পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্রে উৎসে কর ৫ শতাংশই থাকছে
পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের মুনাফার ওপর উৎসে কর ১০ শতাংশ নয়, ৫ শতাংশ কাটা হবে—এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। গত মাসে এ ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ হারে উৎসে কর কেটে নিয়েছিল জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) এ সংক্রান্ত একটি চিঠি জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে পাঠানো হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব ও এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সঞ্চয়পত্রে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগের ক্ষেত্রে উৎসে কর ছিল ৫ শতাংশ। পাঁচ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে উৎসে কর ছিল ১০ শতাংশ। তবে সর্বশেষ আয়কর আইনে (২০২৩) সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের সব ক্ষেত্রেই ১০ শতাংশ উৎসে কর আরোপ করা ছিল। গত ডিসেম্বর পর্যন্ত এ ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়। জানুয়ারি থেকে ছাড় প্রত্যাহার করায় সবার ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ উৎসে কর কাটা হচ্ছে। তাই পাঁচ লাখ টাকার কম বিনিয়োগকারী গ্রাহকরা জানুয়ারিতে মুনাফা কিছুটা কম পাচ্ছেন।
আজ জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে পাঠানো এনবিআরের চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি যদি সব ধরনের সঞ্চয়পত্রে মোট বিনিয়োগ পাঁচ লাখ টাকা অতিক্রম না করেন, তাহলে অর্জিত মুনাফার ওপর উৎসে করের হার হবে ৫ শতাংশ। এ ছাড়া কোনো ব্যক্তির কোনো আয়বর্ষে যদি শুধু পেনশনার সঞ্চয়পত্রে পুঞ্জীভূত বিনিয়োগ পাঁচ লাখ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে ওই বিনিয়োগ থেকে অর্জিত মুনাফার ওপর কোনো উৎসে কর প্রযোজ্য হবে না। অর্থাৎ এ ক্ষেত্রে উৎসে করের হার শূন্য শতাংশ থাকবে।
চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, আয়কর আইন ২০২৩–এর ১০৫ ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির কোনো আয়বর্ষে সব ধরনের সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের মোট পরিমাণ পাঁচ লাখ টাকা অতিক্রম করলে অর্জিত মুনাফার ওপর উৎসে করের হার হবে ১০ শতাংশ। এনবিআর স্পষ্ট করে জানিয়েছে, আগের নিয়ম অনুযায়ী পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত পেনশনার সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর কোনো উৎসে কর কাটা হবে না।
এদিকে গত ৩১ ডিসেম্বর সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করে ১ জানুয়ারি থেকে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা হার কমানোর ঘোষণা দিলেও চার দিনের মাথায় সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়। ফলে ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত যে মুনাফার হার ছিল, তা চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেও বহাল রয়েছে।


