ব্যবহার কমাতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে বিশ্বব্যাপী শস্য উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে হরমুজ প্রণালিতে পণ্য পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে বিশ্বজুড়ে সার সরবরাহে দেখা দিয়েছে তীব্র সংকট। ফলে বিশ্ববাজারে খাদ্যশস্য, বিশেষ করে ভুট্টা ও সয়াবিনের দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে, যা বৈশ্বিক কৃষি উৎপাদনে তৈরি করেছে নতুন দুশ্চিন্তা। খবর আনাদোলু এজেন্সি।


চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) প্রধান কৃষি উপাদান ডায়ামোনিয়াম ফসফেটের (ডিএপি) দাম ২৮ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি টন ৮০২ ডলার ৫ সেন্টে পৌঁছেছে। ২০২৫ সালের শেষে প্রতি টন ডিএপি সারের দাম ছিল ৬২৫ ডলার। সারের এ অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাবে ভুট্টা ও সয়াবিনের দাম যথাক্রমে ১৩ দশমিক ৩ ও ২২ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে।

এ সংকটের মূল কারণ বাণিজ্যিক নৌ-চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়া। স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট সার বাণিজ্যের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই এ গুরুত্বপূর্ণ পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের জোগান অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তাই জ্বালানি তেলের ঝুঁকি প্রিমিয়াম বা সংযোজিত মূল্য বেড়ে গেছে। ফলে কৃষিকাজের অন্যতম মৌলিক উপাদান ডিজেলের দামও অনেকটাই বেড়েছে।

অ্যামোনিয়া ও প্রাকৃতিক গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সারের বাজারে এ ধাক্কা আরো তীব্র হয়েছে। বিশ্বজুড়ে সারের বাড়তি দামের কারণে কৃষকরা জমিতে সার ব্যবহার কমাতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে বিশ্বব্যাপী শস্য উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

কুয়েত তুর্কি পার্টিসিপেশন ব্যাংকের বিনিয়োগ গবেষণা পরিচালক কুতায় গুজগোর বলেন, ‘সারের এ জোগান সংকট কেবল ইউরিয়াভিত্তিক নাইট্রোজেন সারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। ডিএপি সার তৈরিতে ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় সালফার ও অ্যামোনিয়ার বড় একটি অংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে লজিস্টিক বা পরিবহনজট তৈরি হওয়ায় ফসফেটজাতীয় সারের দামে এক ধরনের দীর্ঘস্থায়ী চাপ তৈরি হয়েছে।’

তিনি আরো সতর্ক করে বলেন, ‘সার সংকটের এ ধারা বজায় থাকলে ২০২৬-২৭ মৌসুমে কৃষিভিত্তিক উৎপাদনে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। মাঝে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের একটি সাময়িক চুক্তির পর পণ্য পরিবহন সাময়িকভাবে কিছুটা পুনরুদ্ধার হয়েছিল। তবে জুলাইয়ের মাঝামাঝি যুদ্ধবিরতি ভেঙে পুনরায় সংঘর্ষ শুরু হওয়ায় সার রফতানি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারেনি। এ সংকট মোকাবেলায় বিকল্প বৈশ্বিক সরবরাহকারীরা দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে সরবরাহ সচল রাখার চেষ্টা করছে, যা পরিবহনের মূল খরচ আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে।’

জ্বালানি তেলের দাম নতুন করে বাড়লে প্রাকৃতিক গ্যাস ও নাইট্রোজেনভিত্তিক সারের দাম আবারো লাফিয়ে বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। স্বল্পমেয়াদে সার ব্যবহার কমিয়ে কৃষকরা উৎপাদন খরচ কিছুটা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করতে পারেন। তবে পর্যাপ্ত পুষ্টি উপাদানের অভাব দিনশেষে ফসলের ফলন কমিয়ে দেবে এবং আগামী বছরে কৃষকদের মুনাফার মার্জিন আরো সংকুচিত করবে বলে জানান তিনি।

BBS cable ad

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর: