South east bank ad

অপরিবর্তিত রয়েছে আইসিটি খাতে রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা

 প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৫, ১২:০০ পূর্বাহ্ন   |   মন্ত্রনালয়

অপরিবর্তিত রয়েছে আইসিটি খাতে রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা

দেশের আইসিটি সেবা রফতানির পরিমাণ ২০৩০ সালের মধ্যে ৫ বিলিয়ন ডলারে (৫০০ কোটি) উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। একই সঙ্গে এ খাতে পাঁচ বছরের মধ্যে ৮০ লাখ আইসিটি বিশেষজ্ঞ তৈরির আকাশচুম্বী পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। আইসিটি পরিষেবা খাতে রফতানির এ লক্ষ্যমাত্রা বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়েও একই ছিল। বর্তমান সরকার এ খাতে রফতানি লক্ষ্যমাত্রায় কোনো পরিবর্তন আনেনি।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আইসিটি বিভাগ গতকাল ন্যাশনাল ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন স্ট্র্যাটেজি এবং আইসিটি রিফর্ম রোডম্যাপের খসড়া প্রকাশ করেছে। এতে আইসিটি পরিষেবা রফতানি নিয়ে এমন লক্ষ্যমাত্রা দেখা গেছে। খসড়ায় জাইকার দেয়া বাস্তবায়ন কৌশল ও ইউনেস্কোর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা রেডিনেস অ্যাসেসমেন্ট মেথডোলজি (এআইআরএএম) সামারিকে আমলে নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি ডিজিটাল ইকোনমির জন্য গঠিত টাস্কফোর্সের দেয়া ১০টি প্রস্তাবও এখানে গৃহীত হবে।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, দেশ-বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশী বিশেষজ্ঞদের কাছে এ খসড়ার ওপর মতামত আহ্বান করা হয়েছে। এর মাধ্যমে এটিকে আরো সমৃদ্ধ করা হবে।

আইসিটি পরিষেবা রফতানি নিয়ে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২০৩০ সালের মধ্যে এ খাতে ৫ বিলিয়ন ডলার রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রার কথা বলা হয়েছিল। তৎকালীন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে গাজীপুরের কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্কে এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, ‘‌‌আগামী পাঁচ বছরে আইসিটি সেক্টর থেকে রফতানি আয় ৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা হবে।’ সেই সঙ্গে নতুন ১০ লাখ লোকের কর্মসংস্থান ও ১ বিলিয়ন ডলার নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ করার কথা জানিয়েছিলেন তিনি।

আইসিটি বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবির বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আগের সরকার এ লক্ষ্যমাত্রা পূরণে অনেকগুলো ট্রেনিংসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি। যে কারণে রফতানি আয়ে তার প্রতিফলন ঘটেনি। সত্যিকার অর্থে যদি ডিজিটাল কর্মকাণ্ড এবং প্রতিটি পদক্ষেপ যথাযথ ও নিয়মিতভাবে মনিটরিং করা যায়, পাশাপাশি এ কার্যক্রম চালাতে গিয়ে সৃষ্ট ভুলভ্রান্তি তাৎক্ষণিক সংশোধন করা যায়, তাহলে লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছানো না গেলেও কাছাকাছি যাওয়া যাবে।’

উল্লেখ্য, বিগত সরকার দেশের আইসিটি পরিষেবা রফতানি ২ বিলিয়ন ডলার দাবি করলেও মূলত এটা পৌনে ১ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যে দেখা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে টেলিযোগাযোগ, কম্পিউটার ও তথ্যসেবা অর্থাৎ আইসিটি সেবা রফতানির পরিমাণ ছিল ৬৭ কোটি ২৬ লাখ ডলার, যা ওই অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৩ শতাংশ কম। ২০২২-২৩ অর্থবছরে এ খাতে রফতানির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮৭ কোটি ৭৪ লাখ। যদিও তখন রফতানি হয়েছিল ৬৬ কোটি ৪৫ লাখ ডলার।

আইসিটি খাতের সেবা রফতানির মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৈদেশিক আয় আসে সফটওয়্যার, ডাটা প্রসেসিং ও পরামর্শক সেবা থেকে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এসব সেবা রফতানি করে আয় হয়েছে ৫৬ কোটি ৩৩ লাখ ডলার, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে মাত্র ২ দশমিক ৭৮ শতাংশ বেশি। ২০২২-২৩ অর্থবছরে এসব সেবা রফতানি করে আয় হয়েছিল ৫৪ কোটি ৮ লাখ ডলার।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের পলিসি অ্যাডভাইজার ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বণিক বার্তাকে বলেন, ‘২০৩০ সালের মধ্যে রফতানিতে ৫ বিলিয়ন ডলার পৌঁছানো একটা চ্যালেঞ্জিং। ফলে এই জায়গায় পৌঁছাতে বেসিসের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের মতামত নিয়ে এই লক্ষ্যমাত্রায় কিভাবে পৌঁছানো যায়, বিশেষত সফওয়্যাট রফতানির জন্য কি কি পলিসি রিফর্ম দরকার সেটা আলাদাভাবে আমরা জানতে চেয়েছি। দু পক্ষের কাছেই সংস্কার প্রস্তাব আমরা প্রত্যাশা করছি। আমাদের হাতে দুইমাসের মতো সময় রয়েছে। ফলে এ বছরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে আমরা একটা ভালো জায়গায় পৌঁছানোর প্রত্যাশা করছি।’

BBS cable ad

মন্ত্রনালয় এর আরও খবর: