ব্যাংক খাতের শেয়ারে আগ্রহ বাড়ছে বিনিয়োগকারীদের
দেশের পুঁজিবাজারে দুই সপ্তাহ ধরে ব্যাংক খাতের শেয়ার লেনদেনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। গত সপ্তাহে ও তার আগের সপ্তাহে ব্যাংক খাতের দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ শতকোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এ সময় পুঁজিবাজারের মোট লেনদেনের ২০ শতাংশই ছিল ব্যাংক খাতের।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত সপ্তাহের তিন কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ব্যাংক খাতে ৩৭৮ কোটি ৯৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এক্ষেত্রে দৈনিক গড়ে লেনদেন হয়েছে ১২৬ কোটি ৩১ লাখ টাকার শেয়ার। এর আগের সপ্তাহের চার কার্যদিবসে ব্যাংক খাতের শেয়ার লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৫১৮ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। এ সময়ে দৈনিক গড়ে লেনদেন হয়েছিল ১২৯ কোটি ৬৯ লাখ টাকার শেয়ার। এর আগের সপ্তাহগুলোতে ব্যাংক খাতে দৈনিক গড়ে ৪৫ থেকে ৮৭ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্যাংক খাতের অনিয়ম ও খেলাপি ঋণের কারণে এ খাতের শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহে ঘাটতি ছিল। তবে গত দেড় বছরে ব্যাংক খাতের সংস্কারে নানা ধরনের পদক্ষেপের কারণে এ খাতের প্রকৃত চিত্র বের হয়ে আসতে শুরু করেছে। এতে যেসব ব্যাংক তুলনামূলক ভালো অবস্থানে আছে, সেগুলোর প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে।
গত সপ্তাহে ডিএসইএক্স সূচক আগের সপ্তাহের তুলনায় ১৬৫ দশমিক ৫৬ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৪০০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ৫ হাজার ২৩৪ পয়েন্ট। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ সপ্তাহের ব্যবধানে ৫৭ দশমিক ১০ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ৫৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ২ হাজার ২ পয়েন্ট। ডিএসইর শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস গত সপ্তাহে ২৪ দশমিক ৮৪ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৯৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ১ হাজার ৭২ পয়েন্ট।
ডিএসইতে গত সপ্তাহে মোট ৩৯০টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৩৫৩টির, কমেছে ২৯টির ও দর অপরিবর্তিত ছিল আটটির। আর লেনদেন হয়নি ২৩টির। গত সপ্তাহে সূচকের উত্থানে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে ব্র্যাক ব্যাংক, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, ন্যাশনাল ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক ও রেনাটা পিএলসির শেয়ার।
ডিএসইতে গত সপ্তাহের তিন কার্যদিবসে দৈনিক গড়ে ৬৩৮ কোটি ২৮ লাখ ৫০ হাজার টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৬৬৮ কোটি ১৭ লাখ ২০ হাজার টাকা। সে হিসাবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে এক্সচেঞ্জটির দৈনিক গড় লেনদেন কমেছে ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ।
খাতভিত্তিক লেনদেনে গত সপ্তাহে ব্যাংক খাতের শেয়ারের আধিপত্য ছিল। লেনদেনচিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনের ২০ দশমিক ১৬ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে ব্যাংক খাত। ১৫ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল বস্ত্র খাত। তৃতীয় অবস্থানে থাকা ওষুধ ও রসায়ন খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ১৫ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ। প্রকৌশল খাত ৭ দশমিক ৯৯ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তালিকার চতুর্থ অবস্থানে ছিল। আর পঞ্চম অবস্থানে থাকা সাধারণ বীমা খাতের দখলে ছিল মোট লেনদেনের ৭ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ।
ডিএসইতে গত সব খাতের শেয়ারেই ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৬ দশমিক ২৩ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে। এছাড়া বস্ত্র খাতে ৫ দশমিক ৪১, ভ্রমণ ও অবকাশ খাতে ৩ দশমিক ৫৯ এবং ব্যাংক খাতে ৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন ছিল।


