মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগে এনএভি বিবেচনার পরামর্শ বিএসইসির
একটি মিউচুয়াল ফান্ডের মোট নিট সম্পদমূল্যকে ফান্ডের মোট ইউনিট সংখ্যা দিয়ে ভাগ করে প্রতিটি ইউনিটের বিপরীতে নিট সম্পদমূল্য বা এনএভি পার ইউনিট নির্ধারণ করা হয়।
মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের বাজারদর ও সংশ্লিষ্ট ফান্ডের প্রকৃত নিট সম্পদমূল্যের (এনএভি) মধ্যে অস্বাভাবিক ব্যবধান তৈরি হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে কোনো কোনো মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট সংশ্লিষ্ট ফান্ডের প্রতি ইউনিটের নিট সম্পদমূল্য বা এনএভি পার ইউনিটের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি দামে পুঁজিবাজারে লেনদেন হতে দেখা যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে বিএসইসি। গতকাল বিএসইসির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. আবুল কালামের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সতর্কবার্তা দেয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মিউচুয়াল ফান্ড একটি সুসংগঠিত ও নিয়ন্ত্রিত বিনিয়োগ মাধ্যম। এ ধরনের ফান্ডে বিভিন্ন বিনিয়োগকারীর অর্থ একত্র করে তা বিভিন্ন আর্থিক উপকরণ ও সম্পদে বিনিয়োগ করা হয়। ফান্ডের অধীনে থাকা সম্পদের বাজারমূল্যের ভিত্তিতে এর মোট সম্পদের মূল্য নির্ধারণ করা হয়। পরে ওই সম্পদের মোট মূল্য থেকে ফান্ডের দায় ও দেনা বাদ দিলে যে পরিমাণ অর্থ থাকে, সেটিই ফান্ডের নিট সম্পদমূল্য বা এনএভি।
একটি মিউচুয়াল ফান্ডের মোট নিট সম্পদমূল্যকে ফান্ডের মোট ইউনিট সংখ্যা দিয়ে ভাগ করে প্রতিটি ইউনিটের বিপরীতে নিট সম্পদমূল্য বা এনএভি পার ইউনিট নির্ধারণ করা হয়। প্রচলিত বিধিবিধান অনুসারে সংশ্লিষ্ট ফান্ডের সম্পদ ব্যবস্থাপকরা নিয়মিতভাবে এনএভি ও ফান্ড-সংক্রান্ত অন্যান্য তথ্য প্রকাশ করেন।
বিএসইসি বলছে, সম্প্রতি কোনো কোনো মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট এনএভি পার ইউনিটের তুলনায় উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে বেশি দামে লেনদেন হচ্ছে। সংস্থাটির মতে, কোনো মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের বাজারমূল্য এবং এর অন্তর্নিহিত নিট সম্পদমূল্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ও অস্বাভাবিক পার্থক্য দেখা দিলে সেখানে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।
নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি আরো জানিয়েছে, মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে ফান্ডের অন্তর্নিহিত সম্পদের মূল্য অর্থাৎ এনএভি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কোনো মিউচুয়াল ফান্ড নগদায়ন বা লিকুইডেশন করা হলে একজন ইউনিটধারীর ওই ফান্ডের নিট সম্পদমূল্যের চেয়ে বেশি অর্থ পাওয়ার সুযোগ থাকে না।
এ কারণে কোনো মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট কেনার আগে সংশ্লিষ্ট ফান্ডের সর্বশেষ প্রকাশিত এনএভি পার ইউনিটসহ অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য যাচাই করে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে বিএসইসি।
একই সঙ্গে শুধু কোনো মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের বাজারদর বেড়েছে—এমন তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বিনিয়োগ না করার পরামর্শ দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। পাশাপাশি গুজব, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্য কিংবা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্ররোচনায় প্রভাবিত হয়ে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত না নেয়ার জন্যও বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করেছে বিএসইসি।
গত দুই মাসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষ তালিকায় কিছু মিউচুয়াল ফান্ড উঠে এসেছে। ফান্ডগুলোর মধ্যে সিএপিএম আইবিবিএল ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ডের এনএভি ৯ টাকা ৭৫ পয়সা, প্রাইম ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের এনএভি ৯ টাকা, আইসিবি এএমসিএল সেকেন্ড মিউচুয়াল ফান্ডের এনএভি ৯ টাকা ১২, ফিনিক্স ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের এনএভি ৮ টাকা ৪৯, এক্সিম ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের এনএভি ৭ টাকা ৩৭ ও রিলায়েন্স ওয়ান দ্য ফার্স্ট স্কিম অব রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স মিউচুয়াল ফান্ডের এনএভি ১০ টাকা ৪৩ পয়সা।


