আমদানি হিস্যা ভারত ভিয়েতনাম কম্বোডিয়ার চেয়ে অনেক বেশি হলেও বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি কম
ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) ২৭টি দেশ ২০২৫ সালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ৮ হাজার ৯৯৯ কোটি ৬০ লাখ ইউরোর তৈরি পোশাক আমদানি করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আমদানি হয়েছে চীন থেকে। আমদানির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উৎস দেশ ছিল বাংলাদেশ। ২০২৫ সালে আমদানি হিস্যা বিবেচনায় তুরস্ক, ভারত, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ার মতো নিকট প্রতিযোগী দেশের চেয়ে অনেক উন্নত অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। হিস্যা ২০২৪ সালের চেয়ে ২০২৫-এ আরো বেড়েছে। তবে একই সময়ে দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশ থেকে পোশাক আমদানিতে প্রবৃদ্ধি অপেক্ষাকৃত কম।
ইউরোস্ট্যাটের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫ সালে ২০২৪-এর তুলনায় ইইউর বৈশ্বিক পোশাক আমদানি প্রবৃদ্ধি ছিল ২ দশমিক ১ শতাংশ। চীন থেকে ইইউর পোশাক আমদানি বেড়েছে ১ দশমিক ১৭ শতাংশ। বাংলাদেশ থেকে আমদানি বেড়েছে ৫ দশমিক ৯৭ শতাংশ। একই সময়ে শীর্ষ ১০ আমদানি উৎসগুলোর মধ্যে তৃতীয় দেশ তুরস্ক থেকে কমেছে। বেড়েছে ভারত, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও পাকিস্তান থেকে। এ দেশগুলো থেকে আমদানি প্রবৃদ্ধির হার বাংলাদেশের চেয়ে বেশি।
২০২৫ সালে তুরস্ক থেকে আমদানি কমেছে ১০ দশমিক ৭৩ শতাংশ। ভারত থেকে বেড়েছে ৭ দশমিক ৯৯ শতাংশ। কম্বোডিয়া থেকে ১৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ, ভিয়েতনাম থেকে ৯ দশমিক ৬৬ এবং পাকিস্তান থেকে বেড়েছে ৯ দশমিক ৬৪ শতাংশ। অর্থাৎ বাংলাদেশ থেকে ইইউ দেশগুলোর পোশাক আমদানি প্রবৃদ্ধি শীর্ষ ১০ প্রতিযোগী দেশের চেয়ে কম হয়েছে।
আমদানি প্রবৃদ্ধি প্রতিযোগী দেশগুলোর চেয়ে কম হলেও অর্থমূল্য বিবেচনায় ইইউ অঞ্চলের মোট পোশাক আমদানিতে বাংলাদেশের হিস্যা এখনো প্রতিযোগী দেশগুলোর চেয়ে অনেক বেশি। ইইউর পোশাক আমদানির মোট অর্থমূল্যে চীনের হিস্যা আগের বছরের চেয়ে কমে ২০২৫ সালে দাঁড়িয়েছে ২৯ দশমিক ৫৩ শতাংশে।
২০২৪ সালে ইইউর পোশাক আমদানিতে বাংলাদেশের হিস্যা ছিল ২০ দশমিক ৭৮ শতাংশ, যা বেড়ে ২০২৫ সালে হয়েছে ২১ দশমিক ৫৭ শতাংশ। তৃতীয় সর্বোচ্চ উৎস দেশ তুরস্ক থেকে ইইউর পোশাক আমদানির অংশ দুই অংকের ঘর থেকে কমে ২০২৫ সালে হয়েছে ৯ দশমিক ২৭ শতাংশ।
শীর্ষ ১০ উৎসের মধ্যে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে ভারত। ২০২৫ সালে দেশটি থেকে পোশাক আমদানির হিস্যা ৪ দশমিক ৫৭ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৫ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। ইইউর আমদানিতে কম্বোডিয়ার হিস্যা ২০২৫ সালে বেড়ে হয়েছে ৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ। ভিয়েতনামের হিস্যাও বেড়ে হয়েছে ৪ দশমিক ৮৬ শতাংশ। ২০২৫ সালে ইইউর পোশাক আমদানিতে পাকিস্তান, মরক্কো, শ্রীলংকা ও ইন্দোনেশিয়ার হিস্যা দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ৪ দশমিক ২৮, ৩ দশমিক শূন্য ৩, ১ দশমিক ৫১ এবং ১ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ।
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক পরিচালক মো. মহিউদ্দিন রুবেল বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ইইউর দেশগুলোতে বাংলাদেশের শেয়ার অনেক বড়। যে দেশগুলোর সঙ্গে প্রবৃদ্ধি তুলনা করা হচ্ছে সেই দেশগুলোর শেয়ার অনেক কম। এ দেশগুলোর শেয়ার কম হলেও দেশগুলো থেকে আমদানিতে প্রবৃদ্ধি সামান্য বাড়লেও শতাংশ হিসেবে তা অনেক বেশি দেখা যায়। আর বাংলাদেশ থেকে ১৮ থেকে ২০ বিলিয়ন ইউরোর পোশাক আমদানিতে ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলেও সেটার প্রভাব অনেক বেশি। বাংলাদেশ থেকে আমদানি প্রবৃদ্ধি যদি ১০ শতাংশ হতো তাহলে হয়তো গোটা বাজারই আমাদের দখলে থাকতে পারত। সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক এবং অভ্যন্তরীণ কারণে পণ্য সরবরাহ কিছুটা নড়বড়ে হয়েছে। তারপরও সামগ্রিকভাবে খুব বেশি খারাপ না। ধারণা করছি পরিস্থিতি বদলাবে। ক্রেতারা হয়তো এখন কমফোর্টেবল হবে ক্রয়াদেশ দিতে।


